বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

সর্বশক্তিমান মহা আলো (তৃতীয় অংশ)

রেসাল অর্থ পত্র যিনি আল্লাহর পত্র বহন করেন তাকে রাসূল বলা হয় অর্থাৎ পত্র বাহক, তিনি আল্লাহ সর্বশেষ পত্র বা গ্রন্থ অর্থাৎ মুক্ত বাণী ‘আল-কুরআন’ দিয়ে গেলেন বলেই তাঁকে রাসূলাল্লাহ্ বলা হয়।
বিঃদ্রঃ মহা আল্লাহর অবস্থান অসীমে, অসীমে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সীমিতাংশের নাম করণ করেছেন নভোমন্ডল এবং ভূমন্ডল। মন্ডল দ্বয় অসীমে একটি সীমার মধ্যে নভোমন্ডলের মধ্যেই ভূমন্ডল বা সৌরমন্ডলগুলো অবস্থান। সৌরমন্ডল বা মর্তমন্ডল গুলো, নীহারিকা, গ্ল্যাক্সি, কসমস, গ্রহ নক্ষত্র, মোট কথা স্রষ্টার যত সৃষ্টি রয়েছে, সবই সীমিত নভোসীমায় অবস্থিত। এ নভোসীমার বাহেরে অর্থাৎ আল্লাহ নামক অসীম শক্তির অসীমে আর কোন সৌরমন্ডল বা মর্তমন্ডল নেই। সুতরাং আর কোন আবিষ্কারের অবকাশ নেই।
দ্বিতীয়ত, সম্মানের সাথে ‘দরুদ’ এবং নবী (দ:) এর ওপর সালাম পাঠের মহা আদেশ। লক্ষণীয় বিষয়, সর্বশক্তিমান, আল্লাহ, কুরআন, শরীফের কোথাও এমন উক্তি করেননি, যেমন করেছেন নবী (দ:) এর ওপর সম্মানের সাথে ‘দরুদ’ এবং সালাম পাঠেরোক্তি। যেমন আমি এবং আমার ফেরেশতাগণ আমার নবী (স:) এর ওপর দরুদ আদবের সাথে সালাম, তথা সালামত, করুণা, বারক্বাত,রহমত সূচক শব্দ পাঠ করি, তোমরাও আমার অনুসরণ কর! লক্ষ্য করুণ আল্লাহর যে কোন আদেশ লঙ্ঘনকারী, জান্নাত, তথা স্বর্গ থেকে বঞ্চিত হবে। যেমন সংসদের কোন একটি সাংসদ যদি উক্ত সংসদের সংবিধানের একটি বিধান লঙ্ঘন করে সে সাংসদের স্থান আর উক্ত সংসদে নেই। এমনি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রদত্ত অতুলনীয় মহা সংবিধান ‘আল-কুরআন’ আল কুরআনের মহাবাণী আল্লাহর মহা উক্তি মহা বিধানের অতুলনীয় মহা বিধান লঙ্ঘন করে  চলেছে, মুসলিম জগতের একটি বিরাট অংশ। উদ্ধৃত মহা বাণী বা মহোউক্তি সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করেছে। উদ্ধৃত বাণীটির ন্যায় কুরআন শরীফের, কোথাও আল্লাহ এমন বাণী প্রয়োগ করেননি। যদিও নামায সম্পর্কে ৮২ বার বলেছেন, নামায কায়েম বা প্রতিষ্ঠা করতে। উদ্ধৃত বাণীর ন্যায় এমন উক্তি করেননি, যে, আমি এবং আমার ফেরেশতাগণ নামায পড়ে, তোমরাও সম্মানের সাথে নামায ক্বায়েম কর। রোজা, যাক্বাত, এবং হজ্জ সম্পর্কেও এমন উক্তি করেননি। সুতরাং প্রতিয়মান হচ্ছে যে, “বিস্মিল্লাহ্” সমগ্র সৃষ্টি জগতের ভিত্তি এবং সর্বমহা গ্রন্থ অবতীর্ণের সর্ব প্রথম আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বাধীন