বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

ধর্ম কি ও কেন?

মানুষ যখন মানবিকতা হারিয়ে, পাশবিকতায় প্রবেশ করে, গভীর অন্ধকারে নিপতিত হয় তখনই বিশৃঙ্খল পরিস্থির সৃষ্টি হয়। কেবল তখনই, পথ ভ্রষ্টদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে এনে, আদর্শ সমাজ গড়ার ল্েযই ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। ধর্ম অর্থ- কর্ম। যেমন, চুম্বকের ধর্ম আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ উভয়ই। চুম্বক সমমেরুতে বিকর্ষণ এবং বিপরীত মেরুকে আকর্ষণ করে। এটা তার জন্মগত অধিকার এ জন্মগত অভ্যাস বা জন্মগত ধর্ম বা জন্মগত কর্ম।
মানুষও এমনি যেসব কর্ম করে সেটাই তার ধর্ম। যেমন সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করা, লেখাপড়া- খেলাধুলা করা, চাষ করা, নতুন নতুন আবিষ্কার করা ইত্যাদি। এই ধর্মের জন্যেই তার সৃষ্টি। যেমন- চুম্বক আকর্ষণ এবং বিকর্ষনের জন্য সৃষ্টি। যখন সে এই ধর্ম পালন করে তখনই তার জন্ম সার্থক।
অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে, কেউ ভালভাবে বাঁচতে পারে না। তার মৃত্যুই অবধারিত। যেমন- পানির জীবকে ডাঙ্গায় বসবাস করতে দিলে, সে বাঁচবে না? মানুষকে, পানির তলে বসবাস করতে দিলে বাঁচবে না। এজন্যে, কোন প্রাণীর জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কারো উচিত নয়। স্ব- স্ব অধিকার- জনিত ধর্ম বা কর্ম থেকে বঞ্চিত হলে বা দূরে থাকলে ধ্বংস অবধারিত।
বৃরাজিতে বসবাস করা এবং আকাশে বিচরণ করা, আহারের ল্েয জলে- স্থলে এসে, আহার শেষে, বৃরাজিতে চলে যাওয়াই তাদের ধর্ম বা কর্ম।  তার ধর্ম মতে-কর্ম না করে যদি আকাশ ছেড়ে, স্থলে থেকে যেতে  চায় বাচার ল্েয , পারবে কি? না পারবেনা। স্থলচরদের উর্ধ্বাকাশে  বসবাসের অধিকার নেই। যেমন স্থলচারিদের অধিকার আকাশে নেই। “গগনচরি যখন, হতে চাইবে স্থলচরি, পারবেনা থাকতে যাবে সে মরি”  প্রতি শক্তির আক্রোশে  বা আক্রমনে উভয়ই ধ্বংস হয়। তাই স্ব-স্ব জাতিগত, ধর্মগত জীবন জীবিকা পরিচালনা করতে হয় । যার যেখানে, আকাশে -পাতালে, জলে- স্থলে বৃরাজিতে চলে যেতে হয়, এটাই নিয়ম- এটাই কর্ম বা ধর্ম। ম্ব-স্ব ধর্ম মতে না চললে- তার ধ্বংস নিশ্চিত। মূলতঃ স্ব-স্ব ধর্ম-কর্মের বিপরীত হলেই তা অনাকাঙ্খিত। সকল প্রকার প্রাণী স্থলচরি- স্থলে, গগনচরি- গগনে এবং  সকল বস্তুকেই স্ব-স্ব ধর্মানুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে। কর্মই জীবন, কর্ম না থাকলে প্রাণহীন বা মৃত্যু বলা  যেতে পারে। কর্মহীনতা জীবন নয়- কর্মই জীবন। জীবন নেই, কর্ম নেই, কর্ম নেই জীবন নেই, জীবনহীন- অর্থাৎ মৃত, । যে বস্তু বা প্রাণীর কর্ম নেই তার প্রাণ নেই।  এটাই চিরন্তন সত্য।
সকল জীব এবং বস্তুর মধ্যে জীবন জীবিকার রীতি-নীতি বা ধর্ম- কর্ম রয়েছে।
তদানুযায়ী চলাই তার জন্য বাঞ্চনীয়। মৃত্তিকার ধর্ম, উৎপাদন। উৎপাদন শক্তি না থাকলে, সে মৃত্তিকা মূল্যহীন। কারণ বৃৃ ফসলাদি- ফলরাজি , উৎপাদনেই মৃত্তিকার একান্ত কর্ম। ফলজ বৃৃ ফল না দিলে সেও সাধারণত: মূল্যহীন। তবে ঘর সরঞ্জাম বা জ্বালানির জন্যে কাজে আসে। আগাছাকে বাতিল বৃ-লতা বলে ধরা হয়,অর্থাৎ প্রয়োজন বর্হিভূত। এই আগাছারও একটা ধর্ম আছে। তা হলো জ্বলন শক্তি, জ্বলন শক্তি না থাকলে নিপ্তি হয় আবর্জনার স্তুপে। তবে, একেবারে বিফলে যায় না । ময়লাতে পরিণত হয়ে, পঁচে- গলে- গ্যাসের সঞ্চার করে। তাও মানবের মঙ্গলজনক কাজে আসে বা বিপদও ডাকতে পারে। যেমন ল-কোটি বৎসরের জমাকৃত গ্যাস, পরবর্তিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি