শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বিভ্রান্তির বেড়াজালে যেন আটকে না যাই

কলম এবং বিবেকরূপ ফায়ার ব্রিগেড্ কর্তৃক অন্তরের আগ্নেয় গিরির অন্তরাগ্নি নির্বাপন কর্ম যখন প্রায় প্রান্ত সীমায়, শ্রান্ত-কান্ত হৃদয়ও কায়া যখন প্রশান্তির প্রথম শ্বাসটি নিতে যাচ্ছে, ঠিক এমনি সময় চির দুশমনের অস্ত্রাঘাত হলো যেন ক্বলবের কেন্দ্র বিন্দুতে। তাই মিটি মিট নিবু নিবু অন্তরাগ্নি তখনি বাঁধা ভাঙা  স্রেতের ন্যায় প্রবল শক্তিধর গতিতে ফুঁসে উঠল। অপ্রতিরোধ্য প্রবল গতিতে বেরোতে লাগল সেই গলিত প্রবাহশীল লাভ।
কিন্তু হয়,
শক্তি যে নেই কায়!
কিন্তু এ মহাদুর্যোগে হত বুদ্ধি হলেতো চলবেনা! যা-ই আছে, তা নিয়েই এগোতে হবে। ঘা-তে প্রতিষেধক প্রতিরোধক মলম-তো লাগাতে হবে! কোথায় কোন অস্ত্রে আঘাত হেনেছে তা দেখতে হবে। প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। পূর্বেই বলেছি, চির সত্য পন্থা ইসলামে আঘাত এলে তা, আমার প্রাণ স্পর্শ করে। তাই হৃদয়ের আগ্নেগিরিরাগ্নি লেলীহান শিখায় গগণ স্পর্শ করে। সাম্প্রতিক কালে মুসলিম উম্মাহর মঝে অনৈক্য ও নানা বিজাতীয় কুপমন্ডকতা মুলকঅপকর্ম চিন্তা ও কর্মে ঢুকানোর আপ্রান প্রচেষ্টায় কাফির নাফরমানেরা নানা ছল চাতুরীতে সদা-সচষ্ট এরূপ আচরণ পৃথিবীর সর্বত্র অহরহ ঘটছে বলেই মুসলিম উম্মাহার একজন নগন্য খাদেম হিসেবে এ বিষয়টির অবতারনা করলাম। বর্তমান এ-আলোর আঁধারের সুযোগে চির সত্য বিধানাবলীর বিষয়ে নানা বাঁকা উক্তি করার দৃষ্টতা দেখানোর সাহস পাচ্ছি। এটা হচ্ছে শ্রদ্ধয় ওলাকায়েকিরাম এবং সম্মানিত নায়েবেরাসুলগণের উদাসিনতার কারণ। এ সম্পর্কে সমাধান দেয়া আমার পে সম্ভব নয়। কারণ আমার সে যোগ্যতা নেই। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে, এ সম্পর্কে আপন মনোভাব প্রকাশ করতে চেষ্টা করছি মাত্র। ইসলামী বিাজ্ঞ ওলামায়ে কিরামগনই এর সমাধান দেয়ার অধিকার রাখেন। আমি শুধু এর উপর একটা আলোচনা রাখতে চাই তা হলে এমন, যে, ব্যক্তি  (সে যে-ই হোক) মনে করবে হজ্জব্রত পালন করাটা মুর্তি পূজার নামান্তর, আমি আমার ুদ্র জ্ঞানের আলোকে, আমি বলব সে ্সলাম সম্পের্কে সম্পুর্নই অজ্ঞ। ইসলাম মুর্তি পূজাকে হারাম বা শিরক ঘোষণা করেছে। এমন কি তা উচ্ছেদ ও করেছে। আর এখন মুসলমানেরাই মুর্তি পূজক বা তার ক্রিয়া কলাপকে মুর্তি পূজার নামান্তর  বলে আখ্যায়ীত করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। যে, এমনটি বলার সাহস পাচ্ছে, বলতে হয়, সে ইসলামের গভীরে প্রবেশ করতে পারেনি। রাব্বুল আলামীন আল্লাহ্ তায়ালার আকারাকৃতি বা প্রকৃতিই কি? তিনি কি একস্থানে বসেই পর্যবেণ করছেন? না, সর্বত্রই বিদ্যমান? স্বয়ং প্রত্য করেছেন? না-দূরবিন রূপসৃষ্টি যন্ত্রদ্বারা দর্শণ করেছেন? তিনি কি সর্বে সর্বা? আল্লাহ সম্পূর্ন না কি অসম্পূর্ণ? তিনি অভাব অনুভব করেন কি? না- অভাব মুক্ত? তিনিই কি আমাদের সৃষ্টিকুলের মালিক? এত সব সৃষ্টিকুল কি তাঁর প্রতিই প্রত্যাবর্তনশীল? সৃষ্টিকুলের সাথে কথা বলছে কি বলছে না? এত সব সৃষ্টির ভাষা বুঝেন কি বুঝেন না?  সৃষ্টিকুলের কথা শ্রবন করেন কি, করেন না? আল্লাহ কি অন্যান্য মানুষকৃত সৃষ্ট বা ধারণাকৃত মাত্র দেব-দেবীর  ন্যায়? এ অস্থায়ী এবং স্থায়ী অনন্তকাল সম্পর্কে উক্ত সমালোচকোর কিছু ধ্যান ধারণা আছে কি? এমনি অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। সুতারাং যার এ বিষয় সমূহ সম্পর্কে চিন্তা -ধ্যান -ধারণা করার মত শক্তি নেই এবং ইসলামের গভীরে প্রবেশ করেনি কেবল সেইতো ্মন ভ্রান্ত উক্তি করতে পারে।

আল্লাহ বলেছেন, আমাকে স্বরণ করার জন্য নামাজ কায়েম কর বা প্রতিষ্ঠা কর, রোজা রাখ, জাকাত আদায় কর, আদেশ সমূহের মধ্যে হজ্জ হচ্ছে একটি বিশেষ আদেশ। মুমীনগণ আল্লাহর আদেশ পালনেই বদ্ধ পরিকার । মুমীন মুসলামানগণ পবিত্র কাবা শরীফেকে সেজদা করতে যায় না। যায় শুধু –আল্লাহর হুকুম পালন করতে। আল্লাহ এমন কথা বলেনি যে, হে মুমীনগণ, তোমরা আমার ঘরকে সেজদা কর। এই পবিত্র ঘরটিকে কেন্দ্র করেই নামাজ আদায় করতে আদেশ করেছেন মাত্র। “সূরা আল ইমরান” ৪৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক এরশাদ করেছেন, “ইয়া মারইয়মুক্বনুতী লিরাব্বিকি ওয়াস্জুদী ওয়ারকায়ী মার্য়া রা’কিয়ীন” অর্থাৎ- হে মারইয়াম! তোমার পালন কর্তার উপসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু ও সেজদা কর। সুতারাং ল্য করা যায় যে, সর্ব জগতের অর্থাৎ সৃষ্টিকুলের মালিক যখন আল্লাহ, রুকু-সেজদা পায়োর একমাত্র মালিক ও তিনি। আল্লাহর উদ্দেশ্যেই রুকু-সেজদা করা হয়। সেজদা পাওয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ নয়। সেজদা পাওয়ার মালিক সৃষ্ট কোন বস্তু নয়।

সূরা আল বাক্বারার- ১৪৫নং আয়াতে বলা হচ্ছে, “নিশ্চই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব, যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমার যেখানেই থাক, সে দিকে মুখ কর।  যারা আহলে কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে এটাই ঠিক পালন কর্তার প থেকে। আল্লাহ বেখবর নন্। সে সমস্ত কর্ম সম্পের্কে যা তারা করে”।