অবতীর্ণ শব্দ বা সূরা “বিসমিল্লাহ” বাক্যটি স্বয়ং একটি অতুলনীয় সর্বোৎকৃষ্টতম বাক্য। এ বিসমিল্লাহ বাক্যটি পূর্বেও ছিলো বলে, ১৯ পারার সূরা নমলে উদ্ধৃত করে নবী (দ:) কে অবগত করান তাই বিসমিল্লাহ শরীফের আঁয়াত বা বাক্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করলো। স্রষ্টার সৃষ্টির জীবের মধ্যে উত্তম জীব মানব। মানব যখন সভ্যতা ছেড়ে অসভ্যতার জগতে প্রবেশ করে এবং যে সমাজ সভ্যতা হারিয়ে ফেলে, সে সমাজ বা রাষ্ট্র আদর্শ সমাজ বা রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য হতে পারে না। সেখানে ন্যায়, সততা, সত্যতা, সভ্যতা, মানবতা, লজ্জা মান্যতা, আদর, স্নেহতা, পবিত্রতা, ভালবাসা থাকে না। জীব এবং বস্তু তরল বা কঠিনে আপন-আপন, ধর্মের নীতিতে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে তা চিরকাল প্রতিষ্ঠিত থাকবে। মানব যখন অমানবতার জগতে প্রবেশ করে তখনি মহা মানব, কবি দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে, ধর্মহীনতার কোন মূল্যায়ন হয় না। ধর্মহীন বস্তু বা পদার্থের কোন মূল্য নেই, যেমন চুম্বকের ধর্ম আকর্ষণ, আকর্ষণ শক্তি যদি  না থাকে সে চুম্বকের কোন মূল্যায়ন হয় না। যা ব্যবহার যোগ্য নয় বুঝতে হবে তাতে ব্যবহারের যোগ্যতা পবিত্রতা, বৈধতা, কার্যক্রম নেই সুতরাং অনুমেয় হচ্ছে যে, যা ব্যবহার যোগ্য নয় তা মূল্যহীন। যা মূল্যহীন তা অনাদৃত। সকল তরল, কঠিন, বস্তু, পদার্থ, প্রাণ স্রষ্টা থেকে ধর্ম প্রাপ্ত হয়েছে। যেমন চুম্বক পেয়েছে আকর্ষণ ধর্ম তার কর্মই আকর্ষণ করা, অন্যটা নয়। পানির ধর্ম বৃক্ষ তথা উদ্ভিদ জগতে বা প্রাণ জগতে বর্ষিত হয়ে সতেজ, সচেতন করা। তৃষ্ণার্থের, পিপাসা নিবারণ করা। বৃক্ষের ধর্ম অক্সিজেন, ছায়া এবং ফল দান করা। মানব ব্যতীত সকল জগত যে ধর্ম পেয়েছে সে, সে ধর্ম মতে কর্ম করে যাচ্ছে। অন্য কিছু করার মতো বা আপন মতে রুপান্তর করে ভোগ করার জ্ঞান বা বিবেক প্রাপ্ত হয়নি। একমাত্র মানবই তা পেয়েছে। স্রষ্টার সৃষ্টি জগতকে বিভিন্ন রূপে রুপান্তর করে ভোগছে তাই তাদের মধ্যে দিক নিদের্শক মহামানব প্রেরিত হন। তাই আক্বল জ্ঞান, প্রাপ্তির মূল্য দিতে হবে। অবৈধকে পরিহার করে বৈধতাকে প্রাধন্য দিয়ে। প্রতিয়মান হচ্ছে যে, মানবজাতির জন্য ধর্মই কর্ম, কর্মই ধর্ম নয়। কারণ অবৈধতা জ্ঞান বিবেকের কর্ম নয় বলে, কর্ম হিসেবে গণ্য হয় না। তাই মানবজাতির কর্মই ধর্ম নয়, ধর্মই কর্ম, ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা গ্রহণীয় তাকে কর্ম হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। অন্য সব সৃষ্টি জগতে নির্দিষ্ট যে কর্মটি প্রাপ্ত হচ্ছে তাছাড়া অন্যটা করার ক্ষমতা নেই বিধায় আপন-আপন প্রাপ্ত কর্মটি সম্পন্ন করে যায়। চুম্বকের কর্ম বা ধর্ম একটাই, আকর্ষণ করা। তার এ আকর্ষণ শক্তি হারিয়ে গেলে তার কোন মূল্য নেই কারণ সে কর্মহীনাবস্থায়, এখন সে নিষ্প্রাণ প্রাণহীনকে মৃত বলা হয়। তার কোন মূল্যায়ন নেই, মূল্যহীন নি®প্রাণ একটি জড় বস্তু মাত্র। সৃষ্টি জগতের অন্য কোন জীব, বস্তু, প্রাণের স্রষ্টার সৃষ্টির মর্ম বুঝার রূপ রং রস  আপন চাওয়া বিবেক মোতাবেক প্রস্তুত করে ভোগ করার মতো ক্ষমতা নেই। কিন্তু মানব, তা পারে কারণ তারা বৈধ-অবৈধ বুঝার মতো আক্বল জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে। তারা জ্ঞান থেকে বাচতে শিখেছে। অসত্যতা, অসভ্যতা, তাদের কর্ম নয় মহামানব কর্তৃক আনিত মহা গ্রন্থের বিধান পালন, তাদের ধর্ম, ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা গ্রহণীয় তা-ই তাদের কর্ম বা ধর্ম। সুতরাং মানবজাতির জন্য ধর্মই কর্ম যা ধর্ম নয় তা কর্ম নয়। তাই মানবের জন্য ধর্মই কর্ম। কর্মই ধর্ম বাক্যটি মানবের তরে নয়। মহামানবগণের মাধ্যমে অবতীর্ণ বিধি-বিধান অর্থাৎ সর্বশক্তিমান অপরূপ শক্তিধর “আল্লাহ্” নামক আলোর প্রদত্ত বিধান অনুসরণেই অসভ্যতার সমাজ, সভ্য সমাজে পরিণত হয়। মহামানবগণ নিজেস্ব কোন বাণী প্রয়োগ করার অনুমতি প্রাপ্ত হন না। মহামানবগণ স্রষ্টা হতে যে বাণী প্রাপ্ত হন, তাকে স্রষ্টার বিধান বাণী তথা নীতি বাণী বলা হয়। স্রষ্টার বাণীগুলো হতে, যে কোন একটি বাক্য বা বাণীকে উপেক্ষা, অবহেলা, এঙ্কার, তুচ্ছ, এবং অবমূল্যায়ন করে বা ত্যাগ করলে, স্রষ্টা প্রদত্ত সে বাণী বা বিধানের সীমায় অবস্থান করার অধিকার রাখে না বা সে, সে ধর্মের আওতাভুক্ত থাকবে না। “কুরআনে কারীমের সর্বস্রেষ্ট বাক্যটির বিষয় আলোচনা”

সর্ব স্রেষ্ট বাক্যটি পারা নং ২২ (বাইশ) কুরআনে কারীমের বাইশতমাংশের ৫৬তম বাক্যটির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে বুঝা যা যে, বাক্যটি কুরআনে কারীমের সকল বাক্য বা আদেশ থেকে সর্বোত্তম বাক্য বা আদেশ। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে কোথাও এমন বাক্যোক্তি করা হয়নি যে, আমিও করি আমার ফেরেস্তারাও অর্থাৎ আমার দূতেরাও করে, হে আমার বিশ্বাসীগণ, আমার কৃত কর্মটি তোমরাও সম্মানের সাথে সম্পূর্ণ কর!। পূর্বোদ্ধৃত বাক্যটি হলো “ইন্নাল্লাহা= নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ এবং আমার দূত বা ফেরেস্তাগণ ছোয়াল্লু আলাইহি অর্থাৎ তাঁর ওপর দরুদ পড়ি অর্থাৎ দোয়া তথা রহমত, বারক্বাত, করুণা, বর্ষণ করি আলান নাবীই, আলা অর্থ ওপর অর্থাৎ আমার দোস্ত আমার হাবীবের ওপর অর্থাৎ। আমার নবীর ওপর তথা মুহাম্মাদ (স:) এর ওপর। করুণাময় আল্লাহ করুণার সাথে বলছেন, ইয়া- অর্থাৎ হে, ওহে  ওগো এই যে, তোমরা যারা আমার ওপর বিশ্বাস করেছ, সন্ধোধন সূচক হে আমার বিশ্বাসীগণ তোমরাও আমার দোস্ত, হাবীব, মুহাম্মাদ (দ:) এর ওপর, দরুদ অর্থাৎ দোয়া করুণা, রহমত, বারক্বাত, সূচক শব্দ পাঠ কর বা রহমত বর্ষণ কর। এবং সম্মানের সাথে তাজীমের সাথে সালাম পাঠ কর তথা সালামত শান্তি বর্ষণ কর! পূর্ণ বাক্যটি (ইন্নাল্লাহা-ওয়া-মালাই=কাতাহু ইউ ছোয়াল্লাুনা আলান্নাবীই ইয়া-আই-ইউহাল্লাজীনা- আমানু ছোয়াল্লু আলাইহী ওয়া সাল্লেমু তাসুলীমা”)। আমি এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী (দ:) এর ওপর দরুদ পড়ি, হে, আমার বিশ্বাসীগণ তোমরাও সম্মানের অর্থাৎ তাজীমের সাথে দরুদ এবং সালাম পাঠ কর। মহাগ্রন্থ কুরআনে কারীমের উদ্ধৃতোক্তিটি সর্বোৎকৃষ্টতম উক্তি, যে কর্তৃক লঙ্ঘীত হবে সে আল্লাহর রহমত, বরক্বাত, করুণা এবং জান্নাত অর্থাৎ স্বর্গ থেকে বঞ্চিত হবে। আল্লাহর, সে আদেশ সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম সর্বোৎকৃষ্টতম সর্বপ্রথম আদেশটির প্রতি দৃষ্টি বিবদ্ধ করা যাক।  জিব্রাঈল (আ:) এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম সর্বপ্রধান আদেশ সূচকোক্তিটি, (ইক্বরা বিসমি রাব্বি কাল্লাজী খালাক) উদ্ধৃতোক্তিটি উচ্চারিত হওয়ার পূর্বে জিব্রাঈল (আ:) এবং নবী (দ:) এর মধ্যে আলীঙ্গন হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রাপ্ত, উচ্চারিত শব্দটি-ই  কুরআনে কারীমে সর্বপ্রথম উচ্চারিত শব্দ। ‘ইক্বরা’ প্রথম উচ্চারিত শব্দ নয় প্রথম  উচ্চারিত শব্দটি ব্যতীত, নবী পাক (দ:) (ইক্বরা) উচ্চারণ করেননি। যাঁর নাম উচ্চারণান্তে ইক্বরা শব্দটি পাঠের আর্দিষ্ট হচ্ছেন। তাঁর সে নাম সূচক শব্দটি হচ্ছে, (আল্লাহ) এ আল্লাহ নামে বাক্যটি উচ্চারণান্তে ইক্বরা শব্দ উচ্চারণ করতে আর্দিষ্ট হচ্ছেন অর্থাৎ (আল্লাহর নামে) বাক্যটি “বিসমিল্লাহ্”। বিশেষ লক্ষণীয় বিষয়ঃ নামাযের মধ্যে যে দরুদে ইব্রাহীম (আ:) এবং সালাম পাঠ করা হয় তা হচ্ছে যে তাশাহুদের মধ্যে পাঠের জন্য নির্দিষ্ট। আল্লাহ এবং ফেরেস্তাগণ দরুদ এবং সালাম পাঠ করেন। যে কোন সময় পবিত্রাবস্থায় পাঠ করতে হয় এবং করার বিশেষ আদেশ আল্লাহ এবং ফেরেস্তাগণের খাস দরুদ এবং সালাম সর্বাবস্থায় সর্ব জায়গায় পাঠ করা যায় তবে স্থান এবং শরীর পাক পবিত্র থাকা উত্তম।