করতে পারে। মোট কথা, সকল জীব এবং বস্তুর মধ্যেই জীবন জীবিকার জন্য বা ধর্ম সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে কল্যাণ শক্তি রয়েছে। তাই আপনাপন ধর্ম- রীতি- নীতি মোতাবেক তারা কাজ করে যাচ্ছে। স্ব-স্ব- ধর্ম মতে কাজ করে যাচ্ছে বলেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ বলতে কিছুই নেই। মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত নিয়মে সকল জীব বৃ-লতা, গ্রহ, উপগ্রহ, নত্ররাজি-নিহারিকা- গ্যালাক্সি, যত সৌর মন্ডল সবই। তাই তাদের কর্ম েেত্র কোন প্রকার ব্যতিক্রম বা অনিয়ম দেখা যায় না। কারো ক পথে কেউ গমন  বা অনাধিকার প্রবেশ করছে না। স্ব-স্ব ক পথেই চলছে তো চলছে। যার কর্ম আলো বিকিরণ করা- সে তাই করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যেও সমশক্তি সম্পন্ন আকর্ষণ-বিকর্ষণ রয়েছে। কেউ-এক অন্যকে টেনে নিতে পারছেনা বা- বিকর্ষণের মাধ্যমে অন্যটিকে তার স্বীয়  ক পথ থেকে সরিয়ে দিতেও পারছে না তাই পদস্খলিত হয়ে কেউ ক চ্যুত হচ্ছে না।
উল্কার ন্যায়-গ্রহ যদি একটিও পদস্খলিত হয়, সব ধ্বংস হয়ে যাবে। 
গ্রহ-উপগ্রহ- নত্র গুলো কতইনা শান্ত। আপনাপন গতিতে স্বীয় কর্মে রত রয়েছে।
মানব শ্রেষ্ঠ প্রাণী, অথচ কতইনা বিশৃঙ্খল। আমরা রীতি -নীতি এবং ধর্ম-কর্মে কতইনা, উদাসিন । ঝগড়া, মারা-মারি, খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, জেনা, অনাধিকার চর্চা- ইত্যাদি সকল অকর্মই- আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। পশুদের মধ্যে ঝগড়া হলেও এক বা একাধিক ক্রমে মিমাংসা করে। প দ্বয়ের মধ্যে একটি নতি স্বীকার করে এবং যত তাড়াতাড়ি ঝগড়ার স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু মানুষ এক প অন্য পকে জানে-মালে ধ্বংস করা ছাড়া নতি স্বীকার করতে জানে না। জানলেও রিপুর তাড়নায় পারে না। স্বীয় অধীনে, এ রিপুকে যে রাখতে পারে সেইতো বীর। মহান স্রষ্টা আল্লাহ মানুষকে অতি আগ্রহ করে সৃষ্টি করেছেন। গ্রহ, উপগ্রহ, নিহারিকা, গ্যালাক্সি, সৌর জগৎ সবকিছু মানুষের কল্যাণের  ল্েযই সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মৎস্য যেখানে চাষ করা হয়, সেখানে যেন সুন্দরভাবে লালিত পালিত হতে পারে তার জন্য সকল ব্যবস্থা বর্তমান রেখেই মৎস্য পোনা ছেড়ে দেয়া হয়। ধরা যাক, মৎস্য পালনের জায়গা ইকুরিয়াম। ইকুরিয়ামের মধ্যে মৎস্য-খাদ্য বর্তমান রেখেই মৎস্য ছাড়া হয়। যতণ না মৎস্য চাষের উপযোগী হচ্ছে ততণ মৎস্য ছাড়া হয় না। তাই মহান স্রষ্টা আল্লাহ প্রথম মানব বসবাসের উপযোগী করেই মানব জাতিকে এ ধরা ধামে পাঠিয়েছেন। কারণ তাঁরা আল্লাহকে স্মরণ বা তাঁর ইবাদাতের মাধ্যমে জীবন যাপন করবে। তাঁর আদেশের বাইরে তারা চলবে না। তারা হবে অনুসারী অনুগামী। তারা, তাঁর হাবীব- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কথা মান্য করবে। শান্তির সুন্দর সমাজ গড়বে এবং মহান স্রষ্টার আদেশ নিষেধের আলোকে জীবন যাপন করবে। যারা তাঁকে স্মরণের মাধ্যমে জীবন- জীবিকা অর্জন করবে এ অস্থায়ী সীমিত পথ শান্তি সুখে অতিক্রম করবে। তারা স্বর্গীয় জীবনের অধিকারী। সে মানবগণ আজ কোথায়? তাঁর প্রদত্ত খাদ্যতো ভোগ করা হচ্ছে। বেতন ঠিকই নেয়া হচ্ছে কিন্তু কারখানা চলছে না। যারা বেতন ভোগ করবে কর্ম করবে না তাদেরকেই তো নিমক হারাম বলা হয়। সৃষ্টিকুলের মধ্যে মানব শ্রেষ্ঠ জীব। তাদের ধর্ম অর্থাৎ কর্ম হবে শ্রেষ্ঠ। মানবকে যে জ্ঞানের অধিকারী করেছে, অন্য পশু পাখিকে সে জ্ঞান প্রদান করা হয়নি। তাই পশুদের কোন গ্রন্থ বা মহা পশু আসেনি। যেমন