সুতারাং পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যে, পবিত্র কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে রুকু এবং সেজদা রকার আদেশ হচ্ছে। কাবাকে সেজদা করার বা কবাকে পুজা করার আদেশ হয়নি। দিক নির্দেশক বা দিক নির্দেশনা না থাকলে ও মমীন মুসলমানদের নামাজ আদায় হয়ে যায়। তাই বুঝতে কষ্ট হচ্ছেনা যে, আল্লাহপাক কাবা ঘরেক সেজদা করতে বলেননি। যে কোন কাজের একটি মূল বা কেন্দ্র বিন্দুর প্রয়োজন হয়। একমাত্র আল্লাহ যিনি সর্বময় বর্তমান তাঁরি নির্দেশ তাঁকে স্মরণ বা তাঁর এবাদতের জন্য একাদতের কেন্দ্র বিন্দু কাবার দিকে ফিরে এবাদাত করার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে মুমীনগণ। সুতারাং অন্য কোনরূপ মুর্তি পূজার ন্যয়-মুর্তি পূজার নামান—র হতে পারেনা। কারণ কাবা ঘর মুমীন মুসলমানদের নিকট পূজনীয় নহে মহান অল্লাহই একমাত্র পূজনীয় বা এবাদত পাওয়ার মালিক। সুতারাং এটা মুর্তি পূজার নামান্তর হতে পারেনা। মহান আল্লাহ যা-যা করতে আদেশ করেছেন সে সে আদেশ পালনের নামই এবাদাত। অর্থিক মতা সম্পন্ন ব্যক্তির উপর আদেশ হল, জীবনে একবার হলেও পবিত্র হজ্জ আহকাম পালন  করতে হবে। অভিশপ্ত আজাজিলকে ধিক্কার স্বরূপ পবিত্র পবিত্র হজ্জের আহকাম অন্তর্গত পাথর নিেেপর আদেশ এসেছে। পাথরের উপর মাথা ঠেকানোর আদেশ আসেনি। মুনাফিক নিমক হারাম আজাজিলকে ধিক্কার সূচক যে পাথর বা কর নিপে করেছে, সে ইহকালীন জীবনে নিমক হারাম মুনাফিক, ধোকাবাজ আজাজিল হতে সদা মুক্ত থাকারই ইশারা বা চিহ্ন বহন করে। এ সকল বস্তু বা পাথরকে মহা শক্তি মনে করে মাথা ঠেকাতে কোথাও আদেশ দেয়া হয়নি। যারা শিার গভীরে প্রবেশ করেছে কেবল তাঁরাই শির প্রকৃত মর্ম অনুধাবন করতে পেরেছন। এবং যাঁরা সুস্থ বিবেকবান, তাঁরা তাঁদের জিহ্ববার অগ্রভাগে লবন স্পর্শেই বুঝতে পারেন যে, লবন, লবনাক্ততার তারতম্য এবং যেখানে প্রয়োজন তত টুকুই করবেন। তার পরিমাণ বা মাপকাঠি পূর্ণ অভিজ্ঞতার আলোকে সুস্থ্য বিবেকবান বলে পরচিতি লাভ করেন। যে মুখে লবন রেখেও লবনাক্ততারন তারতম্য বুঝতে অম, প্রকৃত চিকিৎসক তাকে সুস্থ্য বলতে পারে না। তেমনি যারা- ইসলামের গভীর প্রবেশ করতে পারেনি এবং বিবেক অসুস্থ্য, তাদের পে ইসলামের মর্মানুধাবন করা সম্ভব নয়। যে ইসলামের আলোতে প্রবেশ করে আলোকিত হতে পেরেছেন এবং অককপটে ইসলামে পূর্ণ আস্থা স্থাপন করতে পেরেছেন, কেবল তাঁরাই প্রকৃত মুমীন মুসলমান হিসেবে গন্য হতে পেরেছেন। এ অসীম মহামুক্তির মহা সমুদ্রের ডুব দিলে মুক্তি পাওয়া যাবে কিন্তু কুল পাওয়া যাবেনা। তাই ইসলাম সম্পর্কে যাচ্ছেতাই সমালোচনা পুরো অসুস্থতার নামারন্তই মাত্র।কারণ এ কোন মানব রচিত বিধি স্বরূপ ধর্ম নহে। যিনি সর্ব স্রষ্ট- দ্রষ্ট সর্বজগতের মালিক তাঁরি নাজিলকৃত এ মহা পবিত্র ধর্ম- ইসলাম। এ গভীর প্রবেশ না করে না বুঝে কেবল উপর থেকে উড়ে উড়ে কাঁ কাঁ রবে, আড় চোখে তাকিয়ে ইসলাম সম্পর্কে কিছু অনুধাবন করা যাবে না।

মন- প্রান ঢেলে মুক্তির আশায় ইসলামকে চেনার জন্য বুঝার জন্য সর্বোপরি জীবনের সার্বিক মুক্তির জন্য গভীরে প্রবেশ করতে হবে। তাই, আসুন আমরা বিশ্ব মানবতার একমাত্র মুক্তি-বিধান আল কুরআনের উজ্জ্বলতম আলোকে নিজদের পরিচালিত করে আল্লাহ্ রাব্বুল আলমীনের সন্তুষ্টি লাভে সচেষ্ট হই। ইয়া আল্লাহ্ আমাদের আর্জি কবুল করুন। সকল বিভ্রান্তি ছলনামুলক প্রতারণারূপ শয়তানী চক্রের আবর্ত হতে অমাদের মুক্ত রাখুন।

বইতে অনিচ্ছাকৃত ভুল-ক্রটির জন্য বিনীতভাবে মা চেয়ে ভবিষ্যতে ক্রটি মুক্ত করার সক্রিয় প্রচেষ্টা ব্যাক্ত করছি। “ইন- শা- আল্লাহ”।

আমীন।
নিছক লেখকের তালিকায় নামভুক্ত করার উদ্দেশ্যে কলম হতে নেইনি। লেখক হওয়ার যোগ্যতা নেই বলে সে সম্পর্কে কল্পনাও করতে পারিনি। উক্ত মতা নেই বলেই বিশেষ জ্ঞানী- গুণীজনের নয়ানলোক মনের ভাব প্রাকাশ-মানসে কলম হাতে নিয়েছি মাত্র। ভাবাবেগের পন্য- বাহী তীর মানবকুলের মানসলোকের হৃদ-সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার মানসে দুর্বল অসহায়ত্বের কাষ্ঠখন্ডের উপরে দাঁড়িয়ে সর্বশক্তিমান – যিনি মহান, দয়ালু-দাতা সর্বজ্ঞান- সর্বগুনের পূর্ণতম, অসীম শক্তিধর, ভেতর-বাহির, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অন্তরের ভাব-ভাষা বুঝোন ও চাুষ অর্থাৎ প্রত্য দর্শণকারী, সর্বজগতের মালিক, অসীম করুণাধার, সর্বশক্তিমান, সর্বদ্রষ্টা সর্বস্রষ্ট, একমাত্র সৃষ্টিকারী প্রভু, পালনকর্তা, একমাত্র আল্লাহর নামেই কলমরূপ বৈঠা দিয়ে ভাবাগের পন্যে ভরা আমার এ ছোট্র সংকল্পের তরীখানি মানবকুল হৃদসাগরের বেয়েই চলেছি, কোন এক অজানা অচেনা তীরের দিকে।

যাঁরা শুভবুদ্ধির অধিকারী, তাঁদের বুুদ্ধির সাগরে আমার দুর্বল কলেবরের ুদ্র লেখার এ ছোট্র ডিঙ্গিখানি মহান করুনাময় আল্লাহর উপর ভরসা করে জ্ঞানবানদের বুদ্ধির সায়বে ভাবের তরী ভাসিয়ে দিলাম। তরি সাথে একটি অনুরোধ সম্বলিত আর্জপত্র ও স্থান নিয়েছে। তা অকূল সাগরের ঘুণিঝড়ের ঘুর্ণিপাকে পাগলা হাওয়ার উত্তাল তরঙ্গে তাড়িত হয়ে, আমাকে নিয়েই যেন তলিয়ে না যায়। এ শিশু- তরীখানি আমাকে নিয়েই যেন নাচতে নাচতে চলতে সুযোগ পায়। হয়তোবা কোন দিশাহারা পাথর হারা অন্ধকারে পথ চলাবস্থায় হঠাৎ করে তা দেখে চমকে উঠে বলতে পারে, এত ছোট্র তরীও হতে পারে বলে। হয়ত তাতে তার এ  অন্ধকারে নৈরাশ্য- নিস্তেজ- অচল- মৃত প্রায় কম্পিত হৃদয়পটে, পারের অশার রবিরশ্মি ধপকরেন জ্বলে উঠতে পারে। অল্লাহর উপর নির্ভর করে এ ছোট্র তরীর যাত্রী বেশে পার পেতে  পারে। বলাতো যায় না!

