বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

আদর্শ ব্যক্তি

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন মানব কুলে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্র্শের অধিকারী। আদর্শ সমাজ গড়ার ল্েয ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। সমাজের ছোট বড় বালক বৃদ্ধ সকলের প্রতি সুন্দর ব্যবহার করতেন। বাচ্চাদের আনন্দ উৎসবে বাধা দিতেন না। একদা ঈদের নামাজ পড়ে যখন নবী পাক (সাঃ) খাসমহলে প্রবেশ করতে ছিলেন , তখন পার্শ্বে ছেলে-মেয়েরা ঈদের আনন্দে নাচ এবং গানের মাধ্যমে আনন্দোৎসব করতে ছিলো। তখন জনৈক সাহাবী বাচ্চাদেরকে নাচ-গান,খেলা-ধুলা, করতে বারণ করলে নবী পাক (সাঃ) মনে কষ্ট পান। তিনি বললেন বাচ্চাদের খেলা-ধুলা নাচ এবং গানইতো ঈদ বা উৎসব। তিনি লেখা পড়ার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। সমাজে কোন প্রকার সমস্যা দেখা দিলে সমষ্টিগত ভাবে তা সমাধানের ব্যবস্থা করতেন। সাধারণতঃ উনার আগে-ছোট-বড় কেউই সালাম প্রদান করতে পারতোনা। ছেলেরা নবীপাক (সাঃ) এর চলার পথে আড়ালে প্রথম সালাম দেয়ার ল্েয দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু নবীপাক (সাঃ) এতো সর্তক ছিলেন যে, আড়ালে থেকেও সালাম প্রথম দিতে পারতো না কেউ। কারণ নবীপাক (সাঃ) বলেছিলেন, যে প্রথম সালাম দেবে সেই বড় এবং সালামের র্বক্বত লাভের কথাও বলেছিলেন। তাই সালাম দেয়াটা প্রতিযোগিতার মতো হয়ে ওঠে। নবীপাক (সাঃ) কখনও কারো সাথে মন্দ ব্যবহার করেননি। কোন এক সময় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোন এক লোক থেকে টাকা ধার নেয়া হয়েছিলো।ধার প্রদানকারী নির্দিষ্ট সময়ের আগের দিন এসে একটু রাগান্বিত ভাবে বললো আমি আমার টাকার জন্য এসেছি টাকা দিন। নবীপাক (সাঃ) বললেন টাকা দেয়ার তারিখতো আগামী দিন, আজ কেন এলে ? এখন যাও, আগামীদিন এসো। লোকটি চলে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হজরত ওমর ফারুক্ব (রাঃ) বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্, এ লোকটি বড় বে-আদব তাকে একটু শিা দিয়ে দেব কি? নবীপাক (সাঃ) বললেন না-না, সে পাবে বলেই এসেছে, পাবে বলেইতো বলেছে। শান্তভাবে বলুক আর অশান্ত ভাবে বলুক, বলার তার অধিকার আছে। নবীপাক (সাঃ) কখনও অন্যায় ভাবে কারো ওপর রাগ করেননি। সব সময় শান্ত মেজাজের ছিলেন। মক্কা বিজয় হলেও, মক্কাবাসির ওপর প্রতিশোধ নেননি যারা অত্যাচার করেছিলো নামাজ পড়াবস্থায় উটের পাকস্থলী গলে ঝুলিয়ে টেনে ছিল, বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছিলো। আবু ছুফিয়ানের বিবি,হানজালা, তখনও ইসলামে দীতি হননি। এমতাবস্থায়, নবীপাক (সাঃ) এর চাচা হামজা (রাঃ) এর, কলিজা চিবিয়ে খেয়েছিলো। যাদের অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়ে