বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

উল্টো পালের তরী

ভোরের নামাজান্তে পাটিতে বসে যখন বাইরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলাম, তখন দূরের নদীতে একখানা পালের তরী আমার মনোযোগ কেড়ে নিলো। পলকহীন দৃষ্টিতে চেয়ে দেখলাম, তরীটির পাল এবং বৈঠা দুটোই উল্টো। মাঝিবিহীন তরীটি ঢেউ তরঙ্গের তালে-তালে এলো মেলোভাবে পেছনের দিকেই চলছে।

সেটি রুখছে না কেউ, নেচে চলেছে হাওয়ায়। চালক বিহীন তরীটি কোথা গিয়ে তলিয়ে যায় কাটে সময় ভাবনায়। তরীটির নাম শান্তির তরী, কেউতো রাখেনি তার পাল বৈঠা ধরি। মাঝি মাল্লা নেই তায়, নীর পাকে নিতে চায় অতল জলের তলায়। নিচ্ছে টেনে উল্টো পালে পেছন দিকে তায়। এমন কথা ভাবছি বসে, কলম ধরে কসে। এমন কেন এ তরীর হাল? লড়ছে তরী হাওয়ার সনে, লড়ছে তরীর পাল। হয়তো মাঝি নিদ্রায় বিভোর, তাই খুলেনি নিদ্রা দোর। শুনবে না ডাক অনেক দূর, গভীর জলের সমুদ্দুর। শুনবে নাতো বাঁশির সূর, থাকি আমি বিজনপুর। চলছে তরী এলোমেলো, মাঝির খবর নাই। গভীর নিদ্রায়  নিদ্রা গেলো, মাঝিরা সব তাই। আসছে আবার নীলাকাশে আঁধার রাতের ঘোর, তলিয়ে নিতে পাক বাতাসে টানছে নীচে জোর। তাই বুঝি তাই তরীর হাল, উল্টো বৈঠা তরীর পাল। ডুবু-ডুবু তরী হায়, ডুবিয়ে দেবে জঞ্জা বায়।

এ তরী যে শান্তির ধর্ম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম নামে আখ্যায়িত। স্রষ্টা হতে জেনেছি ধরা-ধামে আর কোন ধর্মের আবির্ভাব ঘটবে না। ভাবের তরী হতে উঠে চললাম, চেতনার জগতে সংগ্রামী জীবনের দিকে। মাঝিগণের ল্েয, পত্র পটে কিছু কথা লিপিবদ্ধ করতে, কলম তুলে নিলাম হাতে।

ইসলামী দুনিয়ার দিকে যখনি দৃষ্টি নিপ্তি হলো, তখনি কল্পলোকের উল্টো পালের তরীটি মন-সায়রে ভেসে উঠলো এবং বললো এ বিশ্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে শান্তির পথে চলার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সে পথে না গিয়ে উল্টো দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে শান্তি তরীটি, ইসলামের তরীটি।