মহান করুণাময় আল্লাহর সৃষ্টিজগতে সম্পর্কে প্রবল চিন্তা ও ভাব  নিয়েই ঢেউ তরঙ্গে দোলা খেতে- খেতে সম্মুখপানে এগুতে লাগলাম। ঠিক এমনি এক সময় গভীর অন্ধকারে নিমজ্জমান ইসলাম জগতের দিকে আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হল। অন্তর দৃষ্টিলোকে যা ধরা পড়ল, তাতে হৃদয়ের দুঃখ ব্যাখা - বেদনার অকূল সমুদে ঝড়- তরঙ্গ প্রবল হতে প্রবলতর হয়ে বিদ্যুৎ বেগে প্রবাহিত হতে শুরু করল। এ প্রবল প্রবাহমান প্রালয়ঙ্করী ঝড়ের প্রবল ঘুর্নীপাকের ঢেউ তরঙ্গের পাগলা দেলার তান্ডবলীলায় অন্তর- কায়া ব্যাপি ভয়ঙ্কর কম্পন হতে নাজুক পরিস্থিতির দিকে নজর পড়ল। তা দর্শনে- বেদনাহত চিত্ত হতবুদ্ধি ও বাকরুদ্ধ হয়ে দেহ-মন অচল প্রায়।সামনে একটি কদমও বাড়ালোনা, থ’ হয়ে যেন নির্র্জীবের ন্যায় দাঁড়িয়ে গেলাম।

হঠাৎ কিছুণের মধ্যেই ঘুমান্তচল বিবেক জেগে উঠল। জাগার সাথে সাথে হায় রব ধ্বনি, আপনাপনি বজ্রকন্ঠে মুখে বেরিয়ে পড়ল। এরি মধ্যে বলে উঠলাম, একি দেখি, মহান আল্লাহর জমীনে? আল্লাহর জগতে তাঁরি সৃষ্টি মানবকুলে, তাঁরিই প্রদত্ত মানব মুক্তি- বিধান আল-ক্বোরআনের নাম পরিবর্তন এবং ভেতরাংশে কয়েক জায়গাতেই ভুল ছাপিয়ে রেখেছে। মূল ঈমানী বাক্য কালেমায়ে শাহাদাত থেকে ঈমান ভিত্তক মূল শব্দ ছেড়ে দিয়ে বাকি অংশ ছাপিয়ে পড়াচ্ছে। এটা করে মুসলিম সমাজকে দু‘ভাগে করে দিয়েছে। এমনিভাবে সংেেপ করার নামে বেছে বেছে বিশেষ স্থানে আঘাত হেনেছে। তা থেকে মাত্র কয়েকটি আক্রান্ত চিহ্ন এ ুদ্র লিপিপটে আবদ্ধ করে মুমিন মুসলমান ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করছি। যেন তাঁরা এ চিহ্ন ধরে সামনে এগিয়ে দেখতে পারেন। বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী দুষমনেরা আর কোথায় কোথায় আঘাত হেনেছে? তা সঠিকভাবে নির্ণয় করে সমাধান দিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী মুনাফিকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারেন। দেশ রক বাহিনীর মত যাঁরা দ্বীন রক বাহিনীতে নামের তালিকয় প্রকৃত আলেম এবং নায়েবেরাসুল হিসেবে নামভুক্ত করেছেন, তাঁদেরকে মহান আল্লাহর মহা আদালতে জওয়াবদেহি করতে হবে। সময় থাকতে মুনাফেকী নাফরমানি সুলভ কলমী আক্রমণ থেকে আক্রান্ত দ্বীনকে রার ব্যবস্থ করুন। ইসলামী একটা সেন্সর বোর্ড গঠনান্তে ঘাষণা করুন। এ বোর্ডের অনুমতি ব্যতীত মুসলিম সমাজে মুসলিম এলাকায় কোন প্রকার দ্বীন শিামূলক বই প্রকাশ করা বা বাজারে ছাড়া চলবেনা। অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করলে, মুসলিম আইন বোর্ড তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্য হবে। আমার ুদ্র জ্ঞানের সীমারেখায় যতটুকু ধরা পড়েছে, কেবল তা থেকে কয়েক সংখ্যাক চিহ্ন আপনাদের ব্যাপক জ্ঞানালোতে প্রদর্শণ করে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনান্তে ইসলামের গভীর প্রবেশ করে কোথায় কোথায় কিভাবে অক্রান্ত হচ্ছে তা পর্যবেণে সচেষ্ট থাকার বা মনযোগী হওয়ার জন্য ডাক দিয়ে যাচ্ছি রজনী প্রহরীর মত। ুদ্র জ্ঞানের ুদ্র এ ডাকটিকে অবহেলা না করে দায়িত্বের প্রতি মনোযাগী হয়ে দ্বীন রায় অল্লাহর জন্য এবং মাল ওয়াকাফ করুন। বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরামগন এবং নায়েব রাসুলগনই ভাল ভাবে অবগত যে, আল্লাহর সৃষ্টি- মাখলুকাতের মধ্যে মানব জাতিকেই শ্রেষ্ট জীব হিসেবে অখ্যায়িত করেছেন একটি মাত্র অতিরিক্ত জিনিষ সংযুক্ত করে । তা হল আক্বল বা জ্ঞান নামক উপাদানটিই মানব জাতিকে শ্রেষ্টত্বের আসন সমাসীন করেছে। আর অন্য সব জীব জগতকে তা দেয়া হয়নি। এ উপাদানটির মাধ্যমেই ভাল এবং মন্দ বিশ্লেষিত হবে। তারি মধ্যে দিয়েই স্বীয় পরিচয় সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। কোথা হতে কেন আসছে? কোথা যাচ্ছে? বিচার বিবেচনার মাধ্যমে সঠিক পথ নির্ণয় করে আপনাপন দায়িত্বের প্রতি মনযোগী হবে। ভোগবিলাসের বিশেষ জ্ঞান-কৌশল মানব জাতিকেই প্রদান করা হয়েছে। স্রষ্টার সৃষ্টি অর্থাৎ যত আকাশ মন্ডল, তারকারাজি, গ্রহ-উপগ্রহ নত্ররাজি মোট কথা সমগ্র সৌর জগত বলতে যা-যা রয়েছে সবই মানব জাতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই। এসকল কিছুই মানব জাতির জন্য আাল্লাহর নিয়ামত বা রহমত।

