বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

রাতের আলো

নবীপাক (সাঃ) এর সেবা কর্মে খুশি হয়েছিলো আরবেরা। তাই আরব বিশ্বে এবং তার বাইরেও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিলো। বর্তমানে তেমন কোন ইসলামী সংগঠন পরিলতি হচ্ছেনা। কিছু থাকলেও মানব সেবামূলক নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এগুলোর মূল ল্য হচ্ছে অর্থোপার্জন। সেবার কাজ হচ্ছে শতকরা দশ ভাগ। সম্মানিত বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কিরাম এবং মুমিন বুদ্ধিজীবিগণের প্রতি আল্লাহ এবং রাসূল (সাঃ) প্রদত্ত দায়িত্বের প্রতি বিশেষ সচেতনতা অবলম্বনের জন্য প্রার্থনা রইল। সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ আপনারা জানেন, সূরা মাউনের মধ্যে বলা হয়েছে, সে সকল নামাজীদের দুর্ভোগ যারা এতীম, মিসকিনের সাথে দুর্ব্যবহার করে  এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে।  উক্ত বাণীতে বুঝানো যাচ্ছে  যে, যারা নামাজ পড়ে অথচ মন্দ কর্মও করে ।  যারা ভালো কর্ম অর্থাৎ সেবা মুলক কর্ম করেনা তারা নবীপাক (সাঃ) এর ন্যায় সমাজ সেবক হতে পারে না। সুতরাং আপনাদেরকে নবীপাক (সাঃ) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে । কি কি কর্ম করলে অনুকরণ-অনুসরণ করা হবে, তা আপনারা ভালোই  জানেন। এখনও যদি সজাগ না হন, একতা , রা না করেন এবং ত্যাগ স্বীকার  না করেন তবে ইসলামের অগ্রগতি ব্যাহত হবে।
দেখা যাচ্ছে যে, ওলামায়ে কেরামগণের মধ্যে বিরোধের দেয়াল গড়ে উঠেছে। ক্বোরআন এবং হাদীস শরীফ যথার্থভাবে অনুসরণ-অনুকরণ হচ্ছে না। তাই ইসলামের তরী অগ্রে না গিয়ে পেছনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
ধর্ম বিষয়ে কমাভিজ্ঞ হয়েও বেশী অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে গিয়ে, স্থান-কাল-  পাত্র বিচার- না করে -যা মুখে আসে প্রকাশ করে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের নিকট বোকা বনে যাচ্ছেন অনেক আলেম। বিষয়টি মাথায় রেখেই যে কোন পদপে নেয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ধর্মীয় বিষয়ে কমাভিজ্ঞ ব্যক্তি নিজেকে বুদ্ধিমান বলে পরিচয় দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজকে বিপদগামী করে ফেলছে। তাই ধর্মের-মানবতার- জাতির- ব্যক্তির- সমাজের অগ্রগতি না হয়ে, শান্তির তরীটি হাওয়ার স্পর্শে পাগলা জলের ঢেউ তরঙ্গে হাবডুবু খাচ্ছে। এমনি দুর্যোগ অবস্থায় মাঝি-মাল্লা-সতর্ক না হলে, শান্তিতরীটি অশান্তাবস্থায় অচিরেই তলিয়ে যেতে পারে। যাত্রীগণকে, সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সাবধানতার রশিকে শক্ত হাতে ধরতে হবে। নবীপাক (সাঃ) এর জীবনটাই সমাজের সাথে স¯পৃক্ত ছিলো। সামাজিক কর্ম কান্ডে পুরোপুরি ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। ব্যক্তি এবং সমাজকে তথা মানব জাতিকে পথ নির্দেশনা প্রদানের ল্েযইতো মহামানবগণের আগমন ঘটে। একবার এক ব্যক্তি এসে নবীপাক (সাঃ) কে, জিজ্ঞেস করলো-ইয়া-রাসূলাল্লাহ্ আমি অর্থনৈতিক ভাবে বিশেষ কষ্টে আছি. আমি এখন কি করবো? আমাকে সু-পরামর্শ দানে যেন হুজুরের মর্জি হয়। নবীপাক (সাঃ) বললেন, তোমার ঘরে এমন কোন কিছু আছে কি? যা বিক্রি করলে তোমার বিশেষ কোন তি হবেনা। উক্ত ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এমন কিছুই নেই, তবে একটি কম্বল আছে, যা বিক্রি করলে তেমন কোন প্রকার সমস্যা হবেনা। তিনি কম্বলটি নিয়ে আসতে বললেন। তা নিয়ে এলে নবীপাক (সাঃ) তার কম্বলটি বিক্রি করে, সেই অর্থ দ্বারা কাঠ কাটার একখানা কুড়াল ক্রয় করে ,উক্ত ব্যক্তির হাতে তুলে দিলেন এবং বললেন, যাও এদিয়ে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো, আল্লাহর রহমতে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।তখন থেকে লোকটির জীবনের উন্নতির চাকা অনুকূলে ঘুরে গেলো। এটি নবীপাক (সাঃ) এর সমাজ সেবার, জলস্ত দৃষ্টন্ত নয় কি? ব্যক্তি সুখি হলে সমাজ সুখি, সমাজ সুখি হলে, রাষ্ট্র সুখি। সমাজ উন্নয়নের প্রতি বিশেষ ইংগিত্ বহন করছে এ ঘটনা। যে সমাজ অভাব মুক্ত, সে সমাজ শান্তির সমাজ। যদি ধর্মীয় আলোকে সমাজ গঠিত হয়, তবেইতো ধর্মের স্বার্থকতা। সার্বিক মুক্তির ল্েযইতো ধর্মের আগমন ঘটে। ধর্মের আলোকে সমাজ গঠন হলেই অভাব থাকবেনা। ধর্মীয় রীতি নীতি থেকে যে সমাজ দূরে অবস্থান করে, সে সমাজ অমানিশার অন্ধকারে তলিয়ে যায়।