মানব কুলে মহা মানবগণের আগমন ঘটে। তবে ল্য করার বিষয় হচ্ছে যে, অন্য সব জীবন জগত যেখানে জীবন-জীবিকার্জনের জ্ঞান লাভ করেছে, মানুষও সেভাবে জীবন জীবিকার্জনের জ্ঞান লাভ করেছে। কিন্তু একটি জ্ঞান অতিরিক্ত দিয়েছে, যা শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। উক্ত শ্রেষ্ঠ জ্ঞানটির কারণেই মানবকুলকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়। মানব স্রষ্টার আদরের সৃষ্টি। তাই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে। তারা তাদের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানের মাধ্যমে স্রষ্টাকে এবং স্রষ্টার সৃষ্টিকে চিনতে পারবে। বুঝতে পারবে তাদের সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে এবং দায়িত্ব সম্পর্কে? জ্ঞানটি হচ্ছে আগুন, পানি, মাটি, বাতাস, আলো, মাটির গভীরে লুকানো তৈল, গ্যাস, সোনা, রৌপ্য, পিতল, দস্তা, হিরা, মুক্তা, পেট্রোল, ডিজেল, পাথর, চুনা পাথর, কয়লা, সিমেন্ট, বালি ইত্যাদি স্রষ্টা প্রদত্ত নিয়ামত পশু পাখি, বৃলতা মোট কথা সব সৃষ্টকে বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানবই ভোগ করতে পারে। অন্যরা তা পারে না। তাই তাদের হিসেব নেই, প্রশ্নোত্তর নেই। মানুষের আছে কারণ মানব সর্বভোগি।  যদিও মানবের জন্য সব সৃষ্টি, তারা সরাসরি পশু পাখিদের ন্যায় ভোগ করতে পারবে না। তাদেরকে বিবেক বুদ্ধির দ্বারা স্বীয় হস্তে মুখরোচক খানা তৈরি করে খেতে হবে। কিন্তু পশুরা উৎপাদন করতে অর্থাৎ খানা তৈরি করে খেতে পারে না। মানুষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহান স্রষ্টার সৃষ্ট সব কিছুই ভোগ করে থাকে। মানুষকে সব ভোগের মতা কেন দেয়া হলো? দেয়া হলো এ জন্য যে, তারা স্রষ্টার ইবাদাত করবে। ইবাদাত কিভাবে করবে? নীতি নিয়ম কি? ইবাদাত কাকে বলে? কি কি কর্ম কিভাবে করলে ইবাদত হবে? পূর্বেই তা বলা হয়েছে।
ইবাদাতের পথ নির্দেশনা প্রদানের ল্েযই মহামানবগণের আগমন ঘটেছে। তাদের মাধ্যমে যে সকল গ্রন্থ মানবকুলে এসেছে, তাতেই ভোগের নীতি নিয়ম প্রদত্ত হয়েছে। মহাগ্রন্থে প্রদত্ত নীতি নিয়মানুযায়ী ভোগ করলে এবং মানবতা রা করলে সমাজকে কলুষ- মুক্ত রেখেই সুন্দর শান্তি সুখের সমাজ গঠন এবং স্রষ্টা প্রদত্ত দানগুলো ভোগের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ল্েয দৈনিক পাঁচ বার নামাজের মাধ্যমে মালিকের সামনে উপস্থিতিকে পূর্ণ ইবাদত বলা হয়। অন্য কথায় ইসলামের মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কর্তৃক আনীত যে মহাগ্রন্থ আল ক্বোরআন এবং হাদীস, তার আলোকে জীবন যাপন করার নামই ইবাদাত।

রাতের আলো

নবীপাক (সাঃ) এর সেবা কর্মে খুশি হয়েছিলো আরবেরা। তাই আরব বিশ্বে এবং তার বাইরেও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিলো। বর্তমানে তেমন কোন ইসলামী সংগঠন পরিলতি হচ্ছেনা। কিছু থাকলেও মানব সেবামূলক নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এগুলোর মূল ল্য হচ্ছে অর্থোপার্জন। সেবার কাজ হচ্ছে শতকরা দশ ভাগ। সম্মানিত বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কিরাম এবং মুমিন বুদ্ধিজীবিগণের প্রতি আল্লাহ এবং রাসূল (সাঃ) প্রদত্ত দায়িত্বের প্রতি বিশেষ সচেতনতা অবলম্বনের জন্য প্রার্থনা রইল। সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ আপনারা জানেন, সূরা মাউনের মধ্যে বলা হয়েছে, সে সকল নামাজীদের দুর্ভোগ যারা এতীম, মিসকিনের সাথে দুর্ব্যবহার করে  এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে।  উক্ত বাণীতে বুঝানো যাচ্ছে  যে, যারা নামাজ পড়ে অথচ মন্দ কর্মও করে ।  যারা ভালো কর্ম অর্থাৎ সেবা মুলক কর্ম করেনা তারা নবীপাক (সাঃ) এর ন্যায় সমাজ সেবক হতে পারে না। সুতরাং আপনাদেরকে নবীপাক (সাঃ) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে । কি কি কর্ম করলে অনুকরণ-অনুসরণ করা হবে, তা আপনারা ভালোই  জানেন। এখনও যদি সজাগ না হন, একতা , রা না করেন এবং ত্যাগ স্বীকার  না করেন তবে ইসলামের অগ্রগতি ব্যাহত হবে।
