বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

নবীর অতিথি সেবা

মহাগ্রন্থ  আল-ক্বোরআন  এবং হাদীস শরীফকে বিশ্বমানবের কাছে উপস্থাপন  করে বসে ছিলেন না বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বরং স্বীয় হস্তে কর্ম করে দেখিয়ে দিয়েছেন, মানবতার সেবা কাকে বলে। উদাহরণ স্বরূপ একটি ঘটনা সম্পর্কে না বললে নয়। ঘটনাটি এরূপ, একদা এক আগন্তুক এসে নবী পাক (সাঃ)  এর নিকট রাত যাপনের জন্য আশ্রয় কামনা করলো। নবী পাক (সাঃ) লোকটির থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিজ মহলে চলে গেলেন। লোকটি পানাহার করে শুয়ে গেলো বটে কিন্তু তার ঘুম হচ্ছিলো না চট্পট্ করছে আর যেন কি ভাবছে। এমতাবস্থায় তার পেটের পিড়া শুরু হয়ে গেলো। দ্রুত  বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সে পাচ্ছিলো না বিধায় বিছানাপত্রে মলমূত্র ত্যাগ করে ফেলে। এ দিকে রজনী প্রায় শেষ, ভোরের আজানের সময় আগত। এমন সময় নবীপাক (সাঃ) তাঁর মেহমানকে দেখতে এলেন, মেহমান কি অবস্থায় রাত যাপন করেছে। এসে দেখতে পেলেন  এক করুণ দৃশ্য। বিছানাটি ময়লায় ভর্তি।   দেখে নবীপাক (সাঃ) পেরেশান হয়ে পড়লেন। লজ্জায় অবনত হয়ে এ বলে মা প্রর্থনা করলেন মহান আল্লাহর দরবারে, হে আল্লাহ  আমাকে মা করো। হে আল্লাহ্ লোকটি সারা রাত কতইনা কষ্ট  করেছে । হে আল্লাহ আমায় মা করো তাকে যদি পেতাম সুস্থকরে বিদায় দিতাম। নবীপাক  (সাঃ) এই বাক্যগুলোর মধ্যে বসে নেই। তিনি মনে মনে এবং উচ্চস্বরে বলছেন আহা লোকটি কোথায়- বলতে বলতে ময়লা যুক্ত বিছানা পরিস্কার করছেন, এমনি সময় বিছানা উঠাতে গিয়ে বিছানার নীচে একখানা তরবারী পেলেন এবং তা স্ব-হেফাজতে রেখে- দুঃখ ভারাক্রান্ত  মনে বলতে লাগলেন আহা, লোকটির তরবারী কিভাবে পাঠাই। এদিকে পেটের ব্যথা উপসম  হওয়ার সাথে সাথে লোকটি এসে গিয়েছিলো। লোকটি নবী পাক (সাঃ) থেকে একটু দূরে আড়ালে দাঁড়িয়ে, সব শুনছিলো। নবীপাক (সাঃ) ব্যথাহত চিত্তে  যে- যে কথা গুলো ব্যক্ত করেছিলেন সবই লোকটি শুনে ব্যথিত চিত্তে ভাবলো যে,  এমন এক মহামানবকে মারতে এসেছি ? সে নিজেকে প্রশ্ন করলো, আমার মতো  কু-চক্রান্তকারী, বদ-বখ্ত,  বদনছিব, ধরাধামে নেই। কি ভাবে আমি আমার কর্মের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবো। এমনি সময়, নবীপাক (সাঃ) কে বলতে শুনলো যে, লোকটাকে পেলে- তার সেবা করতাম এবং তার তরবারী খানা দিয়ে দিতাম। উক্ত কথাটি শুনার সাথে সাথে- লোকটি নবীপাক (সাঃ) এর সামনে হাজির হল, নবী পাক (সাঃ) তাকে দেখে খুশী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই তুমি রাতভর এতো কষ্ট করেছো আমাকে ডাকনি কেন? এখন কেমন আছ ? নাও তোমার তরবারী খানা। লোকটি তরবারী খানা নিয়ে নবীপাক (সাঃ) এর ক্বদম মোবারকে রেখে বললো ইয়া-রাসূলাল্লাহ্, আপনি সত্য-সত্যই আল্লাহর রাসূল- কোন সন্দেহ নেই। “আমি মূলতঃ মুসাফির ছিলাম না”- আমি এসেছিলাম আপনাকে  হত্যা করতে। ইয়া-রাসূলাল্লাহ্ আপনি আমাকে মা করুন এবং পবিত্র ইসলামে দিতি করুন। এ কি  ব্যবহারের ফল নয় ?  