একটা দেহকে রার জন্য যা প্রয়োজন বা পরিপূর্ন দেহ গঠনে যত অংশের দরকার সবই পরিপূর্ণভাবে দেহের মধ্যে বিদ্যমান আছে বলেই দেহটি পূর্ন সুস্থ রয়েছে। যে কোন একটি অংশের কম বা বেশী হলেই দেহটি বিপদগ্রস্থ হয় বা অসুস্থ বোধ করে। অভাবটি পূরণ হতে না পারলেই ক্রমে ক্রমে ধ্বংশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। অবশেষ বিলীন হয়ে যায়। সৌরজগতের ন্যায় যত জগতই সৃষ্টি হয়েছে, আল্লাহর হিসেব মতেই একে অপরের পরিপূরক বা সম্পূরক  যুক্ত করেই সৃষ্টি করেছেন। একটি গ্রহ ধ্বংশ হলে সবই ধ্বংশ হয়ে যাবে। সমগ্র সৃষ্টি জগতেই প্রায় একই সুতায় গাঁথা তাসবিহের মত।  যেমন তাসবিহ এর যে কোন এক অংশ দিয়ে ছুটে গেলে সমস্থ গুটি গুলোই একের পর এক করে মুহুর্তের মধ্যেই তাসবিহ এর সুতাটি গুটি শুন্য হয়ে যায়, তেমনি সৌরজগতের যে কোন একটি কচ্যুত উল্কার ন্যয় কচ্যুত হলে সমগ্র সৌরজগতই মূহুর্তের মধ্যে ধ্বংশ হয়ে যাবে। নিহারীকা হোক আর গ্যালাক্রিই হোক মোট কথা শূন্যমন্ডলে অবস্থিত সব বস্তাজগতই ধ্বংশ হব। কিন্তু সমস্ত জগতই আল্লাহর রা করে চলেছেন। উল্কা যদিও সংঘবদ্ধ ভাবে চলে, তাদের এক অপরের মধ্যে আকর্ষণ  বিকর্ষন শক্তি তত প্রবল নয় বলেই ছিটকে পড়ে যায়। কিন্তু গ্রহ-উপগ্রহ এবং নত্ররাজির মধ্যে মধ্যাকার্ষণ শক্তি বা আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ শক্তি খুবই প্রবল। এ শক্তিটাই রুকন বা খুটির কাজ করছে। তাই এরা একে অপরে আকর্ষণচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়েছেনা। যদি কোন গ্রহ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ শক্তি হারিয়ে গেলে তখন অপরটির প্রবল আকর্ষণে ধৃত হয়ে তার উপর পড়বে। ঐ কচ্যুত গ্রহের কে আকর্ষণ ছাড়া বিকর্ষণ থাকবেনা। ফলে আকর্ষণ যুক্ত গ্রহটি সরতে বাধ্য হবে। সুতারাং তখন গ্রহগুলো এক অপরের দিকে ছুটতে থাকবে এবং ধাক্কা খেয়ে ধ্বংশ হয়ে যাবে। এ সব আল্লাহর হুকুমেই হবে। এতকিছু সৃষ্টি একমাত্র মানব নামের জীব গুলোকে বাাঁচিয়ে রাখার জন্যেই। এ জীবগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার এত প্রয়োজনীয়তা কেন? এর উদ্দেশ্যই বা কি? উদ্দেশ্য একটাই, তা হল, এ মানব নামের জীবগুলো হচ্ছে আক্বল বা জ্ঞান নামক শ্রেষ্ট উপাদানের অধিকারী। এ মহামূল্যবান গুণটি তাদেরকেই দান করা হয়েছে। এটাকেই সুষ্ঠভাবে ব্যবহার করে শ্রেষ্টত্বের পরিচয় দেবে। এর মধমে তার স্বীয় এবং সর্বস্রষ্টা আল্লাহর পরিচয় পাবে। দায়ীত্ব উপলদ্ধি করব। এবং আল্লাহর প্রদত্ত বিধান মোতাবেক তাঁর নিয়ামত সমূহ বিভিন্নকারে রূপ-রূপান্তরের মাধ্যমে ভোগ করবে আর আল্লাহর প্রদত্ত নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করবে। অর্থাৎ দিন-রাত নিয়মানুযায়ী  ইবাদাত বা স্মরণ করবে এবং আল্লাহর হুকুমের মর্যাদা রা করে যাবে। তাই মহান আল্লাহপাক মহাপবিত্র ক্বোরআন শরীফের “সূরা যারিয়াত” পারা-২৭, আয়াত- ৫৬, এর মধ্যে এরশাদ করেছেন “মা খালাকতুল যিননাহ ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন” অর্থাৎ আমার এবাদাত করার জন্যেই আমি মানব ও জিনি জাতি সৃষ্টি করেছি। উক্ত আয়াতে কালামের ব্যাপক ব্যখ্যা বা তাফসির পবিত্র তাফসিরুল ক্বোরআনেই রয়েছে। এ বিষয়ে নায়েবে রাসুলগণ ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারেন। আমার এতবড় যোগ্যতা নেই। প্রসঙ্গ ক্রমে উল্লেক করলাম মাত্র। মহান আল্লাহ যখন এবাদাতের জন্যেই জিন এবং ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন। তখন এবাদাতের সে পদ্ধতি বা নিয়মাবলিও নবী আখিরুজ্জামান হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে অবগত করানো হয়েছে।
“সূরা যারিয়াত” পারা-২৭, আয়াত- ৫৬, এর মধ্যে এরশাদ করেছেন “মা খালাকতুল যিননাহ ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন” অর্থাৎ আমার এবাদাত করার জন্যেই আমি মানব ও জিনি জাতি সৃষ্টি করেছি। উক্ত আয়াতে কালামের ব্যাপক ব্যখ্যা বা তাফসির পবিত্র তাফসিরুল ক্বোরআনেই রয়েছে। এ বিষয়ে নায়েবে রাসুলগণ ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারেন। আমার এতবড় যোগ্যতা নেই। প্রসঙ্গ ক্রমে উল্লেক করলাম মাত্র। মহান আল্লাহ যখন এবাদাতের জন্যেই জিন এবং ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন। তখন এবাদাতের সে পদ্ধতি বা নিয়মাবলিও নবী আখিরুজ্জামান হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে অবগত করানো হয়েছে।

এ এবাদাত নামক কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয়তা কেন? সৃষ্টিকুলের দ্বারা এটা করে কি লাভ? না করলে কি তি? না, মহান আল্লাহর এতে লাভ এবং তি নেই। যাদের উপর এবাদাতের আদেশ হয়েছে, ষোল আনাই তাদেরি লাভ তি নিহিত রয়েছে। এবাদাতকারীগণ, আল্লাহ এবং রাসূল (দঃ) এর আদেশ এবং নিষেধ গুলোকে দৈনন্দিন কর্মকান্ডের উপর প্রতিফলন ঘটবে, তখনি তারা ইহজগতে বিপদমুক্ত থাকবেন। হৃদয়ে প্রশান্তি লাভ করবে। অভাব থাকলেও দুঃখ পাবে না। কারণ যখন আল্লাহপাকের আদেশ এবং নিষেধ মোতাবেক স্বীয় জীবন পরিচালিত হবে, তার প্রতি নবীয়েপাক (দঃ) এর নেক দৃষ্টি থাকবে, সৌভাগ্য বশতঃ নবী পাক (দঃ) এর দর্শণও লাভ হতে পারে এবং তার উপর সদা আল্লাহপাকের রহমতের ঝর্ণাধারা বর্ষণ হতে থাকবে। দুনিয়ার প্রতি লোভমোহ প্রবৃৃত্তি, অহঙ্কার, হিংসা, বিদ্ধেষ বলতে থাকবেনা। স্রষ্টার সৃষ্টির মঙ্গলাকাঙ্খি হবে। কারণ, সে আল্লাহপাককে ভালবাসে। তাই, তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালবাসা মায়া মমতা থাকবে। কারো তি কাম্য হবেনা। স্বীয় তি সহ্য করবে, অর্থাৎ সকলাবস্থায় ছবর করবে। কারণ ছবরকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন। ইহজগতের সনাময়িক আনন্দ ভোগ বিলাসের প্রতি থাকবে সদা অনীহা, সব কিছুই অস্থায়ী মনে করবে এবং মালিকি ইলাহী মহান আল্লাহর ডাকে লাব্বাইক অর্থাৎ হাজির বলার জন্য সদা কায়মনো বাক্য প্রস্তুত থাকবে। আল্লাহপাক সকল কর্মকান্ডই প্রত্য করেন। মনোভাব প্রকাশের পূর্বেই বুঝেন ও শুনেন। তার মনের নেক আশা অর্থাৎ পবিত্র আশা পূর্ণ করেন। উক্ত উক্তি গুলোর উপর তার দৃঢ় বিশ্বাস থাকবে। এর সাথে সাথে পরপারে অনন্ত জীবনাবাসস্থল নির্ধারিত হবে স্বর্গ বা জান্নাত। আরো আরো অসংখ্য লাভের বিষয় বিদ্যমান রয়েছে, যা আমার এ ুদ্র জ্ঞানে প্রকাশ করতে পারিনি। মোট কথা, আল্লাহর এবং রাসূলেপাক্ (সাঃ)- এর আদেশ এবংনিষেধ পালনে শুধু লাভ আর লাভ। উক্ত আদেশ নিষেধ পালনে অবহেলা বা অনীহা প্রকাশ করলে উক্ত বিষয় সমূহ থেকে সর্ম্পর্ণ বঞ্চিত হবে। তাতে একাল ওকাল দু’কালেই অশান্তির দাবানলে জ্বলতে থাকবে। তাই উক্ত আদেশ নিষেধ পালনে অনীহা প্রকাশে শুধু তি আর তি।

