বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

মুসলমান মন্দ কর্ম করতে পারে না কেন

কোন মুসলমান মন্দ কর্ম করতে পারেনা এ জন্যে যে, তারা দৈনিক পাঁচ বার ওজু করতঃ পবিত্রতা গ্রহণান্তে আল্লাহর সাাতে দাঁড়িয়ে যায় এবং নিয়মানুযায়ী রুকূ-সেজদায় তার প্রশংসা বর্ণনান্তে দু-হাত উত্তোলনের মাধ্যমে আবেদন করেন। আল্লাহ সে আবেদনানুযায়ী ফলাফলও প্রদান করে থাকেন।
বাণীগুলো হচ্ছে ঃ বিসমিল্লাহিল আলীইল আজীমি- ওয়াল্ হামদুলিল্লাহি আলা দ্বীনিল ইসলামি- আল ইসলামু হাক্কুনÑ ওয়াল কুফরু বাতিলুন, আল ইসলামু নূরুন, ওয়াল কুফরু জুলমাহ্।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শুরু এবং ইসলামের নীতি নিয়মানুযায়ী সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে। ইসলাম সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং পথভ্রষ্টদের পথ বাতিল। ইসলাম আলোকময়, ইসলাম একটি শান্তিময় আলোর নাম এবং ভ্রষ্টদের পথ অন্ধকারময়।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শুরু- এ বাক্যটি উচ্চারণের উদ্দেশ্য হলো আমার মালিক স্রষ্টা পরম পবিত্র। সুতরাং আমিও নির্ভুল পবিত্র হতে চাই। ইসলামের নীতি নিয়মানুযায়ী সকল প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য এবং আমি আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করবো। নীতি বহির্ভূত প্রশংসা আল্লাহ পছন্দ করেন না। বলা হয়েছে ঃ ফাওয়াই লুল্লিল মুসাল্লিন; অর্থাৎ সে সকল নামাজিদের দুর্ভোগ। অর্থাৎ নীতি বহির্ভুত নামাজ পড়লেও তাকে সাজা ভোগ করতে হবে আমি আলোকিত হবো এবং আলোতে মিশে যাবো। এবং কুফরুনÑ অন্ধকারাচ্ছন্ন ভ্রষ্টদের পথ সম্পূর্ণভাবে চিরতরে পরিহার করবো। মহান দরবারে হাজির হয়ে দৈনিক পাঁচ বার উক্ত বাণীগুলো উচ্চারণের মাধ্যমে পবিত্রতা গ্রহণ করা হয়। যে দৈনিক পাঁচবার মালিকের সামনে উক্ত বাক্যগুলো উচ্চারণ করবে, তার পে পাপ করা কি সম্ভব? হ্যাঁ ভুল হতে পারে, কারণ আজাজিল শয়তানতো ভুল করানোর জন্যেই  পেছনে লেগে আছে। তাই “আউজু বিল্লাহিমি নাশশাইতা নিররাযীম” উচ্চারণের মাধ্যমে শয়তান হতে মহান আল্লাহর আশ্রয় কামনা করতে হয়। করুণাময় আল্লাহ মাকারী এবং রাকারী। সুতরাং একজন মুসলমানের পাপ করার সুযোগ কম।
একজন মুসলমান যখন ক্বোরআন শরীফ পাঠ করতে বসে প্রথমে সে “আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতা নিররাযীম” পাঠ করে। উক্ত বাক্যটি পাঠ করার উদ্দেশ্য হলো শয়তানের শয়তানী কর্মকাণ্ড থেকে মহান আল্লাহর আশ্রয় কামনা করা। যেন সে শয়তানের প্রভাব মুক্ত থাকে, শয়তান কর্তৃক প্রভাবিত না হয়। উক্ত বাক্য, কায়মনো বাক্যে আবৃত্তির দ্বারা যদি একজন লোক শয়তানের অশুভ কর্মকাণ্ডের প্রভাবমুক্ত হয়, সে ব্যক্তিটি সমাজের মধ্যে একটা অলঙ্কার হয়ে উঠে। সে সমাজের মধ্যে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সুতরাং তার অনুকরণে গোটা সমাজই আলোকিত হতে পারে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের প্রভাবে সমাজকে প্রভাবিত করতে হলে সংগঠনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে হবে। এক একজন করে যদি সমাজে আলোকিত হয়ে ওঠে তবে গোটা সমাজই আলোকিত হয়ে যাবে। তখন মন্দ কাজ করার লোক আর থাকবে না। তখন সমাজটাই স্বর্গীয় সুখানুভব করবে। একটা মুমীন মুসলমান যেখানে থাকে সেখানে মন্দ থাকতে পারে না। সে তার সুন্দর ব্যবহার দিয়ে সমাজকে জয় করতে পারে। একজন মুসলমানের দেহ মন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত তাই তার দ্বারা মন্দ কর্ম হতে পারে না। নবীপাক (সাঃ) এর একটি ঘটনার কথা মনে পড়লো। একদা এক ব্যক্তি নবীপাক (সাঃ) এর নিকট এসে বললো “ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমি আমার চুরির অভ্যাস পরিহার করতে পারছি না। কি করলে তা পরিহার করা যাবে?” নবী পাক (সাঃ) বললেন, “তুমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে”। তখন লোকটি বললোÑ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ) আমি সব করতে পারবো কিন্তু চুরি বন্ধ করতে পারবো না। নবী পাক (সাঃ) বললেন, ঠিক আছে তুমি দৈনিক একবার আমার সাথে দেখা করবে এবং সত্য কথা বলবে। লোকটি সে দিন চলে গেলো কিন্তু সে নবী পাক (সাঃ) এর সাথে নিয়মিত এসে দেখা করে যেতো। একদা চুরির নেশা হলে লোকটি চুরি করতে যায়। তখন নবী পাক (সাঃ) এর কথা মনে পড়লে ভাবলো যে আগামী দিন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর নিকট যখন দেখা করতে যাবো তখন কিভাবে বলবো যে ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি চুরি করেছি। এমন সত্য কথা সে বলতে পারবে না। তখন তার  বিবেক বাধা দিলো। সে ভেবে চিন্তে স্থির করলো সে চুরি করেছে এ সত্য  কথা বলতে পারবে না। মিথ্যেও বলা সম্ভব হবে না। অবশেষে সে চুরি কর্ম ছেড়ে দিলো। মুমীন মুসলমানগণ মহান আল্লাহর দরবারে দৈনিক পাঁচবার প্রতিজ্ঞা করে সত্য রা করবে, মিথ্যে পরিহার করবে। সুতরাং তাদের দ্বারা মন্দ কর্ম করা মোটেই সম্ভব নয়। তারা ধর্মের উপদেশগুলোতে প্রভাবিত হয়ে পবিত্র হয়ে যায়। বর্তমানে প্রকৃত মুমীনগণ যেন ঘুমোচ্ছে। তাই ইসলামী তরীর, পাল- বৈঠা উল্টো বলে পরিলতি হচ্ছে।