বিঃদ্রঃ নামাযের যে “দরুদ এবং সালাম পড়ি নবী (দ:) এর তাঁর স্বজনগণের অর্থাৎ আলে রাসূলগণের উপর, ইব্রাহীম (আ:) এর এবং আলে ইব্রাহীম (আ:) এর ওপর শান্তি, দয়া, করুণা, রহমত, এবং বারক্বাত, বর্ষণ লক্ষ্যে পাঠ করা হয়। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, “আসসালামু আলাইনা” উদ্ধৃত বাক্যে এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে, নবী (দ:) তাঁর ওপর এবং অনুসারীগণের আল্লাহর পক্ষ থেকে রাহমাত এবং বারাক্বাত কামনা করছেন। কিন্তু  দ্বিতীয়, আসসালামু আলাইকা আইইউ হান্নাবিইউ অর্থাৎ আল্লাহর এ বাক্যটিতে উক্তি করছেন যে, হে নবী (দঃ) আপনাদের ওপর আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার রাহমাত বারাক্বাত বর্ষন করছি। ২২ (বাইশতম) পারার সূরা (আহজাবের) ৫৬তম আয়াত বা বাক্যের মধ্যে যে সালাম শব্দ উচ্চারিত হয়েছে এবং দরুদের কথা বলা  হচ্ছে তা এক নয়। এক হলে (ছোয়াল্লু) এবং সাল্লেমু তাসলিমা পৃথক-পৃথক ভাবে বলা হতো না। দরূদ শরীফ যতই বেশী-বেশী পাঠ করা হয়। ত-ততই ভালো, কিন্তু নবী (দ:) এর ওপর আল্লাহর আদেশ মতে সম্মানের সাথে প্রদান বা পাঠ না করলে, আল্লাহর বিশেষ আদেশ লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য, তখন স্বর্গ বা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়ে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো এবং মুনাফীক, নিমকহারাম, নাফরমান ও ভ্রষ্ট পথের পথিক হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে রিক্ত হস্তে মুমীনগণ হতে দূর থেকে দূরান্তরে ছিটকে নরক গহ্বরে পতিত হয়ে চির তরে ধ্বংশের পথে ধাবিত হবে। আল্লাহর এ মহান আবদারজনীত উক্তি বা আদেশটি সম্পর্কে সম্মানীত ওলামায়ে কিরামগণ বিশেষ ভাবে অবগত বা এ বিষয়ে বিশেষাভিজ্ঞ। এ মহা আবদারজনীত উক্তিটি নিশ্চয়ই-নিশ্চয়ই আমি এবং আমার দূত বা ফেরেস্তাগণ আমার হাবীব মুহাম্মাদ (দ:) এর ওপর দরূদ পাঠ বা পড়ি অর্থাৎ রহমত, বারক্বাত, দয়া, করুণা, শান্তি, সালামত বর্ষণ করি। বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরামগণ যখন অবগত তখন লেখার প্রয়োজন কেন? উদ্ধৃত উক্তি সম্পর্কে সকল অবগত নয় বিধায় লেখতে হয়। মানবজাতির মুক্তির পথ প্রদর্শক হিসেবে নবী মুহাম্মাদ (দ:) কুরআন এবং হাদীস শরীফ রেখে গেছেন। প্রত্যেক উম্মাতি মুহাম্মাদীগণের তা অবশ্যাবশ্যই অনুসরণীয়  বা অনুকরণীয় বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় “কুরআন”।