দেখা যাচ্ছে যে, ওলামায়ে কেরামগণের মধ্যে বিরোধের দেয়াল গড়ে উঠেছে। ক্বোরআন এবং হাদীস শরীফ যথার্থভাবে অনুসরণ-অনুকরণ হচ্ছে না। তাই ইসলামের তরী অগ্রে না গিয়ে পেছনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
ধর্ম বিষয়ে কমাভিজ্ঞ হয়েও বেশী অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে গিয়ে, স্থান-কাল-  পাত্র বিচার- না করে -যা মুখে আসে প্রকাশ করে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের নিকট বোকা বনে যাচ্ছেন অনেক আলেম। বিষয়টি মাথায় রেখেই যে কোন পদপে নেয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ধর্মীয় বিষয়ে কমাভিজ্ঞ ব্যক্তি নিজেকে বুদ্ধিমান বলে পরিচয় দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজকে বিপদগামী করে ফেলছে। তাই ধর্মের-মানবতার- জাতির- ব্যক্তির- সমাজের অগ্রগতি না হয়ে, শান্তির তরীটি হাওয়ার স্পর্শে পাগলা জলের ঢেউ তরঙ্গে হাবডুবু খাচ্ছে। এমনি দুর্যোগ অবস্থায় মাঝি-মাল্লা-সতর্ক না হলে, শান্তিতরীটি অশান্তাবস্থায় অচিরেই তলিয়ে যেতে পারে। যাত্রীগণকে, সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সাবধানতার রশিকে শক্ত হাতে ধরতে হবে। নবীপাক (সাঃ) এর জীবনটাই সমাজের সাথে স¯পৃক্ত ছিলো। সামাজিক কর্ম কান্ডে পুরোপুরি ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। ব্যক্তি এবং সমাজকে তথা মানব জাতিকে পথ নির্দেশনা প্রদানের ল্েযইতো মহামানবগণের আগমন ঘটে। একবার এক ব্যক্তি এসে নবীপাক (সাঃ) কে, জিজ্ঞেস করলো-ইয়া-রাসূলাল্লাহ্ আমি অর্থনৈতিক ভাবে বিশেষ কষ্টে আছি. আমি এখন কি করবো? আমাকে সু-পরামর্শ দানে যেন হুজুরের মর্জি হয়। নবীপাক (সাঃ) বললেন, তোমার ঘরে এমন কোন কিছু আছে কি? যা বিক্রি করলে তোমার বিশেষ কোন তি হবেনা। উক্ত ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এমন কিছুই নেই, তবে একটি কম্বল আছে, যা বিক্রি করলে তেমন কোন প্রকার সমস্যা হবেনা। তিনি কম্বলটি নিয়ে আসতে বললেন। তা নিয়ে এলে নবীপাক (সাঃ) তার কম্বলটি বিক্রি করে, সেই অর্থ দ্বারা কাঠ কাটার একখানা কুড়াল ক্রয় করে ,উক্ত ব্যক্তির হাতে তুলে দিলেন এবং বললেন, যাও এদিয়ে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো, আল্লাহর রহমতে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।তখন থেকে লোকটির জীবনের উন্নতির চাকা অনুকূলে ঘুরে গেলো। এটি নবীপাক (সাঃ) এর সমাজ সেবার, জলস্ত দৃষ্টন্ত নয় কি? ব্যক্তি সুখি হলে সমাজ সুখি, সমাজ সুখি হলে, রাষ্ট্র সুখি। সমাজ উন্নয়নের প্রতি বিশেষ ইংগিত্ বহন করছে এ ঘটনা। যে সমাজ অভাব মুক্ত, সে সমাজ শান্তির সমাজ। যদি ধর্মীয় আলোকে সমাজ গঠিত হয়, তবেইতো ধর্মের স্বার্থকতা। সার্বিক মুক্তির ল্েযইতো ধর্মের আগমন ঘটে। ধর্মের আলোকে সমাজ গঠন হলেই অভাব থাকবেনা। ধর্মীয় রীতি নীতি থেকে যে সমাজ দূরে অবস্থান করে, সে সমাজ অমানিশার অন্ধকারে তলিয়ে যায়।

নবীর অতিথি সেবা