সুতারাং, যাঁরা উক্ত আদেশ এবং নিষেধ পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অর্থাৎ যারা আল্লাহপাকের হুকুম বা আদেশ তামিল বা আমল করব এবং দুনিয়াকে আখিরাতের উৎপাদান ত্রে মনে করে আমেলর ফসল বুনবে, এ সকল আখিরাতি কর্ষণকারী মুুমন কিষানদের অন্তরের মধ্যে চির লা’আনতি জাহান্নামী আজজিল প্রবেশ করে বিভিন্নাকারে বিভ্রান্তি ওসওয়াসা সৃষ্টি করে, বিভ্রান্তমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিপদ গ্রস্থ করে, পথ ভ্রষ্ট করে এবং তার দল ভুক্ত করে চির জাহান্নামী করার প্রচেষ্টায় সদা লিপ্ত থাকে। কিন্তু যাঁরা প্রকৃত মুুমিন মুসলমান তাঁরা আল্লাহ এবং রাসূলেপাক (দঃ)- এর আদেশ এবং নিষেধ পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জীবনের প্রতিটি কর্মই উক্ত আদেশ এবং নিষেধের আলোকে সম্পন্ন করবে। সুতারাং অন্তর বিবেক কু-মন্ত্রণা এবং বাহিরে বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী সে আজাজিল এবং মানবরূপী নিমকহারাম ধোকাবাজ মুনাফিক ও নাফরমান আজাজিল এবং জাহান্নামী শয়তানেরা প্রকৃত মুমিনদেরকে ধোকা দিয়ে বিপদগামী করতে পারবেনা। প্রত্যেক প্রকৃত মুমীনই আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত হিসেবে জান্নাত লাভ করে চির জান্নাতী হবেন। সুতারাং এবাদাতের দ্বারা লাভ এবং তি উভয়টি মানব কুলের; আল্লাহর নহে। আমলের দ্বারা উক্ত নিয়ামত গুলোর ভাগী হবে এবং আমলে অনীহা প্রকাশে নিয়ামত  থেকে বঞ্চিত হবে।

সূরায়ে ইখলাসের মধ্যে এরশাদ হয়েছে, তা হল  ঃ আল্লাহুস্সামাদ অর্থাৎমহান আল্লাহ কোন কিছুরই মুখাপেী বা মুহতাজ নহেন। উক্ত উক্তি গুলো ওলামায়ে কিরামগনের ল্েয নহে। আমার চেয়েও অনভিজ্ঞ মুমিন ভাইদের জন্য ঘটনাচক্রে এসেছে। সম্মানিত ওলামায়ে কিরামগণকে আদেশ-উপদেশ দানের কল্পনাও করতে পারিনা। কারণ, যাঁরা নায়েবেরাসুল পদে অধিষ্ঠিত অছেন, তাদের একটি পশমের যোগ্যতাও আমার নেই। তাই বলে রজনী প্রহরীর মত হুজুর সহেব জলদি উঠুন, তারাতারি জাগুন মসজিদে আজান হচ্ছে বলে একজন মুসলমান হিসেবে ডাক দেয়ার এতটুকু অধিকার তো রাখতে হবে বলে মনি করি। বরং আজানের ধ্বনি শ্রবন শক্তিতে ধরা পড়ার সাথে নিদ্রাবিভোর মাননীয় হুজুরকে জাগানোর উদ্দেশ্যে ডাক না দিলে চরম বেয়াদবী বা চরম অন্যায় হবে বলে মনে করি। মাননীয় হুজুর বলতে পারেন হে প্রহরী, যখন আজানে ধ্বনি তোমার কর্ণগোচর হয়েছে, ডাকলে না কেন? তাই মুহতারাম হুজুরের তরফ হতে ধমক আসার পূর্বেই ডাক দিয়ে যাচ্ছি।
ঐ মিনারে ডাক উঠেছে, খোলরে মুমিন খোল দোর,
ঘরের কোণে সদি কেটেছে, ধররে জেগে চোর।

যারা আজাজিল কর্তৃক সৃষ্টি অন্তরের ওসাওয়াসাকে মানবরূপী আজাজিলের ধোকা বিভ্রান্ত এবং চক্রান্তকে উপো করে আমলে হিমালয়ের মত অটল অর্থাৎ দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে মুনাফিক নিমক হারাম নাফরমান এবং ধোকাবাজদের চিহ্নিত করে বিশেষ সতর্কতার সাথে আল্লাহ এবং রাসূল (দঃ)- এর পদত্ত দায়িত্ব এবং নির্ধারিত কর্ম রত থাকবে, তাঁদেরকে দেখিয়া আল্লাহপাক গর্বভরে বলতে থাকেন, দেখ হে ফিরেশতাগণ, আমার মুমিন বান্দাদেরকে, তোমরা না বলছিলে আমার বান্দাগণ আমার হুকুম পালন করবেনা? এখন দেখ, তারা আমার হুকুমের বাহিরে এক ইঞ্চিও নড়তে রাযী নহে। মন্দ কর্ম থেকে সদা বিরত থাকে। অসত্য বা অসত্য পথকে বর্জন করে এবং সত্যপথ ধরে আমার দিকে দলে দলে লাব্বায়েক বলে এগিয়ে আসছে। তারা আমার এবং হাবীবের আদেশ এবং নিষেধের উপর দৃঢ়তা আবলম্বন করেছে। তাঁর বান্দাগণ যখন মিলাদ-দরূদ অনুষ্ঠান করে তখন আল্লাহপাক ফিরেশতাগণকে সে দরূদ অনুষ্ঠানে অংশ প্রহনের জন্য দলে দলে পাঠাতে থাকেন। আল্লাহপাক মুুমিন মুসলমান সম্পর্কে ফিরেশতাদের নিকট এমনিভাবে মূল্যায়ন বা মন্তব্য করে থাকেন। মোট কথা হচ্ছে, মানবগণ আল্লাহকে স্মারণের মাধ্যমে তাঁর নিয়ামত সমূহ ভোগ করবে এবং নিষ্পাপ নিষ্কলষ্ক হয়ে নিকের পার্থিব জীবনটাকে পাপমুক্ত করে অর্থাৎ বেহেশতী জীবনে পরিণত তকরে এ অত্যাশ্চর্য্য জাগতিক জীবন-পথ অতিক্রম করে চির জান্নাতবাসী হবে। এটাই আল্লাহপাকের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে মানব জাতি কোন পথে?

