মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৩

সৃষ্ট জীবে, সেরা কেন?

সৃষ্ট জগতের  শাসক একমাত্র  সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ। তাঁরই শাসন কার্য চলছে তাঁরই সৃষ্ট জগতে। তাঁর  একটি  মাত্র সংসদ রয়েছে, সদস্যবর্গের মধ্যে ফেরেশতাকূল,  জীব্রাইল (আঃ) হচ্ছে বিশেষ  বার্তা বাহক। সাংসদ  গনকে নিয়েই মহান আল্লাহ্  তাঁরই সৃষ্টরাজ্য পরিচালনা করেন। সৃষ্ট মাখলুক্বাতকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে উক্ত ফেরেশতাগণকে নিয়োগ করে রেখেছেন। একটা জীবের সজীবতার রার জন্য যত সংখ্যক উপাদান বা পদার্থের প্রয়োজন তত সংখ্যক বা ততাধিক সংখ্যক ফেরেশ্তা নিয়োজিত রয়েছে। যারা সাংবাদিকতায় নিয়োজিত রয়েছে, তাঁরা-ই মহাসংসদ দরবারে নিত্য খবর পরিবেশন করে চলেছে। যারা জীব যন্ত্রের কর্মকান্ড  সর্ম্পকে বার্তা সংগ্রহ ও সংগ্রাহক যন্ত্রে সংগ্রহ  করার কাজে নিয়োজিত, তারা তাদের সে দায়িত্ব পালনে রত রয়েছে।  তারা কস্মিন ও একে অন্যের কর্মে হস্তপে করেনা। এমনিভাবে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট জীবরাজ্য সুন্দর সু-শৃঙ্খলভাবে  পরিচালনা করে   যাচ্ছেন। ফেরেশতা নামের সদা জাগ্রত সেনা বাাহিনী কর্তৃক সমগ্র সৃষ্টজগত পরিচালিত হচ্ছে। এ সেনা বাহিনী সদা জাগ্রত এবং সদা সতর্কাবস্থায় আপনাপন দায়িত্ব পালনে মত্ত রয়েছে। মহান আল্লাহর এ সকলের প্রয়োজন  কি? তিনিতো স্বয়ং সৃষ্টি কর্তা, এমন কোন স্থান নেই যে, যেখানে তাঁর অবস্থান নেই।এমন কোন বস্তু নেই,  যা তিনি প্রত্য করেন না। তার সৃষ্টি জীব যন্ত্রের কার্যকলাপ সম্পর্কেও সদাবগত। এমন কোন জা’গাই যখন নেই, যেখানে মহান সৃষ্টিকর্তার অবস্থান নেই। তাহলে  সকল জীবের  মধ্যে স্রষ্টার অবস্থান থাকবেনা কেন? নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর  অবস্থান প্রত্যেক জীবের  মধ্যেই রয়েছে।  মানব জীব ছাড়া অন্যান্য  জীবকূলের মধ্যে অবস্থান সত্বেও তারা মহান আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেনা। কারণ তারা মানবাক্বল শুন্য। তাদের  মধ্যে নবী প্রেরণ করা হয়নি। তাই তারা আল্লাহর  সাথে সংযোগ স্থাপনের নিয়ম নীতি সম্পর্কে অবগত নয়। সে কারণে মহান আল্লাহর মহাদরবারে  জাওয়াবদিহীতা নেই। মহানস্রষ্টা আল্লাহ মহাপবিত্র আল-ক্বোরানে বলেছেন, আমি মানবকে  আক্বল জ্ঞান বুদ্ধি  বিবেক দিয়েছি এবং কলম দ্বারা শিা দিয়েছি। তাদের  মধ্যে নবী-রাসূল  প্রেরণ করেছি এবং বিশ্বের   রহমত হিসেবে  ,নবীগণের সরদার, আমার প্রিয় হাবীব হযরত মোহম্মদ (দঃ) এর মাধ্যমে আমার মহা পবিত্র বাণী“আল-ক্বোরন” তাদের উপর অবর্তীণ করেছি। তাই মহান আল্লাহর দরবারে মানবকূলের জাওয়াবদিহীতা রয়েছে। প্রিয় নবী র(দঃ) বলেছেন (ক্বালবুল মুমীন আর্শুল্লাহ) অর্থাৎ মুমীনের  অন্তরে বা ক্বালবে আল্লাহর ঘর এবং স্রষ্টার নৈকট্য  লাভ করতে পারে।  আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্যই নীতি-নিয়ম  বিধিমালা বিধান “আল-ক্বোরন” তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছে। এ বিধিমালা লংঘণকারীকে নরক নামক সাজার ভিতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এবং মহাদরবারে তাদের জাওয়াবদিহীতার ব্যবস্থা রয়েছ। মহানস্রষ্টা প্রথম জ্বীন জাতি সৃ্িষ্ট করেন এবং তাদের দ্বারা ল কোটি  বৎসরকাল অবধি পৃথিবী  আবাদ করেন। ক্রমেই উদ্ভিদ বৃরাজি এবং প্রাণী সৃষ্টি করেন। সেই মানকূলকে সু-শৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার জন্য আরো ব্যবস্থা করলেন, তা-হলো নবী এবং রাসুলগণের সৃষ্টি। নবী রসূল মোজাদ্দেদ ওলীয়ে কামেল পীর, মাশায়েখ, কবি, দার্শনিক, সাহিত্যক এবং বৈজ্ঞানিক ্ইত্যাদি সৃষ্টি করলেন। মানব জাতি, জ্বীন এবং ফেরেশতাকুলে বিধিমাল্ াঅনসরণ অনকরণের মাধ্যমে প্রাধান্যতা লাভ করতে পারে। তারা বিশেষ বুদ্ধি বিবেক আক্বলের অধিকারী। তাই এ বিশেষ জাতিকে শাসন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও রয়েছে। সে ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে উক্ত গুণধ জ্ঞানী-গুণী বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী উক্ত গুণধর ব্যক্তিবর্গগণ।  কিন্তু তাতে ও মানবকুল শান্তি সু-শৃঙ্খল সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে পারছেনা। তার একমাত্র কারণ বিপদগামী চির নরকী আজাজিল মানবের রগে রেশায় প্রবেশের মতা লাভ। সে মানবের রগে রেশায় বিবেকান্তরে প্রবেশ করে ক-প্ররোচনার মাধ্যমে মানবকে বিভ্রান্তিতে নিপে করে বিপদগামী করে। কিন্তু মানবের জ্ঞান, বিবেক এবং আক্বলের নিকট  অবশেষে পরাজয় বরণ করে। যে সকল মানব আক্বল জ্ঞান বিবেককে সুন্দর সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা  করতে পারেনা কেবল তারাই কুচক্রি আজাজিল শয়তানের চক্রান্তের স্বীকার হয়ে বিপদগামী হয়। যে শয়তান চক্রের আয়ত্ত্ব সীমায় এসে যায়, তখন তার অন্তর বিবেক চু অন্ধ হয়ে যায়। তখন তাদের সরল সঠিক রেখা পথ থেকে পদস্খলন ঘ্েট এবং ল্যচ্যুত হয়ে এলো  পৌঁছতে পারেনা। তার পড়শী বা পার্শ্বা  পথিকদেরকে ও বিভ্রান্ত করে, তখন উভয়ই ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। এমনি ভাবেই বর্তমান বিশ্ব