বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

ধর্ম কি ও কেন?

মানুষ যখন মানবিকতা হারিয়ে, পাশবিকতায় প্রবেশ করে, গভীর অন্ধকারে নিপতিত হয় তখনই বিশৃঙ্খল পরিস্থির সৃষ্টি হয়। কেবল তখনই, পথ ভ্রষ্টদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে এনে, আদর্শ সমাজ গড়ার ল্েযই ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। ধর্ম অর্থ- কর্ম। যেমন, চুম্বকের ধর্ম আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ উভয়ই। চুম্বক সমমেরুতে বিকর্ষণ এবং বিপরীত মেরুকে আকর্ষণ করে। এটা তার জন্মগত অধিকার এ জন্মগত অভ্যাস বা জন্মগত ধর্ম বা জন্মগত কর্ম।
মানুষও এমনি যেসব কর্ম করে সেটাই তার ধর্ম। যেমন সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করা, লেখাপড়া- খেলাধুলা করা, চাষ করা, নতুন নতুন আবিষ্কার করা ইত্যাদি। এই ধর্মের জন্যেই তার সৃষ্টি। যেমন- চুম্বক আকর্ষণ এবং বিকর্ষনের জন্য সৃষ্টি। যখন সে এই ধর্ম পালন করে তখনই তার জন্ম সার্থক।
অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে, কেউ ভালভাবে বাঁচতে পারে না। তার মৃত্যুই অবধারিত। যেমন- পানির জীবকে ডাঙ্গায় বসবাস করতে দিলে, সে বাঁচবে না? মানুষকে, পানির তলে বসবাস করতে দিলে বাঁচবে না। এজন্যে, কোন প্রাণীর জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কারো উচিত নয়। স্ব- স্ব অধিকার- জনিত ধর্ম বা কর্ম থেকে বঞ্চিত হলে বা দূরে থাকলে ধ্বংস অবধারিত।
বৃরাজিতে বসবাস করা এবং আকাশে বিচরণ করা, আহারের ল্েয জলে- স্থলে এসে, আহার শেষে, বৃরাজিতে চলে যাওয়াই তাদের ধর্ম বা কর্ম।  তার ধর্ম মতে-কর্ম না করে যদি আকাশ ছেড়ে, স্থলে থেকে যেতে  চায় বাচার ল্েয , পারবে কি? না পারবেনা। স্থলচরদের উর্ধ্বাকাশে  বসবাসের অধিকার নেই। যেমন স্থলচারিদের অধিকার আকাশে নেই। “গগনচরি যখন, হতে চাইবে স্থলচরি, পারবেনা থাকতে যাবে সে মরি”  প্রতি শক্তির আক্রোশে  বা আক্রমনে উভয়ই ধ্বংস হয়। তাই স্ব-স্ব জাতিগত, ধর্মগত জীবন জীবিকা পরিচালনা করতে হয় । যার যেখানে, আকাশে -পাতালে, জলে- স্থলে বৃরাজিতে চলে যেতে হয়, এটাই নিয়ম- এটাই কর্ম বা ধর্ম। ম্ব-স্ব ধর্ম মতে না চললে- তার ধ্বংস নিশ্চিত। মূলতঃ স্ব-স্ব ধর্ম-কর্মের বিপরীত হলেই তা অনাকাঙ্খিত। সকল প্রকার প্রাণী স্থলচরি- স্থলে, গগনচরি- গগনে এবং  সকল বস্তুকেই স্ব-স্ব ধর্মানুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে। কর্মই জীবন, কর্ম না থাকলে প্রাণহীন বা মৃত্যু বলা  যেতে পারে। কর্মহীনতা জীবন নয়- কর্মই জীবন। জীবন নেই, কর্ম নেই, কর্ম নেই জীবন নেই, জীবনহীন- অর্থাৎ মৃত, । যে বস্তু বা প্রাণীর কর্ম নেই তার প্রাণ নেই।  এটাই চিরন্তন সত্য।
সকল জীব এবং বস্তুর মধ্যে জীবন জীবিকার রীতি-নীতি বা ধর্ম- কর্ম রয়েছে।