মহাগ্রন্থ  আল-ক্বোরআন  এবং হাদীস শরীফকে বিশ্বমানবের কাছে উপস্থাপন  করে বসে ছিলেন না বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বরং স্বীয় হস্তে কর্ম করে দেখিয়ে দিয়েছেন, মানবতার সেবা কাকে বলে। উদাহরণ স্বরূপ একটি ঘটনা সম্পর্কে না বললে নয়। ঘটনাটি এরূপ, একদা এক আগন্তুক এসে নবী পাক (সাঃ)  এর নিকট রাত যাপনের জন্য আশ্রয় কামনা করলো। নবী পাক (সাঃ) লোকটির থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিজ মহলে চলে গেলেন। লোকটি পানাহার করে শুয়ে গেলো বটে কিন্তু তার ঘুম হচ্ছিলো না চট্পট্ করছে আর যেন কি ভাবছে। এমতাবস্থায় তার পেটের পিড়া শুরু হয়ে গেলো। দ্রুত  বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সে পাচ্ছিলো না বিধায় বিছানাপত্রে মলমূত্র ত্যাগ করে ফেলে। এ দিকে রজনী প্রায় শেষ, ভোরের আজানের সময় আগত। এমন সময় নবীপাক (সাঃ) তাঁর মেহমানকে দেখতে এলেন, মেহমান কি অবস্থায় রাত যাপন করেছে। এসে দেখতে পেলেন  এক করুণ দৃশ্য। বিছানাটি ময়লায় ভর্তি।   দেখে নবীপাক (সাঃ) পেরেশান হয়ে পড়লেন। লজ্জায় অবনত হয়ে এ বলে মা প্রর্থনা করলেন মহান আল্লাহর দরবারে, হে আল্লাহ  আমাকে মা করো। হে আল্লাহ্ লোকটি সারা রাত কতইনা কষ্ট  করেছে । হে আল্লাহ আমায় মা করো তাকে যদি পেতাম সুস্থকরে বিদায় দিতাম। নবীপাক  (সাঃ) এই বাক্যগুলোর মধ্যে বসে নেই। তিনি মনে মনে এবং উচ্চস্বরে বলছেন আহা লোকটি কোথায়- বলতে বলতে ময়লা যুক্ত বিছানা পরিস্কার করছেন, এমনি সময় বিছানা উঠাতে গিয়ে বিছানার নীচে একখানা তরবারী পেলেন এবং তা স্ব-হেফাজতে রেখে- দুঃখ ভারাক্রান্ত  মনে বলতে লাগলেন আহা, লোকটির তরবারী কিভাবে পাঠাই। এদিকে পেটের ব্যথা উপসম  হওয়ার সাথে সাথে লোকটি এসে গিয়েছিলো। লোকটি নবী পাক (সাঃ) থেকে একটু দূরে আড়ালে দাঁড়িয়ে, সব শুনছিলো। নবীপাক (সাঃ) ব্যথাহত চিত্তে  যে- যে কথা গুলো ব্যক্ত করেছিলেন সবই লোকটি শুনে ব্যথিত চিত্তে ভাবলো যে,  এমন এক মহামানবকে মারতে এসেছি ? সে নিজেকে প্রশ্ন করলো, আমার মতো  কু-চক্রান্তকারী, বদ-বখ্ত,  বদনছিব, ধরাধামে নেই। কি ভাবে আমি আমার কর্মের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবো। এমনি সময়, নবীপাক (সাঃ) কে বলতে শুনলো যে, লোকটাকে পেলে- তার সেবা করতাম এবং তার তরবারী খানা দিয়ে দিতাম। উক্ত কথাটি শুনার সাথে সাথে- লোকটি নবীপাক (সাঃ) এর সামনে হাজির হল, নবী পাক (সাঃ) তাকে দেখে খুশী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই তুমি রাতভর এতো কষ্ট করেছো আমাকে ডাকনি কেন? এখন কেমন আছ ? নাও তোমার তরবারী খানা। লোকটি তরবারী খানা নিয়ে নবীপাক (সাঃ) এর ক্বদম মোবারকে রেখে বললো ইয়া-রাসূলাল্লাহ্, আপনি সত্য-সত্যই আল্লাহর রাসূল- কোন সন্দেহ নেই। “আমি মূলতঃ মুসাফির ছিলাম না”- আমি এসেছিলাম আপনাকে  হত্যা করতে। ইয়া-রাসূলাল্লাহ্ আপনি আমাকে মা করুন এবং পবিত্র ইসলামে দিতি করুন। এ কি  ব্যবহারের ফল নয় ?  এখানে, ব্যবহার এবং সেবার ফলই পরিলতি হচ্ছে। এ জন্যেই বলা হয় “চরিত্র মাথার তাজ স্বরূপ”। বাদশাহর মাথার তাজ না থাকলে যেমন মানায় না, তেমনি চরিত্র সুন্দর না হলে মানুষের মূল্যায়ন হয় না। “ব্যবহারে বংশের পরিচয়” কথাটি চিরন্তন সত্য নয় কি ?  নবী পাক (সাঃ) যদি লোকটির কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে- বদ বাক্য ব্যবহারে মানুষ ইসলামের পতি আকৃষ্ঠ হয়েছিল। যদি তরবারী খানা- না দিয়ে তার সাথে রুক্ষ্ম ব্যবহার করতেন তবে লোকটির মন জয় করতে পারতেন না। পথভ্রষ্ট, অর্থাৎ কাফেরগণ ইসলাম ধর্মে দিতি হয়েছিলো নবী পাক (সাঃ) এর আচরণে। নবী পাকের সাহাবাদের সুন্দর মনোমুগ্ধকর ব্যবহার করতেন যা আমাদের কাছে মোটেও  আশা করা যায় না। নবীপাক (সাঃ) অন্যকে খাওয়াতে গিয়ে নিজে  উপোস অর্থাৎ অনাহার  যাপন করেছেন, অপরের শান্তির জন্য।  মানুষকে দুনিয়ার নরক থেকে বাঁচিয়ে, ওপারে চিরস্বর্গ বাসি করার ল্েয আপন শান্তি নিদ্রাকে, হারাম করেছিলেন।  শান্তি প্রদানের ল্েযই  নবী পাক (সাঃ)  এর আগমন ঘটেছিলো। উনার আগমনের সাথে সাথে বিশ্বের শান্তির দ্বার উন্মুক্ত হয়।