অবৈধকে বৈধ, অসত্যকে সত্য, অন্যায়কে ন্যায়, অসম্মানকে সম্মান, অখাদ্যকে খাদ্য, কুশিাকে সুশিা, অনাদর্শকে অদর্শ, কু-সংস্কৃতিকে সু- সংস্কৃতি বলে অখ্যায়িত কারণ মত্ত। যে যুগে আবহাওয়া রীতি-নীতি ও ঋতু মৌসুম যেন সব একেবারে উল্টো হয়ে গেছে। মানবীয় বিবেক-বিবেচনা বুদ্ধি লোপ পেয়ে আচার-আচরণ সবই বদলে গেছে। অমানবতা, অসভ্যতা ও পশুত্যাচরণে পরিপূর্ণ। যে যুগে শিতি বুদ্ধিজীবি বলে দাবীদারগণের মধ্যে থেকে অবৈধ মিলনকে বৈধকরণের দাবী উস্থাপিত হচ্ছে সমকামিতামত চরম পশুত্বের কর্মকান্ডের স্বীকৃতির দাবীও উঠেছে, কোথাও কোথাও তা বৈধ বলে ঘোষিতও হচ্ছে বলে বিশ্ব-সংবাদে জানা গেছে। এটা জানা গেছে যে, আপন ভাই থেকে মানব প্রজনন সম্বলিত পদার্থ আপন বোনের মধ্যে প্রয়োগ করে দু’টো মানবসন্তান প্রসব করিয়েছে শিতি বিশেষ জ্ঞানী গুনী বৈজ্ঞানিক বলে দাবীদারগণ (নাউজুবিল্লাহ্)। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কিন্টনকে বিশ্ব রাজা বল্লেও উত্যুক্তি হয় না। কারণ, বিশ্বব্যপী প্রচারিত হয়েছে। সে কয়বার যে অবৈধ মিলন ঘটিয়েছে তা’ কেইবা বলতে পারে! এভাবে বিশ্ববুকে আহরহ অবৈধ মিলন ঘটছে। নারীগণ এক স্বামী বা এক পুরুষে সন্তুষ্ট নয়। তারাও স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষের সাথে মুক্ত মিলনের দাবী তুলছে। পিতা-কন্যায়, মাতা-সন্তানে, ভাই-বোন কু-সম্পর্কিত খবর প্রায়ই পত্র পত্রিকায় প্রচার হচ্ছে। জুলুম অন্যায় অত্যাচারে পরিপূর্ন সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ মানব নামের জগতটি কোথায় যেন আড়াল হয়ে গেছে। মানব সভ্যতা আজ কত অসহায় তা কি বলার অপো রাখে? এটা যেন পশু জগতের মত এক শ্রেণীর জীবজগত। এ যেন এক অন্ধকার রাহুগ্রাসী যুগ। যে যুগে অন্যায় আত্যাচার জোর-জুলুম বেহায়া বেশরমী নির্লজ্জ বিচার-আচার মান-সম্মান মায়া-দয়াহীন কঠিন নির্দয় রক্তপিচাশী মহাভয়ঙ্কর প্রলয়ঙ্করী বিকট কর্কশ শব্দধারী কুকমের তান্ডবলীলাবাহী ঘুর্ণিপাক প্রবল বেগে ঘুরপাক খাচ্ছে। পূর্বে ছিল নিরর অন্ধকার যুগ আর এ আরিক শিার আলোর যুগে-এ বৈজ্ঞানিক যুগে যে যুগে মানবসুরত গুলো কেঁচো জীবের মত গগন-পাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উপরোল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে এ যুগটিকে আরিক আলোর অন্ধকার যুগ বল্লে উত্যুক্তি হয়না। অল্লাহপাক প্রদত্ত নির্মল কিষ্কলষ্ক নিষ্পাপ ও পবিত্র করণের এবং সর্বেেত্র অগ্রগতি বা উন্নয়নের দিক নির্দেশিকা একমাত্র মহাপবিত্র বিধানকে অগ্রগতির পথে বড় রকমের বাধা বলে মনে করে। জাগতিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি ফেরালে বুঝা যায় মান লজ্জা দয়া অধিকার-অনধিকার, ন্যায়-অন্যায়, ভেদ-বিচার,আদর্শ-শ্লীলতা শালীনতা ব্যবহারের তারতম্যতা, বিবেচনা নীল গগনে যেন লীন হয় গেছে। গভীর অন্ধকার রাহুগ্রাসি গহ্বর থেকে হিংস্রতার বিকট পেতাত্মার এবং রক্ত চোষক রাুসের নির্দয় পিচাশী হু-হু-হা-হা-হি-হি ভয়ঙ্কর রব ধ্বনি, আর অত্যাচারিত মজলুমের আহাজারি ব্যথিতের ব্যথার কাৎরানি অসহায় কান্নাররোল কানে শ্রবণে আসায় কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। আর শুনতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। বিবেক বুদ্ধির অতল গহ্বরের অতলতলে যেন হারিয়ে গেছে। মালিকের ডাক ছাড়া কোথাও যাওয়ার পথ যে নেই তাই থ’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার বিকল্প নেই। জ্ঞান-বিবেক ভুলপথে পরিচালিত হয়ে অন্ধকারের উন্নয়নের জয় জয় ধ্বনিতে হচ্ছে। শুভ বা মঙ্গলের বাতি নিবে গেছে। অশুভ বা অমঙ্গল বাতি লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে তো জ্বলছেই। পিতা-কন্যা, ভাই-বোন, শিক-ছাত্র-ছাত্রী, নেতা-নেত্রীর মধ্যে ভেদা-ভেদ শূন্য হয়ে অশ্লীলতার তান্ডব চলছে। মানবতার নামে সীমাহীন একধরণের উদারতায় আদর্শ সভ্যতা বলতে সর্বস্ব সর্বশান্ত হয়ে গেছে।

মানবাচরণ ধ্বংশ করে পশু আচরণকেও ছাড়িয়ে গেছে। খোলা আকাশের নীচে মানব চলাচল পথে নির্ভয়ে নির্বিঘেœ নারী পুরুষ মিলন ঘটাচ্ছে। ছোট বড় বাদ বিচার ছাড়াই পশুর ন্যায় অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে বা আক্রান্ত হচ্ছে। সন্ত্রাসী, রাহাজানি, খুনাখুনি নিত্য নৈমত্মিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উক্ত বিষয় সনম্পর্কে ভেসে  আসা খবর ছাড়াও দৈনিক পত্র-পত্রিকা গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিলেই কিছুটা ধারণা করা যায়। নবী আখিরুজ্জামান হযরত মুহাম্মদ (দঃ)- এর জামানায়ে জাহেলিয়াতকেও অতিক্রম করেছে। সর্বত্রই নকলের জয়ধ্বনি ধ্বনিত হচ্ছে। অত্যাশ্চর্য স্বপ্নতুল্য এ ণিকের ছায়ালোক ছেড়ে সকল জীবই অনন্তলোকে গমন করছে, করতে থাকবে। অবশেষে এক মূহুর্তের মধ্যেই সবই ধ্বংশ হবে, তুলো তুলো হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ভুলেও ভাবছে বলে মনে হয় না। লোভ, মোহ, প্রবৃত্তি ও অহঙ্কারে অন্ধ হয়ে বিবেক বুদ্ধিচ্যুত হয়ে, ভাই-ভাইকে, সন্তানে-পিতামাতাকে, পিতামাতা সন্তানকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী-স্বামীকে  অহরহ খুন করে যাচ্ছে। উপাসনালয় অর্থাৎ পবিত্র স্থান গুলো অপবিকত্র হচ্ছে। মসজিদগুলোতে কনামাজ, জিকির, তাসবীহ তিলাওয়াতকে সরিয়ে রেখে অর্থাৎ ফরজ নামাজ ছাড়া অন্য সব  নেই বল্লেই চলে। দুনিয়াবি বাকবিতন্ডা ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্ক যেখানে বড় আওয়াজে কথা বলা নিষেধ রয়েছে, সেখানে তাবলীগ বা ওয়াজের নামে বেশী বেশী কথা বলে এবাদতের সময় অপচয় করছে। এরূপ যুগটিকে কিভাবে সভ্য যুগ বলে অখ্যায়িত করা সম্ভব হতে পারে? ধোকাবাজি, নাফরমানি, মুনাফিকিতে ডুবে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। যারা মন্দ-পথগামী, তারাই জুলমাতে বা অন্ধকারে বিচরণ করছে। এ সব পথের পথিক বা কুপথগামিদেরকে জুলমত বা অন্ধকার থেকে নূরের দিকে অর্থাৎ আলোর দিকে নিয়ে নিষ্কলঙ্ক নিষ্পাপ পবিত্রতায় আলোকিত করে, জান্নাতবাসি করার জন্যেই যুগে যুগে মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে। তাঁদের প্রত্যাগমনান্তে সে দায়িত্ব, দায়িত্বশীল পূণ্যবান মুমিনগনের এবং ওলামায়ে কিরাম ও নায়েবে রাসূলগণের উপর আরোপিত হয়। কিন্তু পদবীর দাবীদার হতে অনেকই দেখা যায়, কিন্তু দাবীদারগণের মধ্যে অনেকেই হুজুরপাক (দঃ)-এর পূর্ণ অনুস্মরন করতে পারছেন বলে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কারণ, হুজুরপাক (দঃ)-এর কথা কর্ম এবং ব্যবহারের সাথে অসম্পূর্ণতা বা মোকাম্মলিয়াতের অর্থাৎ পরিপূর্ণতার অভাব পরিলতি হয় বর্তমান নায়েবে রাসূলগণের অনেকের মধ্যেই। যেমন সাহাবায়ে কিরামগণ হুজুরপাক(দঃ)-এর পূর্ণানুসারী ছিলেন। তাদের আমলের মধ্যে মোকাম্মলিয়াত ছিল এবং কামেলিয়াত পরিপূর্ণভাবে ছিল। কারণ তাঁরা দ্বীন-ধর্মের আলোকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে পরিপূর্ণভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি নর ও নারীকে পূণ্যবান ও আদর্শবান করে গড়ে তোলা এবং শান্তি সুখের আদর্শ রাষ্ট্র জনগনকে উাপহার দেয়া। যেখানে ঝগড়া কলহ বিবাদ বিসম্বাদ থাকবেনা, অভাবমুক্ত থাকবে। মানুষে মানুষে মহব্বত ভালবাসা থাকবে। একে অপরের সাহায্য সহানুভূতি এবং সহযোগিতা থাকবে প্রত্যোক ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে মিশে একটা জান্নাততুল্য রাষ্ট্র গড়ে তুলব, তাঁরা তখন সেভাবে গঠন করেও ছিলেন। তাঁদের প্রত্যাগমনের পর অধিকাংশ ওলামায়ে কিরামগণের উদাসীনতার বা দুর্বলতার সুযোগে মানবরূপী নিমকহারাম, নাফরমান, মুনাফিক, ধোকাবাজ, লাআনাতী চির জাহান্নামী বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী আজাজিল মানবান্তরে প্রবেশ করে, দ্বীন এবং রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংশ করে দিয়েছে। বিশেষ বিশেষ ওলামায়ে কিরামগণ ভাল ভাবেই অবগত আছেন যে, খোলোফায়ে রাশিদীন, তাবিঈ, তাবিতাবিঈন, আইম্যায়ী মুজতাহিদীনের যুগ সম্পর্কে, উক্ত যুগে মুনাফিক কর্তক কিভাবে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছিলেন?