তদানুযায়ী চলাই তার জন্য বাঞ্চনীয়। মৃত্তিকার ধর্ম, উৎপাদন। উৎপাদন শক্তি না থাকলে, সে মৃত্তিকা মূল্যহীন। কারণ বৃৃ ফসলাদি- ফলরাজি , উৎপাদনেই মৃত্তিকার একান্ত কর্ম। ফলজ বৃৃ ফল না দিলে সেও সাধারণত: মূল্যহীন। তবে ঘর সরঞ্জাম বা জ্বালানির জন্যে কাজে আসে। আগাছাকে বাতিল বৃ-লতা বলে ধরা হয়,অর্থাৎ প্রয়োজন বর্হিভূত। এই আগাছারও একটা ধর্ম আছে। তা হলো জ্বলন শক্তি, জ্বলন শক্তি না থাকলে নিপ্তি হয় আবর্জনার স্তুপে। তবে, একেবারে বিফলে যায় না । ময়লাতে পরিণত হয়ে, পঁচে- গলে- গ্যাসের সঞ্চার করে। তাও মানবের মঙ্গলজনক কাজে আসে বা বিপদও ডাকতে পারে। যেমন ল-কোটি বৎসরের জমাকৃত গ্যাস, পরবর্তিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি করতে পারে। মোট কথা, সকল জীব এবং বস্তুর মধ্যেই জীবন জীবিকার জন্য বা ধর্ম সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে কল্যাণ শক্তি রয়েছে। তাই আপনাপন ধর্ম- রীতি- নীতি মোতাবেক তারা কাজ করে যাচ্ছে। স্ব-স্ব- ধর্ম মতে কাজ করে যাচ্ছে বলেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ বলতে কিছুই নেই। মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত নিয়মে সকল জীব বৃ-লতা, গ্রহ, উপগ্রহ, নত্ররাজি-নিহারিকা- গ্যালাক্সি, যত সৌর মন্ডল সবই। তাই তাদের কর্ম েেত্র কোন প্রকার ব্যতিক্রম বা অনিয়ম দেখা যায় না। কারো ক পথে কেউ গমন  বা অনাধিকার প্রবেশ করছে না। স্ব-স্ব ক পথেই চলছে তো চলছে। যার কর্ম আলো বিকিরণ করা- সে তাই করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যেও সমশক্তি সম্পন্ন আকর্ষণ-বিকর্ষণ রয়েছে। কেউ-এক অন্যকে টেনে নিতে পারছেনা বা- বিকর্ষণের মাধ্যমে অন্যটিকে তার স্বীয়  ক পথ থেকে সরিয়ে দিতেও পারছে না তাই পদস্খলিত হয়ে কেউ ক চ্যুত হচ্ছে না।
উল্কার ন্যায়-গ্রহ যদি একটিও পদস্খলিত হয়, সব ধ্বংস হয়ে যাবে। 
গ্রহ-উপগ্রহ- নত্র গুলো কতইনা শান্ত। আপনাপন গতিতে স্বীয় কর্মে রত রয়েছে।
মানব শ্রেষ্ঠ প্রাণী, অথচ কতইনা বিশৃঙ্খল। আমরা রীতি -নীতি এবং ধর্ম-কর্মে কতইনা, উদাসিন । ঝগড়া, মারা-মারি, খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, জেনা, অনাধিকার চর্চা- ইত্যাদি সকল অকর্মই- আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। পশুদের মধ্যে ঝগড়া হলেও এক বা একাধিক ক্রমে মিমাংসা করে। প দ্বয়ের মধ্যে একটি নতি স্বীকার করে এবং যত তাড়াতাড়ি ঝগড়ার স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু মানুষ এক প অন্য পকে জানে-মালে ধ্বংস করা ছাড়া নতি স্বীকার করতে জানে না। জানলেও রিপুর তাড়নায় পারে না। স্বীয় অধীনে, এ রিপুকে যে রাখতে পারে সেইতো বীর। মহান স্রষ্টা আল্লাহ মানুষকে অতি আগ্রহ করে সৃষ্টি করেছেন। গ্রহ, উপগ্রহ, নিহারিকা, গ্যালাক্সি, সৌর জগৎ সবকিছু মানুষের কল্যাণের  ল্েযই সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মৎস্য যেখানে চাষ করা হয়, সেখানে যেন সুন্দরভাবে লালিত পালিত হতে পারে তার জন্য সকল ব্যবস্থা বর্তমান রেখেই মৎস্য পোনা ছেড়ে দেয়া হয়। ধরা যাক, মৎস্য পালনের জায়গা ইকুরিয়াম। ইকুরিয়ামের মধ্যে মৎস্য-খাদ্য বর্তমান রেখেই মৎস্য ছাড়া হয়। যতণ না মৎস্য চাষের উপযোগী হচ্ছে ততণ মৎস্য ছাড়া হয় না। তাই মহান স্রষ্টা আল্লাহ প্রথম মানব বসবাসের উপযোগী করেই মানব জাতিকে এ ধরা ধামে পাঠিয়েছেন। কারণ তাঁরা আল্লাহকে স্মরণ বা তাঁর ইবাদাতের মাধ্যমে জীবন যাপন করবে। তাঁর আদেশের বাইরে তারা চলবে না। তারা হবে অনুসারী অনুগামী। তারা, তাঁর হাবীব- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কথা মান্য করবে। শান্তির সুন্দর সমাজ গড়বে এবং মহান স্রষ্টার