বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৩

মুক্ত সঙ্কেত

যে সঙ্কেতে পরাধিনতা নেই, কলুষ-কালিমা নেই সে-ই-তো মুক্ত সঙ্কেত। যেমন মহাসঙ্কেত আল্লাহু আকবার ধ্বনি, অর্থাৎ আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। শুভ কর্মের প্রারম্ভেই আল্লাহ্ শব্দ উচ্চারণের কথা বলা হয়েছে। যে শব্দকে মহান স্রষ্টা “আল্লাহ” সরাসরি কালামে পাক পাঠের পূর্বে উচ্চারণ করার জন্য নবীপাক (সাঃ) কে আদেশ করেছেন। বাক্যটি হলো ইক্রা-বিসমি-রাব্বিকাল্লাজী খালাক্ব। অর্থাৎ পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃস্টি করেছেন।
পাঠ করুন। অর্থাৎ পড়–ন ! কি পড়বেন? কিভাবে পড়বেন ? প্রদত্ত আয়াতে রয়েছে পড়তে হলে, প্রথম তাঁর নাম উচ্চারণ করুন্! যিনি সৃষ্টি করছেন। এখন চিন্তার বিষয় হচ্ছে পালনকর্তার নাম কি? উদ্ধৃত বাণীতে তাঁর নাম মোবারক পরিলতি হচ্ছেনা। নবী কিন্তু লেখা পড়াও জানতেন না। সৃষ্টিকর্তার নাম তিনি কিভাবে জানবেন? জিব্রাইল (আঃ) বাক্যের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার নাম যুক্ত  করেননি। ভাববার বিষয়! নাম কোথায় পাবেন এবং  কিভাবে পড়বেন,  তিনি যে নিরার। প্রতীয়মান হয় তিলাওয়াতের পূর্বে তাঁর নাম মহান আল্লাহ নিজেই শিা দিয়েছেন মহানবীকে। তাই নবীপাক (সাঃ) প্রথম সৃষ্টিকর্তার নাম অর্থাৎ বিসমিল্লাহ্ পড়ার পর, “ইক্বরা”  পড়েছিলেন। সুতরাং আল্লাহর বাণী নাজিলের প্রারম্ভে পৃৃথিবীতে প্রথম বিসমিল্লাহ্ এসেছে । “ইক্বরা” শব্দটি নয় । নবী পাক (সাঃ)তাই, প্রথম আল্লাহর নামে পড়া শুরু করেন । এভাবে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠের পর “ইক্বরা” প্রতিধ্বনি মূলক শব্দ থেকে পড়েন । তাই পবিত্র ক্বোরআনের ১১৩ সূরাই আল্লার নামে শুরু করা হয়েছে। “বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহীম” এর অর্থ হল দয়াল-দাতা  করুণাময়, আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। এজন্যেই মুমিনগণ প্রত্যেক শুভ কাজ “ বিসমিল্লাহিররাহ্ মা নিররাহীম”দ্বারা শুরু করেন। এর মধ্যে রয়েছে রহমত ও বরক্বত। যেখানে রহমত-বরক্বত রয়েছে, সেখানে সব বিপদ মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। যেখানে বরক্বত-রহমতের কামনা সেখানে অবৈধ অন্যায় বাক্য ব্যবহার চলবেনা। উক্ত বাক্যের উছিলায় ব্যক্তি পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং এই বাক্যটি সেবা মূলক নয় কি?  “ বিসমল্লিাহিররাহ্  মানিররাহীম” বাক্যটিই ইসলামের  মূল ভিত্তি। বাক্যটি যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে কলুষ- কালিমা  থাকতে পারেনা। বাক্য ব্যবহারকারী ব্যক্তিটিও পবিত্র হয়ে গেলো। লোক পবিত্র হলেই কর্ম পবিত্র, কর্ম  পবিত্র হলেই সমাজ পবিত্র। আল ক্বোরআনের, আলোকে  আলোকিত প্রতিটি ব্যক্তিই সমাজের সম্পদস্বরূপ । যা কল্যাণ মুলক তা, সেবামূলকও। পবিত্র ক্বোরআন শরীফকে সেবক গ্রন্থই বলা যায়। ক্বোরাআন শরীফের প্রথম বাক্যে বর্ণিত আছে, “ জালিকাল কিতাবু লা  রাইবা ফিহ্” অর্থাৎ এ গ্রন্থে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। এ গ্রন্থে রয়েছে আদেশ “ আকীমুস সালাতা ওয়া আতুজ্জাকাতা” অর্থাৎ নামাজ ক্বায়েম করো এবং জাকাত দাও।এর মাধ্যমে স্রষ্টার যত প্রকার দান, মানবগণ ভোগ করবে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশিত হবে। যারা মালিকের অনুদানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ল্েয, দৈনিক পাঁচবার মালিকের সামনে উপস্থিত হবে , তাদের দ্বারা আন্যায় অত্যাচার  করা  সম্ভব হয় না । ক্বোরাআন শরীফের অন্য এক জাগায় বলা হয়েছে “ ইন্নাছ-ছালাতা-তান্হা আনিল-ফাহ্শা-ই” অর্থাৎ নিশ্চয়ই নামাজ মন্দকর্ম থেকে মুক্ত রাখে। বাক্যটিতে এটাই বুঝানো হচ্ছে যে,  মালিকের অনুদানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীর প,ে পাপ কর্ম করা সম্ভব নয়।  কারণ সে দৈনিক পাঁচবার মালিকের সাথে দেখা করে তাই তার পে অবৈধ কর্ম সম্ভব হয়না। এ সকল  কথা সত্য নয় কী ? এভাবে যদি সমাজে পাপমুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেশী হয়,  তবেই সমাজ  আলোকিত হবে। সুতরাং আল ক্বোরআন নামক মহা পবিত্র গ্রন্থটি, সমাজ সেবা মূলক গ্রন্থ।  এ গ্রন্থের প্রতিটি বাণীই সত্য এতে কোন সন্দেহ নেই। আদেশ এবং নিষেধ মূলক বাক্য গুলো অলংঘণীয়-  অর্থাৎ লংঘন করলে সাজার কথা বলা হয়েছে। সাজার কথা বলা হয়েছে মানুষকে পাপ মুক্ত রেখে স্বর্গীয় করার ল্েয । উপো করলে বিনিময় তো নিতেই হবে। এ সীমিত সময়ের জীবনটিকে পাপ মুক্তাবস্থায় অতিক্রম করার জন্যেই দেহ-মন -চোখ-হাত-পা- নাসিকা  এবং ত্বক দান করছেন। বার বার বলা  হয়েছে  মন্দ কর্ম থেকে বিরত থাকো। যারা বিরত থাকবে তাদের জন্য উপহার উপঢৌকন স্বরূপ চির সুখাবাস- জান্নাত বরাদ্দ রয়েছে। যেখানে অতুলনীয় সুন্দরী হুর নামক রমণী রয়েছে এবং রয়েছে অতুল মিষ্টি সুন্দর -ফল- ফুলে ভরা বৃরাজি। রয়েছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য লোক, তৃষ্ণা-তৃপ্তি মেটানো মিষ্টি মধুর হাউজে কাওছার নামক  স-ুমধুুর মিষ্টি পানির বহমান স্রোত ধারা। অশরীরী শয়তান, বিশেষ মতা প্রাপ্ত কু-শক্তির নাম। সে-নফস- খায়েশে প্রবেশ করে এবং মানুষকে বিপদগামী করে। তার প্রলোভনে প্রলুব্ধ  হয়ে, পদস্খলিত হয়ে অনেকে জাহান্নামে প্রবেশ করে।  সে জন্যে আমরা প্রার্থনা করি হে আমার প্রতি পালক, আমাকে এ দুনিয়ার এবং পরকালের মঙ্গল দান করো এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দাও। অন্যত্র বলা হয়েছে  তোমরা প্রতিটি ভালো কর্মের প্রথমে শুরু করো দয়ালু দাতা করুনাময় আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ,আমাকে মা করো” এবং দয়া করো। আল্লাহর ওয়াদা মা প্রার্থনাকারীকে আল্লাহ মার চোখে দেখবেন। যদি আল্লাহর সাথে কাকেও শরীক না করা হয়,উক্ত বাণী গুলো ব্যক্তি এবং সমাজকে- কলুষ মুক্ত করে শান্তির ফয়সালা এনে দেবে ?  সুতরাং পরিলতি হচ্ছে যে, আল-ক্বোরআনের বাণীগুলো তথা সমস্ত ক্বোর-আন শরীফই সেবক গ্রন্থ। উক্ত বাণী প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে কলঙ্ক মুক্ত করেন।  সূরা আল- ফাাতিহাকে বলা হয় “উম্মুল ক্বোর-আন ” অর্থাৎ ক্বোর-আন শরীফের জননী। সূরা- আল-ফাতিহা হচ্ছে ক্বোর-আন -হাদীস- ফিক্বাহ- উছুল- ইজমা- ক্বিয়াস- শরীয়ত- তরীক্বত-হাক্বীক্বাত-এবং মারিফাত ইত্যাদি , ইসলামী ব্যবস্থার মূল বিষয় বা ভিত্তি। এ- সূরাটিকে ফাতিহাতুল কিতাবও বলা যেতে পারে। উক্ত নামাজিগণ দৈনিক কমের পে ৩২ বার আল্লাহর দরবারে দাড়িয়ে এ সুরা পাঠ করে থাকেন। দয়ালু দাতা করুনাময় মহান আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনার পর একটি বাক্য উচ্চারণ করেন ঃ ইয়্যা কা-না বুদু ওয়া ইয়্যা কানাস্তাঈন  অর্থাৎ আমি তোমার ইবাদত করি। ইবাদাত কাকে বলে? আমাকে সর্বপ্রথম তা বুঝতে হবে। যাকে লালন পালন করা হয়, সে কি ঠিক ভাবে লালিত পালিত হচ্ছে?   এতীম মেসকীনকে দেখা শুনার দায়িত্ব পালিত হচ্ছে কি? দুর্বলে- সবলে সাহায্য- সহযোগিতা হচ্ছে কি? রোগাক্রান্তদের এবং পড়শীদের খবরা -খবর রাখা হচ্ছে কি? স্ত্র্রী -পুত্র- সন্তান- সন্ততীর নীতি সম্মত অধিকার দেয়া হচ্ছে কি? নিরাশ্র্রয়কে আশ্রয়, অসহায়কে- সহায় দেয়া হচ্ছে কি?  প্রকৃত যাকাত প্রাপ্যদেরকে যাকাত দেয়া হচ্ছে কি? কারো অধিকার হরণ করা হয়েছে কি না? হলে সমাধানের চেষ্টা করেছেন কিনা? অজ্ঞানকে জ্ঞান দান করা ুধার্তকে আহার দান করা হচ্ছে কি? এগুলিকে  ইবাদাত বলা হয়। এসব কর্ম নামাজের পূর্বে সম্পাদন করা হয়েছি কি ? নামাজের পূর্বে নামাজি তা ভেবেছেন কি ? তা-না ভাবলে বা উক্ত কর্ম গুলো না করে কি ভাবে মালিকের সামনে দাড়িয়ে, উক্ত বাক্যের দ্বিতীয়াংশের বাণীটি ইয়্যাকা নাস্তাঈন অর্থাৎ ‘আমাকে সাহায্য করুণ’ কথাটা ব্যাক্ত করবেন? পূর্ণ বাক্যটি ‘ইয়্যাকা- না-বুদু ওয়া-ইয়্যাকা নাস্তাঈন’ অর্থাৎ আমি আপনার ইবাদাত করি, আমাকে সাহায্য করুণ। যাঁরা উক্ত কর্ম গুলো সম্পদন করেছে একমাত্র তাঁদেরই অধিকার “না-বুদু” বলার এবং নাস্তাঈন বলে নিতে পারেন। অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য