আল্লাহর হুকুমে মক্কা ত্যাগ বা হিজরত করতে হয়েছিলো। তারা সবই ভেবে ছিলো যে, আমাদের আর রে নেই। কিন্তু না, নবীপাক (সাঃ) তা করেননি। কারণ তিনিই পৃথিবীর, অর্থাৎ বিশ্ববাসির জন্য আল্লাহর রহমত, অর্থাৎ রাহ্ মাতুল্লিল আলামীন। তিনি প্রতিশোধ নিতে পারেন না। মক্কা বিজয়ের পর , নবীপাক (সাঃ) বললেন হে মক্কা বাসিগণ আপনারা মুক্ত; ভয়ের কোন কারণ নেই। নবী পাক (সাঃ) এর প থেকে ঘোষিত বাণীতে মক্কাবাসিগণ আনন্দে আত্মহারা। তখনই দলে-দলে এসে আনন্দে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো এবং অল্প সময়ের মধ্যে সারা আরব ভূমিতে ইসলাম ছড়িয়ে পড়লো। এটাই নবীপাক (সাঃ) এর আর্দশেরই ফল। তায়েফ বাসিদের বলা হয়েছিলো একক্ সৃষ্টি কর্তার অর্থাৎ আল্লাহর উপাসনা করতে কিন্তু তায়েফ বাসিরা তার বিনিময়ে নবীপাক (সাঃ) এর ওপর ইট-পাথর নিপে করে রক্তে শরীর ,জমিন লালে-লাল করে দিয়েছিলো। তখন আল্লাহর দূত জিব্রাইল (আঃ) এসে বললেন, আপনার আদেশক্রমে দু-দিকের পাহাড় এনে তায়েফ বাসিদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চাই। তখন নবীপাক (সাঃ) বললেন, না-না তা হয় না। তারা আমার সম্পর্কে বুঝতে পারেনি। তাদের মাটির সাথে লীন করে দিলে, আমি আমার দোস্তের দ্বীনের দাওয়াত কাকে দেবো ? আমি তাদেরকে মা করে দিলাম। এ বাণী বা উক্তি কার কাছ থেকে আশা করা যায় ? তাঁর নিকট থেকেই আশা করা যায়, যিনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের এবং আদর্শের অধিকারী। তাঁর জীবনে এমনই অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। সর্ব শ্রেষ্ঠ ধৈর্য্য - সহ্যের অধিকারী যিনি তিনিই নবীপাক (সাঃ)।তাঁর আদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছিলো সারা বিশ্ব এবং অতি অল্প সময়ে এক বিশাল আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র গঠনে সম হয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গি-সাথী অর্থাৎ সাহাবাগণও তাঁর আদর্শে আদর্শবান হয়ে ইসলামী বিশ্ব শাসন করে গিয়েছেন।আজ সেই নবীপাক (সাঃ) এর আদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তির অভাবই পরিলতি হচ্ছে। একে অন্যকে আনন্দ বা শান্তি দান করা, সালাম প্রদান করা ইবাদাত এবং সেবামূলক কর্ম ও বটে। নবীপাক (সাঃ) সর্ব প্রথম সালাম প্রদান করে এটাই বুঝিয়েছেন যে, তোমরা সর্ব প্রথম সালাম প্রদান করো। অর্থাৎ তার মঙ্গল কামনা করো। দেখবে অন্যরাও তোমার মঙ্গল কামনা এবং সম্মান প্রদর্শন করছে। এ সকল শিা থেকে আমরা বঞ্চিত কারণ আমাদের পরিচালকগণের মধ্যে এধরণের সুন্দর আদর্শগত ইবাদাত পরিলতি হচ্ছেনা। আমাদের সাধারণের মধ্যে যেমন পূর্ণ মাত্রায় রয়েছে লোভ-অহঙ্কার ,হিংসা -বিদ্বেষ -মোহ এবং কুপ্রবৃত্তি ইত্যাদি; তেমনি অর্থাৎ ইসলামের বাহক যাঁরা তাঁদের অধিকাংশের মধ্যেও তা বিরাজমান।