এখানে, ব্যবহার এবং সেবার ফলই পরিলতি হচ্ছে। এ জন্যেই বলা হয় “চরিত্র মাথার তাজ স্বরূপ”। বাদশাহর মাথার তাজ না থাকলে যেমন মানায় না, তেমনি চরিত্র সুন্দর না হলে মানুষের মূল্যায়ন হয় না। “ব্যবহারে বংশের পরিচয়” কথাটি চিরন্তন সত্য নয় কি ?  নবী পাক (সাঃ) যদি লোকটির কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে- বদ বাক্য ব্যবহারে মানুষ ইসলামের পতি আকৃষ্ঠ হয়েছিল। যদি তরবারী খানা- না দিয়ে তার সাথে রুক্ষ্ম ব্যবহার করতেন তবে লোকটির মন জয় করতে পারতেন না। পথভ্রষ্ট, অর্থাৎ কাফেরগণ ইসলাম ধর্মে দিতি হয়েছিলো নবী পাক (সাঃ) এর আচরণে। নবী পাকের সাহাবাদের সুন্দর মনোমুগ্ধকর ব্যবহার করতেন যা আমাদের কাছে মোটেও  আশা করা যায় না। নবীপাক (সাঃ) অন্যকে খাওয়াতে গিয়ে নিজে  উপোস অর্থাৎ অনাহার  যাপন করেছেন, অপরের শান্তির জন্য।  মানুষকে দুনিয়ার নরক থেকে বাঁচিয়ে, ওপারে চিরস্বর্গ বাসি করার ল্েয আপন শান্তি নিদ্রাকে, হারাম করেছিলেন।  শান্তি প্রদানের ল্েযই  নবী পাক (সাঃ)  এর আগমন ঘটেছিলো। উনার আগমনের সাথে সাথে বিশ্বের শান্তির দ্বার উন্মুক্ত হয়।
উম্মুল মূূমিনীন হযরত খাদিজা (রাঃ) নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব পাঠালে, নবী পাক (সাঃ) শর্ত দিয়েছিলেন যদি তাঁর সমস্ত ধন সম্পদ  ইসলামের জন্যে ব্যয় করেন- তবেই সম্বন্ধ হতে পারে। মা- খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ) তাই মেনে নিলেন। হযরত আবুবকর (রাঃ) ইসলামের জন্যে নিজের সব দিয়ে বলেছিলেন- আমার নিকট আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল ছাড়া কিছুই নেই। যতজন ছাহাবা ছিলেন সকলেরই অন্তরে ত্যাগের উজ্জল রবি উদিয়মান ছিলো। কবির ভাষায় বলছিÑ
    ত্যাগ করেছেন সবই শান্তির তরে,
    এ অশান্ত ভূবন ধরাধাম পরে।                                                                                        
    সেবার তরে করেছেন সব শেষ
    সাহাবিগণ করেছেন বরণ অশেষ কেশ,
    তারি ফলে  আজ মুসলিম সমাজ,
    ছড়িয়েছে বিশ্বে ইসলামী রাজ।
    ত্যাগ করেছেন বিশ্বনবী,
    তিনি যে আঁধারে আলোর রবি।
তাই ইসলামে ন্যায়ের দ্বার উম্মুক্ত হয় এবং অন্যায় অত্যাচারের দ্বার চির তরে রুদ্ধ হয়। এখন অন্যায়ের  বিচার হয়। তখন সবাই ছিলো মুক্ত, যা ইচ্ছে তাই করতো। এ জন্য ঐ সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হতো।