চেয়ে নিতে পারেন। এ বাক্যটি উচ্চারণ করার একমাত্র তাঁদেরই সাজে। কারণ তাঁরা আল্লাহর কথা মতো কাজ করে, অর্থাৎ ইবাদাত করে। উক্ত বাক্যটি নামাজের মাধ্যমে দৈনিক যাঁদের মুখ দিয়ে ৩২ থেকে ৬০বার উচ্চারিত হয় তাদের পে পাপের চিন্তা হতে পারে কিন্তু পাপ করা কি সম্ভব ? সমাজে এধরণের নিষ্পাপ ব্যক্তি যদি বেশী বেশী থাকে, সাধারণতঃ সে সমাজই আলোকিত,শান্তির-সুন্দর সমাজ। আমি যদি হিংসা করি,পর নিন্দা,পরের মঙ্গলকে ঘৃণা করি, পরের সুখ শান্তিকে খুশির বা সুন্দর দৃষ্টিতে না দেখি, পরের উন্নতিকে বক্র চোখে, পরের সম্মানকে যদি খাটো চোখে দেখি, সম্মানিকে যদি সম্মান প্রদর্শন না করি, ছোটকে যদি স্নেহ বা আদরের দৃষ্টিতে না দেখি, যদি পরের অধিকার, ইজ্জত হরণ করি, অন্য সকলকে আমার ভাই বোন ও মুরুব্বি মনে না করি, আমি যদি পড়শীর সাথে খারাপ ব্যবহার করি, সমাজের মধ্যে সু-সর্ম্পক না গড়ি, এতীম মিস্কীনদের খবর না রাখি, প্রয়োজনে রোগীকে সেবা না দেই, অসহায়দেরকে শক্তি অনুযায়ী সহযোগীতা না দেই, আমি যদি অবৈধ কর্মে   লিপ্ত থাকি, ধর্মীয় নীতি নিয়মকে অবহেলা করি, তবে আমি ভালো কি ফল আশা করতে পারি? আমি আমার মিথ্যে, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম বন্ধ করেনি ঠকিয়ে সুবিধা ভোগ করেছি, ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করেছি। কারো প্রতি শক্তি অনুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করিনি, নিরারকে অরজ্ঞান দেইনি, ধর্মীয় বাক্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিনি তবে আমি ইবাদাত করেছি  বলে বলতে পারি কি? শুধু নামাজই আমাকে মুক্তি দেবেনা। ভিাবৃত্তি বন্ধ করার ল্েযই কর্ম করিনি বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সেবা করতে পারিনি। পশু পাখিকে সেবা দিতে পারিনি, কাকেও জীবিকার পথ প্রদর্শন করিনি। তাহলে আমার ইবাদাত কোথায়?
আল্লাহ বলেছেন- আমি জ্বীন এবং ইনসানকে ইবাদাতের জন্যেই  সৃষ্টি করেছি” অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়। স্রষ্টার বর্ণিত ইবাদাত কতটুকু  করেছি? ল্য রাখা দরকার , ধার শোধ করেছি কি? না করলে করবো বলে ল্য আছে কি ? কতটুকুন ভালো কর্র্ম করতে পেরেছি এবং মন্দ কর্ম কতটুকু পরিহার করেছি?আর কতটুকু করিনি তার জন্য মা প্রার্থনা করেছি এবং কতটুকু ভালো করতে  পেরেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ল্েযই দৈনিক পাঁচবার স্রষ্টার দরবারে নামাজের মাধ্যমে উপস্থিতি দিয়েছি কি? মুনাফিকি-নিমকহারামী পরিহার করতে পেরেছি কি না?
ধোকাবাজী বন্ধ করতে পেরেছি কি? কর্মগুলো শুদ্ধ-পরিশুদ্ধ করে সত্য সঠিক পথের নির্দেশনার ল্েযই ধর্মের আগমন ঘটেছে।