মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৪

মহাশক্তিমান আলো (৫ম পর্ব)

সূর্যের আলোকে যেমন বলা হয় সূর্যের আলো কিন্তু সূর্যের আলো সূর্য নয়। সূর্য আলো থেকে পৃথক নয়। চাঁদের আলো যেমন চাঁদ নয়, চাঁদও চাঁদের আলো থেকে পৃথক নয়। তেমনি মুহাম্মদ (দ:) নামের নূর বা আলো আল্লাহ হতে পৃৃথক নয়। কিন্তু মুহাম্মদ (দ:) আল্লাহ নামের নূর বা মহা আলোটি নয়। চাঁদের আলো যেমন চাঁদের সাথে-সাথে এবং সূর্যের আলো সূর্যের সাথে সাথে তেমনি আল্লাহর হাবীব নূরে মুহাম্মাদ (দ:) নূরে আল্লাহর সাথে সাথে সর্বত্র বিরাজ মান। এর ওপর বিশ্বাস না হলে সে আল্লাহ এবং রাসূল (দ:) এর ওপর বিশ্বাসী হতে পারলেন না। আল্লাহর সাথে-সাথে রাখার জন্যই তাঁর হাবীব  মুহাম্মদ (দঃ) কে সর্বপ্রথম আরশে আজীমে আল্লাহর নামের সাথে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ নাম যুক্ত করে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, তার দোস্ত মুহাম্মাদি নূর সর্বপ্রথম সৃষ্টি করে। আল্লাহ খাস করে নিজের সাথে সাথে রাখার জন্যই সর্বপ্রথম মুহাম্মাদি নূর সৃষ্টি করেন বলেই মুহাম্মাদ (দ:) কে আল্লাহর নূর বলা হয়। যেমন আবদুল করীমের ছেলে বলা হলে বুঝা যায় যে, তাঁর ছেলের রক্ত মাংশের সাথে করীমের রক্ত মাংশের স¯েপ্রক্ততা  আছে। তা ডাক্তারি পরীায় ধরা পড়ে বলে, করীমের ছেলে  বলে নিশ্চিত হয়। তাই নূরে মুহাম্মদ (দ:) এর সাথে নূরে আল্লাহর স¯েপ্রক্ততা আছে বলেই, মুহাম্মাদ (দ:) কে আল্লাহর নূর বলা হয়। করীমের ছেলেকে করীম বলা হয় নাম করীমের ছেলে করীম নয়, আর ছেলের জন্মদাতা করীম, ছেলের ছেলে নয়। দুই রক্ত মাংশে এক হলেও দুই আপন-আপন জায়গায় পৃথক পৃথক ভাবে অবস্থান করছে। এটাই চিরন্তন সত্য। করীমের সন্তান বলা হলেও করিমের সম্পূর্ণ তা সন্তানের মধ্যে নেই করীমের সন্তানের আত্মা সে মূল আত্মাটির মালিকও  সন্তান নয়, সন্তানের আত্মার মালিক সৃষ্টি কর্তা। নূরে মুহাম্মদ (দঃ) এর নূরের খাস মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, মুহাম্মাদ (দ:) নয়। তাই নূর মুহাম্মদ (দ:) এর নূর তার মালীক আল্লাহর সাথে-সাথেই থাকেন। আল্লাহর খাস হাবীবে নূর মুহাম্মাদ (দ:) যদি আল্লাহর অর্থাৎ দোস্তের সাথে দোস্ত না থাকে, তবে আমাদের ঈমানী কালেমার মধ্যে আল্লাহর নামের সাথে মুহাম্মাদ (দ:) এর নাম উচ্চারিত হবে কেন? কোন মুসলিম মৃত্যুর পথিক হলে, তাকে কালেমা তাইয়্যেবা পড়িয়ে শুনীয় দিতে হবে। মৃত্যু পথিক সচেতন না থাকুন, সে শুনতে পেলে শান্তি পায়। ক্বুর আন এবং হাদীস  শরীফে এর বর্ণনা রয়েছে। যত নবী রাসূলগণ এসেছেন প্রত্যেকই ক্ববরের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে সালাম দোয়া পাঠ এবং কথা আদান প্রদান করতেন। তার কালেমা তাইয়্যেবা সাথে মুহাম্মাদ (দ:) এর নাম উচ্চারিত না হলে, তার মুসলিম পরিচিতি থাকে না। নবী (দ:) এর সহ যোগিতা বা শুফারিস পাবে না। আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ (দ:) কে ইন্টারনেট ওয়েব সাইডের মতো মহা স্রষ্টার স্বীয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাঁদেরকে অর্থাৎ আল্লাহ এবং রাসূল (দ:) কে স্মরণ নামের শক্তি দ্বারা অন্তর গভীরে কিক করলেই অন্তর দৃষ্টিতে দেখা যাবে অর্থাৎ নূর বা আলো দেখা যাবে মুহাম্মাদ (দ:) কে আকারেও দেখা যাবে  কারণ আল্লাহ তাঁকে আকার দিয়ে পাঠিয়েছেন। অণু-পরমাণু, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, ইউরিনিয়াম, ফোলানিয়াম, দর্শন করার মতো যাঁদের দৃষ্টি রয়েছে তাঁরাই তা দর্শন করতে পারেন। তাই আল্লাহ এবং রাসূল (দ:) কে দর্শন শক্তি অর্জন করেন যাঁরা, কেবল তাঁরাই নূরে মুহাম্মাদ (দ:) কে আকারে দেখতে পান, তাঁকে আকার দিয়ে মানুষের মতো করে একালে পাঠিয়ে ছিলেন। প্রাণী কুলকে জীবন জীবিকার পথ প্রদর্শনের জন্য আলোর প্রয়োজন। সে আলোর উৎপত্তির স্থল বা কেন্দ্র সূর্য। যাকে আমরা একটি আলোর গোলক পিন্ড হিসেবে দেখতে পাই। সে আলোরই গোলক পিন্ড কি প্রস্তর গোলক পিন্ডের আলোটি কোথা হতে নির্গত হচ্ছে, সঠিক বলার মত খবর এখানো পাওয়া যায়নিই। “নাসা” রকেটের সাহায্যে যে পরীাটি চালিয়ে ছিলো তা থেকে কোন খবর এখনও আসেনি সম্ভবত আর আসবেও না পরস্পর শুনা যাচ্ছিলো রকেটটি জুলে গেছে। আল্লাহ নামের নূরের গোলক পিন্ড বলতে কিছু নেই, অণু-পরমাণু ও নেই, কারণ তিনি নিরাকার, তাঁর আকার নেই। অণু-পরমাণুর দৈর্ঘ্য প্রস্থ থাকে। যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ থাকে তার আকার থাকে। আল্লাহ নামের আলোটি শুধু আলো আর আলো। মূসা (আ:) আল্লাহর আলো প্রদর্শনের জন্য যখন বারবার প্রার্থনা করেছেন তখন আলোর একটু ছায়া প্রদর্শন করিয়েছেন তাতে মূসা (আ:) জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, সে ছায়ার আলোর ঝলকে অহুদ পাহাড়ের কিয়দাংশ জুলে কালো পাথরে পরিণত হয়, যা আজ আমরা চোখের সুরমা হিসেবে ব্যবহার করি এবং পাহাড়টি প্রদর্শনের জন্য বিশ্ব থেকে মানুষ আজও গমগামান করছে।