মাঝে মাঝে আল্লাহরাব্বুল ইজ্জাত তারিব, মুসা, খালিদ বিনওয়ালীদ এবং গাজী সালাহ্ উদ্দিন আইয়ুবীর মত কিছু কিছু মাজাহেদ সৃষ্টি করে এবং অলী বুজুর্গের মাধ্যমে ইসলামকে জেন্দা রাখেন। আজ সে ইসলাম যে গভীর অন্ধকারই পুনঃ প্রবেশ করল। কারণ বর্তমানে ওলামায়ে কিরামগণ এবং নায়েবে রাসূল দাবীদারগণ সামাজিক কর্মকান্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে অবস্থান করছেন বিধায় সমাজ থেকে ছিটকে পড়ে আছেন। তাই, লোক সমাজে তাঁদের তেমন একটা গুরুত্ব নেই বল্লেই চলে। গুরুত্ব না থাকার কারণেই তাঁদের হেদায়েতমূলক বক্তৃতায় বা ওয়াজে তেমন কার্যকর হচ্ছেনা বলেই আজ মুসলিম সমাজের এ দুরাবস্থা। ওলামায়ে কিরামগণের মধ্যে কিছু সংখ্যক ওলামায়ে কিরাম যেমন বিশেষ ত্যাগ তিতিার মাধ্যমে দ্বীনি শিাদানে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন, ঠিক তেমনিভাবে যদি জীবনকে বাঁচিয়া রাখার কলা-কৌশলাদি শিার ব্যবস্থা করে সমাজের সাথে জড়িত থেকে নিজেদেরকে সমাজ সেবায় অর্থাৎ জাতীয় সেবায় নিয়োজিত রাখতেন তবেই মুসলিম জাতি প্রথম যুগের মত উন্নত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারত। কচ্যুত উল্কার ন্যায় ধ্বংশের দিকে যেতনা।

প্রহরী বাজাই হুইসেল ঃ মুসলিম সমাজ-উন্নয়নে বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরামগণকে প্রকৃত মৃজাহেদর ভূমিকা গ্রহণে অপরিহার্য। অর্থাৎ কথায় এবং সরেজমিনে কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন পূর্বক মুসলিম সমাজকে ইসলামের নির্দেশিত পথে এগিয়ে নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ রেষা-রেষি বিবাদ- বিসম্বাদ লোভ-মোহ প্রবৃতি সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে ইত্তেহাদ ইত্তিফাক সৃষ্টি করতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোন মাসলা মাসায়েলের সমস্যা দেখা দিলে তা বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরামগণ একসাথে হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান দিতে হবে এবং বর্তমান ধ্বংশোস্মুখ মুসলিম সমাজকে আলোর দিকে টেনে আনতে হবে। শ্রদ্ধেয় নায়েবে রাসূলগণ ভালভাবেই অবগত আছেন যে, সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম এবং মোজাহিদে ইসলামগণ শুধু দোয়া- প্রার্থনা দিয়েই দ্বীন প্রচার করেননি। সরাসরি কায়মন বাক্যে শ্রম প্রদানের মাধ্যমেই সমাজ সেবক হিসেবে ব্যক্তিগত এবং সমাজগত সমস্যার সমাধান দিয়েছিলেন। আজও তাঁদের পূর্ণানুসারীগণকে ঠিক সে ভূমিকাই গ্রহন করতে হবে। এ দায়িত্ব মুমিনগণের এবং ওলামায়ে কিরামগণের প্রতি আল্লাহপাক এবং নবীপাক (সাঃ)-এর প্রদত্ত দায়িত্ব্। হুজুরপাক (দঃ) বিদায় হজ্জে কি বলেছেন ওলামায়ে কিরামগণ ভালভাবে অবগত আছেন বিধায় তা আর বলার অপো রাখেনা। এ দায়িত্বে অবহেলার কারণে একদিন আল্লাহপাকের মহাদরবারে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। উক্ত বাক্যগুলো কুরআন এবং হাদিসের আলোকে আপনাদের তরফ থেকে উচ্চারিত শব্দের প্রতিধ্বনি করছি এবং রজনী প্রহরীর মত সমাজ সতর্কতার হুইসেল বাাজাচ্ছি মাত্র। জেগে দেখুন, আপনাদের দুর্বলতার সুযোগে নানারঙে নানা সুরতে, বহুরূপী নকল আলেম সেজে চোরের ন্যায় সিদ কেটে চলেছে ইসলামের ঘরে ঘরে। কালপেন না করেই ত্র“টি মুক্ত হয়ে খিদমাতে খালকের নামে এ রাহুগ্রস্থ মুসলিম সমাজকে রাহুমুক্ত করণে মুমিন ভাইদেরকে এবং সম্মানিত ওলামায়ে কিরামগণকে এগিয়ে আসতে হবে সতর্কতার সাথে। যেমন একজন ছাত্র কাশে নিদ্রারত শিক সাহেবকে জাগানোর অধিকার রাখতে পারে এবং একজন রজনী প্রহরী যেমন সমাজ সতর্কধ্বনি করার অধিকার রাখতে পারে, ঠিক  তেমনিভাবে বিজ্ঞ ওলামায়েকিরাম এবং নায়েবেরাসূলগণের প্রতি জাগরণী ডাক দেয়ার অধিকার একজন মুসলমান হিসেবে কি পেতে পারিনা?