আদেশ নিষেধের আলোকে জীবন যাপন করবে। যারা তাঁকে স্মরণের মাধ্যমে জীবন- জীবিকা অর্জন করবে এ অস্থায়ী সীমিত পথ শান্তি সুখে অতিক্রম করবে। তারা স্বর্গীয় জীবনের অধিকারী। সে মানবগণ আজ কোথায়? তাঁর প্রদত্ত খাদ্যতো ভোগ করা হচ্ছে। বেতন ঠিকই নেয়া হচ্ছে কিন্তু কারখানা চলছে না। যারা বেতন ভোগ করবে কর্ম করবে না তাদেরকেই তো নিমক হারাম বলা হয়। সৃষ্টিকুলের মধ্যে মানব শ্রেষ্ঠ জীব। তাদের ধর্ম অর্থাৎ কর্ম হবে শ্রেষ্ঠ। মানবকে যে জ্ঞানের অধিকারী করেছে, অন্য পশু পাখিকে সে জ্ঞান প্রদান করা হয়নি। তাই পশুদের কোন গ্রন্থ বা মহা পশু আসেনি। যেমন মানব কুলে মহা মানবগণের আগমন ঘটে। তবে ল্য করার বিষয় হচ্ছে যে, অন্য সব জীবন জগত যেখানে জীবন-জীবিকার্জনের জ্ঞান লাভ করেছে, মানুষও সেভাবে জীবন জীবিকার্জনের জ্ঞান লাভ করেছে। কিন্তু একটি জ্ঞান অতিরিক্ত দিয়েছে, যা শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। উক্ত শ্রেষ্ঠ জ্ঞানটির কারণেই মানবকুলকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়। মানব স্রষ্টার আদরের সৃষ্টি। তাই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে। তারা তাদের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানের মাধ্যমে স্রষ্টাকে এবং স্রষ্টার সৃষ্টিকে চিনতে পারবে। বুঝতে পারবে তাদের সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে এবং দায়িত্ব সম্পর্কে? জ্ঞানটি হচ্ছে আগুন, পানি, মাটি, বাতাস, আলো, মাটির গভীরে লুকানো তৈল, গ্যাস, সোনা, রৌপ্য, পিতল, দস্তা, হিরা, মুক্তা, পেট্রোল, ডিজেল, পাথর, চুনা পাথর, কয়লা, সিমেন্ট, বালি ইত্যাদি স্রষ্টা প্রদত্ত নিয়ামত পশু পাখি, বৃলতা মোট কথা সব সৃষ্টকে বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানবই ভোগ করতে পারে। অন্যরা তা পারে না। তাই তাদের হিসেব নেই, প্রশ্নোত্তর নেই। মানুষের আছে কারণ মানব সর্বভোগি।  যদিও মানবের জন্য সব সৃষ্টি, তারা সরাসরি পশু পাখিদের ন্যায় ভোগ করতে পারবে না। তাদেরকে বিবেক বুদ্ধির দ্বারা স্বীয় হস্তে মুখরোচক খানা তৈরি করে খেতে হবে। কিন্তু পশুরা উৎপাদন করতে অর্থাৎ খানা তৈরি করে খেতে পারে না। মানুষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহান স্রষ্টার সৃষ্ট সব কিছুই ভোগ করে থাকে। মানুষকে সব ভোগের মতা কেন দেয়া হলো? দেয়া হলো এ জন্য যে, তারা স্রষ্টার ইবাদাত করবে। ইবাদাত কিভাবে করবে? নীতি নিয়ম কি? ইবাদাত কাকে বলে? কি কি কর্ম কিভাবে করলে ইবাদত হবে? পূর্বেই তা বলা হয়েছে।
ইবাদাতের পথ নির্দেশনা প্রদানের ল্েযই মহামানবগণের আগমন ঘটেছে। তাদের মাধ্যমে যে সকল গ্রন্থ মানবকুলে এসেছে, তাতেই ভোগের নীতি নিয়ম প্রদত্ত হয়েছে। মহাগ্রন্থে প্রদত্ত নীতি নিয়মানুযায়ী ভোগ করলে এবং মানবতা রা করলে সমাজকে কলুষ- মুক্ত রেখেই সুন্দর শান্তি সুখের সমাজ গঠন এবং স্রষ্টা প্রদত্ত দানগুলো ভোগের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ল্েয দৈনিক পাঁচ বার নামাজের মাধ্যমে মালিকের সামনে উপস্থিতিকে পূর্ণ ইবাদত বলা হয়। অন্য কথায় ইসলামের মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কর্তৃক আনীত যে মহাগ্রন্থ আল ক্বোরআন এবং হাদীস, তার আলোকে জীবন যাপন করার নামই ইবাদাত।