সমাজ বিভ্রান্তির আবর্তে আবর্তিত হচ্ছে  এবং পদস্খলিত কচ্যুত উল্কার ন্যায় তীর্যক তীর বেগে প্রজ্জলিতাবস্থায়  অল্েয ধাবিত হচ্ছে। এ ধ্বংসোম্মুখ থেকে বর্তমান বিশ্ব সমাজকে একমাত্র মহান মাধ্যমেই করে থাকেন সৃষ্টির আদি থেকে যেভাবে রা করেছেন। প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিপাকে ধৃত বিশ্ব ঘুরপাক খাচ্ছে। এ মহা সঙ্কটাবস্থায় নিপতিত বিশ্বকে রা করতে বিধাতা যেমন নবী রাসূল প্রেরণ করেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে মহান ব্যক্তিত্বের   অধিকারী কোন মহান ব্যক্তি পুরুষের আবির্ভাব ঘটাতে পারেন।  অন্যথা এ গভীর অন্ধাকারাচ্ছন্ন মেঘের ঘনঘাটায়  আচ্ছাদিত বিশ্ব সমাজকে রার কোন প্রকার লক্ষ্মণই পরিলতি হচ্ছেনা। ঠিক এমনি ভাবেই বিশ্ব সমাজ অসংখ্যবার গভীর হতে গভীরতর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিলো, তখনই গ্রন্থ সহকারে মহামানব প্রেরনের মাধ্যমে মহান করুণাময়  আল্লাহ নিমজ্জিত সমাজকে উদ্ধার করেছিলেন। সেই মহানমানবগণ যে  পথ নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা অনুসরণে যত দিন চলেছিল সীমিত সময়ের জন্য হলেও শান্তিতে ছিলো। পুনরায় যখন বিপদগামী শয়তানের চক্রের চক্রতালে পড়লো এবং
    বিভ্রান্তাবস্থায় সরল কচ্যুত হয়ে অশান্তির দাবানলে জ্বলে পুড়ে খাক হতে লাগলো। বিশ্ব বিশৃঙ্খল  অশান্ত বিপর্যয় বলয়ের দিকে ধাবিত হলো। এ নরক তুল্য জীবন-কারাগার  থেকে মুক্তিদানের ল্েয যথাযথ মহা গ্রন্থ প্রেরিত হলো কিন্তু মানব জাতি বিভ্রান্ত হতে হতে অশান্তির দাবানলে জ্বলতে শুরু করলো। আবার মানবকুল শ্বাস রূদ্ধকরাবস্থায় পতিত হয়ে মুক্তির  আশায়  উর্দ্ধশ্বাসে দিক শুন্য হয়ে ছুটা-ছুটি করছিলো, উম্মুক্ত মুক্তির  দ্বারাশায়। ঠিক সময় মত স্রষ্টার প্রচলিত নিয়মানুসারে বিশ্বমানবকে অশান্তির  কারাদ্বার ভেঙ্গে শান্তি কাননে প্রবেশ করানোর ল্েযই সর্বশেষ  যুগে সর্ব শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (দঃ) কে মহা পবিত্র গ্রন্থ “আল-ক্বোরন” সহকারে অশান্ত ভূ-পৃষ্ঠে প্রেরণ করলেন। যিনি এ গ্রন্থ বাহক হযরত মোহাম্মদ (দঃ) কে শেষ নবীরূপে স্বীকার করবেন, অদ্বিতীয় আল্লাহকে একমাত্র স্রষ্টা জানবেন  এবং আল-ক্বোরানকে মুক্তি বিধান হিসেবে জেনে তদানুসারে জীবন  জীবিকা পরিচালনা করবেন, তিনিই মুসলমান। আল-ক্বোরান শুধু মুসলিমের   জন্যে-ই প্রেরিত হয়নি, সমগ্র বিশ্ববাসীর মুক্তির নির্দেশিকা হিসেবে প্রেরিত হয়েছে। সুতরাং বিশ্ববাসী যদি এর নীতি-নিয়ম বিধানাবলি অনুসারণে দৃঢ়তা প্রদর্শন না করে,  তবে মুক্তির আশাই বৃথা।