ওলামায়েকিরাম ও নায়েবেরাসূলগণ আমার মত নগন্য একজন আল্লাহর গোলামের দ্বীনের দায়িত্ব চেতনার ডাকে সাড়া না দিয়ে যদি উল্টো এ বলে প্রশ্নবান নিপে করেন যে, তুমি দ্বীন সম্পর্কে কি অভিজ্ঞতা রাখ ও তুমি ডাক দেয়ার কে? প্রথম উত্তর কিছুই জানিনা। দ্বিতীয়টি হল, ডাকার মত কেউ না থাকলে অমি একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে রজনী প্রহরীর মত ঘরে চোর ঢুকেছে বলে ঘুমন্ত মনিবকে জাগানোর জন্য বা বিপদ সঙ্কেত দেয়ার অধিকার রাখি। আর জানা না  জানার মধ্যে এতটুকু জানি যে, আমার আল্লাহ এক অদ্বিতীয় নিরাকার, তিনি সর্বস্রষ্টা আর তিনিই সবার উপর। তিনিই সর্বশক্তিমান। সবই শুনেন বুঝেন দর্শণ করেন। সর্বগুণের অধিকারী তিনি সর্বময় বিরাজমান। তিনি ব্যতীত এক অণু-পরমাণু স্থানও খালি নেই। তাঁর কোন উদাহরণও নেই। তিনিই একমাত্র মালিকি ইলাহী আহকামুল হাকীমীন করুণাময় আল্লাহ, আমার ত৭ার সকল সৃষ্টিই তাঁর প্রতি। এক মুহুর্তও অপোর অবকাশ নেই। আরও জানি, তাঁরই প্রেরতিপুরুষ নবী মুহুম্মদ (দঃ) নবীগণের মধ্যো সর্বশ্রেষ্ঠ এবং নিঃসন্দেহে সর্বশেষ নবী। তাঁরই মাধ্যমে প্রাপ্ত আলকুরঅন নিঃসন্দেহে আল্লাহর মহাপবিত্র বাণী। এখানে দোজাহান সম্পর্কিত তথ্যাদি এবং যাবতীয় বিধানসমূহ বিদ্যমান। তাই আমার একমাত্র মহান আল্লাহর মহাপবিত্র বাণী কুরআন শরীফের উপর কোন প্রকার আঘাতের আলামত দৃষ্টিগোচর হলেই আমি আল্লাহর গোলাম হিসেবে সে আঘাতের প্রতিঘাতের ব্যবস্থা করা আমার জন্য ফরজ বা বিশেষ করনীয় বলে অনুধাবন করি বলেই যে ক’টি আঘাতের চিহ্ন আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে, তা থেকে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন এ ুদ্র পুস্তকটির মাধ্যমে বিশেষ বিজ্ঞ ওলাময়ে কিরামগনের দৃষ্টিলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। নায়েবে রাসূল এবং ওলামায়ে কিরামগণ জেগে উঠে যেন এ চিহ্ন ধরেই চোর সনাক্ত করতে পারেন এবং আরো আরো কোথা কোথা সিঁদ কেটেছে বা আঘাত হেনেছে তা পর্যবেন করেন। দেশরা বাহিনীর মত দ্রুত পদপে নেবেন। কারণ, মুমীনগন এবং ওলামায়ে কিরামগণই আল্লাহর সৈনিক অর্থাৎ ইসলামী দুনিয়ার সৈনিক। তাঁরাই ইসলামী দুনিয়ার সাদাজাগ্রত অতন্দ্রপ্রহরী। তাঁরাই আল্লাহর  সৃষ্টি জগতের খাদেম অর্থাৎ খিদমাতে খালকে নিয়জিত থাকবেন। তাঁরাই হবেন অনুসরণযোগ্য চরিত্রের অধিকারী এবং বিশেষ যোগ্যতার অধিকারী নায়েবে রাসূল। তাঁদের মধ্য থেকে ধর্মীয় অলোকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ী আমানতদার শিক-শিকিা গবেষক সমাজ ও দেশ পরিচালক। তাঁদের মধ্যে থাকাবনা হিংসা-বিদ্বেষ রিয়া-অহঙ্কার লোভ-মোহ প্রবৃত্তি তাঁরাই হবেন কু-রিপুর দমনকারী আল্লাহ ছাড়া কারো মুখাপেী হবেন না। সদা দরূদে রাসূল ও নবীপাক (দঃ) কে স্মরণে রেখে এবং আল্লাহকে সাথে রেখে স্বনির্ভর হবেন। জান এবং মান আল্লাহ এবং রাসূলেপাক (দঃ)-এর জন্য ওয়াকফ করবেন। সব কিছু কুরবান করবেন। তাঁরাই হবেন বর্তমান আলো-আধারে চিরন্তন উজ্জ্বল তারকার মত পথ নির্দেশকের প্রতীক। কোথা কিভাবে দ্বীনের দুশমনেরা আঘাত হেনে চলেছে, সে দিকে সদা দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবেন অবশ্যই।

জাগ্রত প্রহরী

এ পুস্তকটি প্রকাশের পূর্বেও মহাসংকেত নামক একটি পুস্তক দ্বীন ভাই-বেনদের খেদমতে পেশ করে পবিত্র আল-কুরআনের অবমাননাকর নানাজনের নানা তৎপরতাসহ ইসলামের সুনির্দিষ্ট চিরন্তনী রুকনসমূহে নানারূপ সংযোজন বিয়োজন বিষয় সম্পর্কে মুসলিম বিজ্ঞ-সুধীজনদের দৃষ্টি আকর্ষণে এরূপ কলুষকর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও ব্যবস্থা গ্রহণে আহ্বান রেখেছি। দ্বীনি বিজ্ঞজন ও অনেক সুধীজনদের সাথে ব্যক্তিগত আলোচনায় উল্লেখিত বিষয়ে ত্বড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানোর সাথে সাথে আমি আমার তৎপরতা অব্যাহত  রেখে নিজেকে ইসলামের শত্র“দের বিরুদ্ধে আরো জোরালো হওয়ার ঐকান্তিক তগিদ অনুভব করছি। এ ল্েযই আমি আমার গভীর চিন্তায় দ্বীনের খেদমতে আমার প্রচেষ্টাকে সাধ্যমতো আঞ্জামের ল্েযই পূর্বে প্রকাশিত মহাসঙ্কেত প্রস্তকটির অন্তর্ভূক্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পুস্তক প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ার তাগিত অনুভব করি- যা এ পুস্তকখানি।

দ্বীনি ভাইবেনেরা, সৃষ্টিতে আদি মানব ও আল্লাহতায়ালার মনোনীত নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও মানবী হযরত বিবি হাওয়া আলাইহাস্ সালামের সৃষ্টির ইতিহাস আমার প্রায় সকলেই জানি। আমার এ-ও জানি সৃষ্টির সেরা মানবের প্রতি সম্মান দেখানের আল্লাহতায়ালার নির্দেশের প্রতিপালনে অনীহার অপরাধে মর্যাদাশীল ফেরেশতা সরদার রাব্বুল আলামীন আল্লাহতায়ালার লানত পেয়ে চির অভিশপ্ত হয়ে জান্নাত থেকে চিরতরে বহিস্কৃত হয়। ফলে অভিশপ্ত মরদুদ শয়তান বা আযাযীল নামধারী আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত বিবি হওয়া আলাইহাস সালামের প্রতি চির বিদ্বেষ বশতঃই তাঁদেরকে তার মতোই চিরানন্দ অতুলনীয় চির সুন্দর সুখের জান্নাত হতে বিচ্যুৎ করে তার সমঅবস্থানে আনার চেষ্টায় ব্রতী হয়। এ অপচেষ্টার কৌশলেই ধোকা দিয়ে হযরত আদম আলাইহাস সালাম ও মতা হাওয়া আলাইহাস সালামকে কঠিন পরীায় ফেলে এ মর্তাধামে নামিয়ে আনতে সফল হয়।
কলঙ্কিত-রানতির এ আজাজিল শয়তান সুন্দর মানবতাকে অকলঙ্কে কলঙ্কিত, কল্যাণকে অকল্যাণে, ভালোকে মন্দে, নির্দোষকে দোষে, নিশ্চিন্তকে চিন্তিত, শান্তিকে অশান্তিতে, সুখকে অসুখে, সুন্দরকে অসুন্দরে, লোভহীনকে লোভে, নিষ্কলুসকে কলুষিতে, নির্ভেজালকে ভেজালে, পবিত্রকে অপবিত্র অর্থাৎ ঈমানকে বেঈমানে পরিণত করে তার মত অভিশপ্ত জীবন পরিচালনায় দুনিয়াকে সর্বাবস্থায় আশান্তময়ে খোদাদ্রোহী পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রতিটি আদম সন্তানের পেছনে সর্বসময় তৎপর হয়ে আছে। সে তার অপকর্মে বিনিন্দ্র সদা তৎপর।
মহান আল্লাহ রাব্বুলআলামীন-এর নবী-রাসূলের অনুসারী নায়েবে রাসূল উলামায়ে কেরামগণ ও মুমীন মুসলিমদের  পবিত্র কর্মে চির লায়ানতির আজাজিল বাঁধা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের মুক্তির পথে রূদ্ধ করার চেষ্টায় সর্বণ মত্ত। কারণ আজাজিল মনে করে ইহারাই তার এমতাত্র পরম শত্র“। এদের ধোকা দিয়ে বিভ্রান্ত করতে পারলে চিরসত্য পথের সন্ধানে সহজে কেউই অগ্রসর হতে পারবেনা। পরিনামে হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত বিবি হাওয়া আলাইহাস সালামকে ধোকার মধ্যে জান্নাত হতে বের করে আনার উদ্দেশ্য  সফল হবে এবং এতে তার লায়ানতির সাথী হবে আদম সন্তানগণ।