বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

শিশু নবীর সেবাকর্ম

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। কোন ব্যক্তির নামানুসারে এ ধর্মের নামকরণ করা হয়নি। যেমন ঈসা (আঃ) এর নামানুসারে ইসায়ী ধর্ম বলা হয় এবং বুদ্ধের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে বৌদ্ধের ধর্ম বা বৌদ্ধ ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নাম শান্তি, কর্মও শান্তির। এ ধর্মানুসারিগণ অন্যায়- অত্যাচার অনধিকার চর্চা কখনও পছন্দ করে না। এ ধর্মের মহাগ্রন্থের নাম হচ্ছে ‘আল কোরআন”। এ মহাগ্রন্থটি শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। স্রষ্টার সৃষ্টকূলের ল্েয এ গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে। সৃষ্টির সেবা হচ্ছে এ ধর্মের বিশেষ উপাসনা অর্থাৎ ইবাদাতগুলোর মধ্যে একটি। সৃষ্টির সেবাই এ ধর্মের মূল ল্য। বিশ্ব মানবকূল যখন মানবীয় দায়িত্ববোধ হারিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, তখনই গোম্রাহদেরকে আলোর পথ প্রদর্শনের জন্যেই মহামানবদের আগমন ঘটেছে এ বিশ্বে। তেমনি গভীর অন্ধকার যুগে, মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ আহমাদ (সাঃ) পৃথিবীতে আগমন করেন।
নবীপাক (সাঃ) এর প্রথম সেবা কর্ম প্রকাশ পায় যখন মাতা হালীমা (রাঃ)’র দুগ্ধ পানে রত হন।  মাতা হালীমা (রাঃ) কয়েক বার ল্য করেছেন যে, নবী পাক (সাঃ) বাম পার্শ্বের দুগ্ধ পান করেন না। মাতা হালীমা (রাঃ) একাধিকবার চেষ্টা করেও বিফল হলেন। যত দিন দুধ পান করানোর নিয়ম ছিলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটি বারের জন্যও  নবীপাক (সাঃ) বাম পার্শ্বের দুগ্ধ স্পর্শ করেননি। মা হালীমা (রাঃ) চিন্তার পর বুঝতে পারলেন, মুহাম্মদ (সাঃ) বাম পার্শ্বে দুগ্ধ কেন পান করেননি। মা হালীমা (রাঃ)’র স্বীয় গর্ভজাত একটি সন্তান ছিলো। শিশু নবীপাক (সাঃ) উক্ত দুধভাইটির জন্য বাম পার্শ্বের স্তনটি রেখে দিতেন। এটি মানব সেবার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। দুগ্ধপোষ্য শিশু নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মর্ত্যে পদার্পণ লগ্ন থেকেই মানব সেবার নজির স্থাপন করলেন। আমি খাবো- তুমি খাবে না, তা হবে না- তা হবে না। আমরা কি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করি? তাঁর পদাঙ্ক থেকে অনেক দূর, দূর থেকে দূরান্তরে, রেখেছি নিজেকে সরিয়ে। পথহারা, মোরা পথিক বর। হয়ে দিশেহারা, চলছি মরুর চর।