উম্মুল মূূমিনীন হযরত খাদিজা (রাঃ) নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব পাঠালে, নবী পাক (সাঃ) শর্ত দিয়েছিলেন যদি তাঁর সমস্ত ধন সম্পদ  ইসলামের জন্যে ব্যয় করেন- তবেই সম্বন্ধ হতে পারে। মা- খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ) তাই মেনে নিলেন। হযরত আবুবকর (রাঃ) ইসলামের জন্যে নিজের সব দিয়ে বলেছিলেন- আমার নিকট আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল ছাড়া কিছুই নেই। যতজন ছাহাবা ছিলেন সকলেরই অন্তরে ত্যাগের উজ্জল রবি উদিয়মান ছিলো। কবির ভাষায় বলছিÑ
    ত্যাগ করেছেন সবই শান্তির তরে,
    এ অশান্ত ভূবন ধরাধাম পরে।                                                                                        
    সেবার তরে করেছেন সব শেষ
    সাহাবিগণ করেছেন বরণ অশেষ কেশ,
    তারি ফলে  আজ মুসলিম সমাজ,
    ছড়িয়েছে বিশ্বে ইসলামী রাজ।
    ত্যাগ করেছেন বিশ্বনবী,
    তিনি যে আঁধারে আলোর রবি।
তাই ইসলামে ন্যায়ের দ্বার উম্মুক্ত হয় এবং অন্যায় অত্যাচারের দ্বার চির তরে রুদ্ধ হয়। এখন অন্যায়ের  বিচার হয়। তখন সবাই ছিলো মুক্ত, যা ইচ্ছে তাই করতো। এ জন্য ঐ সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হতো।

পাল উল্টো কেন ?

সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণ ইসলামের ধারক ও বাহক। উনাদের প থেকে যে কোন আদেশ উপদেশ আসুক তা ক্বোরআন এবং হাদীস শরীফের আলোকেই আসে। সুন্দর পরিবেশ, সুন্দর আদর্র্শ সমাজ এবং মানবতার সেবার কথা ক্বোরআন এবং হাদীসের আলোকেই তারা পরিবেশন করে থাকেন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে উনাদের অধিকাংশই প্রচার করেন ঠিকই, কিন্তু নিজেরা তৎকর্তৃক প্রভাবিত হচ্ছেন না। নবীপাক (সাঃ) এর উদ্ধৃত বাণী মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাটি সম্পর্কে উনারা ভালো জানেন। উক্ত আদর্শটি অনুসরণে এবং অনুকরণে তারা নিজেরা কতটুকু আন্তরিক সে দিকে একটু দৃষ্টি নিবদ্ধ করা প্রয়োজন নয় কি? তা না হলে সামাজিক কর্মকান্ডের স্থবিরতা থেকেই যাবে। তরী সামনের দিকে এগোবে না। নবী পাক (সাঃ) এর প্রদত্ত বাণী এবং আম্বিয়া গণকে স্মরণে রেখে সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততা রা করা উচিত নয় কি ? তা না হলে উলামায়ে কিরামগণই নবী-প্রতিনিধি এ পবিত্র বাণীটির স্বার্থকতা কোথায় ? ধর্মের দায়িত্ব উনাদের ওপরই আর্পিত হয়েছে। উনারাই নবীপাক (সাঃ) এর পদাঙ্ক অনুসরণকারী। নবী পাকের ন্যায় আচরণে দৃৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে এবং উনাদের আচরণে থাকতে হবে নম্রতা এবং ভদ্রতা। ঈমান থাকবে বজ্রের মতো কঠোর। উলামায়ে কিরামগণই হবেন পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পদাঙ্ক অনুসারী। পাল্লার মাপ কাঁটার ন্যায় বরাবর স্থানে অবস্থান করবেন। এক চুলও পদস্খলিত হবেন না। সর্ব শক্তিমান আল্লাহর সৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর হাবীবের অর্থাৎ নবীপাক (সাঃ) এর পূর্ণ অনুসারি হতে হবে। তবেই আমাদের সাধারণের পে আপনাদের অনুসরণ সঠিক হবে। দলপতি যে দিকে ধাবিত হয়, পূর্ণ দলটা সেদিকে ধাবিত হতে থাকে। দলের মধ্যে বিশৃৃঙ্খলা বা যে কোন সমস্যার উদ্ভব হলে তা সমাধানের ল্েয বিশেষ বিশেষ লোক নিয়োগ থাকে। তারা সকলে এক সাথে বসে সমাধান দিয়ে থাকেন। নীতি নিয়মের মধ্যেই সৈনিকেরা চলে, তাই তারা দেশ রায় সম হয়। তেমনি যদি মুসলিম দুনিয়া উলামায়ে কিরামগণের মধ্য থেকে বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ক্বোরআন এবং হাদীসের ওপর বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ইসলামী সংগঠনের মাধ্যমে আদেশ উপদেশ পরামর্শের দ্বারা , ইসলামী দুনিয়া পরিচালনা করেন তবেই অগ্রগতি আশা করা যায়। বর্তমানে উলামায়ে কেরামগণ সেবা করছেন স্বাধীন ভাবে মনের ইচ্ছানুযায়ী কারো ধার ধারছেন না। যা ইচ্ছা করে যাচ্ছেন লিখে যাচ্ছেন এবং বলে যাচ্ছেন। এতে মুসলিম জনমনে বিভ্র্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং ইসলামের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। কবির ভাষায়  ঃ

তাই, হৈ-চৈ আজ চারি দিকে,
তাই তরী যায় পিছের দিকে।

সাহাবয়ে কিরামগণের মধ্যে একতা ছিলো এবং তাঁরা নবী পাক (সাঃ) এর পূর্ণ পদাঙ্কানুসারি ছিলেন বলেই বিশাল সাম্রাজ্যের ওপর প্রভুত্ব করতে পেরেছিলেন। আজকের দিনে নায়েবে রাসূল দাবীদার সংখ্যায় অনেক  বেশী হলেও সমাজের সেবক হতে পারছেন না এবং মানুষের মনও জয় করতে পারছেন না। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ থেকে বঞ্চিত। উলামায়ে কিরামগণ এ বিষয় জানেন ভালো কিন্তু কর্ম থেকে বিরত থাকছেন। বিরাট এক দায়িত্ব থেকে দূরে অবস্থান করে উদাসীনতায় জীবনাতিপাত করছেন।  কবির ভাষায় বলছি Ñ
তাই মাঝি মাল্লাহীন তরী,
এলো মেলো পথে যাচ্ছে সরি।
আমীরুল মুমিনীন হজরত ওমর ফারুক (রাঃ) এক রাতে মরু বসতির অবস্থা পর্যবেনের জন্য বেরিয়ে পড়লেন। চলতে চলতে একটু দূরে দেখতে পেলেন ছোট একটি কুড়ে ঘরে বাতি জ্বলছে। বাচ্চাদের কান্না ধ্বনির মতো শব্দ শুনতে পেলেন। তাই তাঁর দেখতে ইচ্ছে হলো, সেখানে গিয়ে দেখলেন, কয়েকটা বাচ্চা গড়িয়ে গড়িয়ে কাঁদছে খানা দাও-খানা দাও বলে। মা চুলার উপর পানির হাড়ি চড়িয়ে জ্বাল দিচ্ছে, আর বলছে আব্বুরা তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো খানা হলে আমি ডাকবো। বিনা খানায় নিদ্রা আসেনা । তাই কান্নাও থামছেনা। হজরত ওমর ফারুক (রাঃ) এ দৃশ্য দেখে দ্রুত রাষ্ট্রিয় কোষাগার থেকে এক বস্তা আটা নিজের পিটে করে নিয়ে বুড়ির ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে জিজ্ঞাসা করলেন, বাচ্চারা কেন কাঁদছে ? তখন বাচ্চাদের কান্না সম্পর্কে মা বললেনÑ দুদিন ধরে ওদের কিছু খেতে দিতে পারি না, আজও কোথাও কিছু পাইনি। আমীরুল মুমিনীন আটা দিয়ে বললেন, সরকার কি তোমাদের খবর রাখেন না ? তখন মহিলা বল্লো আমরা মরুভুমিতে থাকি, আমাদের খবর নেবে কে ? হজরত ওমর ফারুক (রাঃ) বললেন, তুমি আগামীদিন আমীরুল মুমিনীনের দরবারে  গিয়ে উপস্থিত হবে। হজরত ওমর ফারুক (রাঃ) যেতে যেতে মনে মনে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্ তুমি আমাকে মা করো। আমি আমীর থাকা অবস্থায় এবুড়ি বাচ্চা নিয়ে কষ্ট করছে। হে আল্লাহ্ তুমি মাপ না করলে , আমি মাপ পাবো না। তুমি দয়া করে আমাকে মার দৃষ্টিতে দেখ। দরবারে গিয়ে আন্দর মহলে সেজদায় পড়েও কান্নাকাটি করে, বললেন হে আল্লাহ তুমি আমাকে মা করো- মা চেয়ে চেয়ে রাত কাটালেন। পরদিন মহিলা  এসে, গত রাতের সে খাদেম তার অপোয় দাঁড়িয়ে আছে দেখে, মহিলা সালাম দিয়ে বললো খাদেম সাহেব আমাদের আমীরুল মুমিনীন কোথায় ? একটু যদি দেখতে পেতাম, হজরত ওমর ফারুক (রাঃ) বললেন দেখতে পাবেন- আপনি আপনার আটা - চাউল বুঝে নিন। মাস কয়েকের খাবার ব্যবস্থা হয়ে গেলো। বললেনÑ এগুলো শেষ হলে আবার এসে নিয়ে যাবেন। বুড়ি অবাক হয়ে গেলো মনে মনে ভাবলো এমন মহান মানুষতো আর দেখিনি। এ সেবক সাব এত ভালো মানুষ। আল্লাহ্ তাঁর ভালো করুক। আচ্ছা, সেবক সাব বলেছিলেন আমীরুল মুমিনীনের সাথে দেখা করাবেন। আমীরুল মুমিনীন হজরত ওমর ফারুক (রাঃ) বললেন -মা, আমীরুল  মুমিনীন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমিই সে আমিরুল মুমিনীন।  লজ্জায় মাথা নত হয়ে গেলো এবং বলতে লাগলো হে আমীরুল মুমিনীন, আমাকে মা করুন। আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। আমীরুল মুমিনীন বললেন , না মা আপনি আমাকে মা না করলে আল্লাহ্ আমাকে মা করবেন না। কারণ আল্লাহ যখন বলবে হে ওমর, তোমার শাসন আমলে আমার এক বান্দী না খেয়ে সন্তান সন্ততি নিয়ে কষ্ট করছিলো কেন ? তখন আমার উত্তর কি হবে ? আমার অবহেলার কারণে  আপনি কষ্ট পেয়েছেন, আরো আগে  কেন আপনার খবর নিলাম না ? আপনি মা না করলে আমার মা হবে না। তখন মহিলাটি বললো- ইয়া আমীরুল মুমিনীন, এখন  থেকে আল্লাহ্  আপনাকেও কিছু বলবেন না। আমিও বলবো না আপনি খবর নেননি । আপনার মা আপনি পেয়েছেন, আমার প থেকে এবং  মহান আল্লাহর থেকে। কারণ আল্লাহ বলেছেন যার দোষ করবে- সে মাফ করলে আল্লাহও তাকে মা করে দেন। এমনি অসংখ্য দৃৃষ্টান্ত সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে বিদ্যমান। এমনি ভাবেই সুন্দর ব্যবহার দিয়ে মানুষের মন জয়ের মাধ্যমে সুদূর ইউরোপ, আফ্রিকা পর্যন্ত বিশাল সম্রাজ্যে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন হযরত ওমর ফারুক। ধর্ম বর্ণের কোন প্রশ্ন ছিলোনা, মহান করুনাময় আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করেছিলেন তাঁরা। এমনি গুণসম্পন্ন মুমীন মুসলিম উলামায়ে কেরামগণের মাধ্যমে ইসলামী দুনিয়ার সমস্যার সমাধান দেয়া মোটেই অসম্ভব নয়। মুসলমানগণ আল্লাহর অসীম রহমতে বিশ্ব শাসনের মতা রাখেন। ইসলামী জাতি সংঘ না থাকার কারণে বহুরূপি মুসলিম এবং বহুরূপি আলেমগণ বিভ্রান্তিকর কার্যকলাপের মাধ্যমে ইসলামী দুনিয়াকে এক অপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইসলামী মহা শক্তিকে দুর্বল করে ফেলেছে। শয়তান এ সুযোগে তার উদ্দেশ্য সিদ্ধি করেছে। ইসলামের ধারক-বাহক, কান্ডারী হলেন ওলামায়ে কেরামগণ সুতরাং উনাদের ঐক্যের এবং উদাসীনতার কারণে ইসলাম তরী আজ পেছনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তরীটি ল্েয পৌঁছাতে পারছে না।

আদর্শ ব্যক্তি

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন মানব কুলে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্র্শের অধিকারী। আদর্শ সমাজ গড়ার ল্েয ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। সমাজের ছোট বড় বালক বৃদ্ধ সকলের প্রতি সুন্দর ব্যবহার করতেন। বাচ্চাদের আনন্দ উৎসবে বাধা দিতেন না। একদা ঈদের নামাজ পড়ে যখন নবী পাক (সাঃ) খাসমহলে প্রবেশ করতে ছিলেন , তখন পার্শ্বে ছেলে-মেয়েরা ঈদের আনন্দে নাচ এবং গানের মাধ্যমে আনন্দোৎসব করতে ছিলো। তখন জনৈক সাহাবী বাচ্চাদেরকে নাচ-গান,খেলা-ধুলা, করতে বারণ করলে নবী পাক (সাঃ) মনে কষ্ট পান। তিনি বললেন বাচ্চাদের খেলা-ধুলা নাচ এবং গানইতো ঈদ বা উৎসব। তিনি লেখা পড়ার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। সমাজে কোন প্রকার সমস্যা দেখা দিলে সমষ্টিগত ভাবে তা সমাধানের ব্যবস্থা করতেন। সাধারণতঃ উনার আগে-ছোট-বড় কেউই সালাম প্রদান করতে পারতোনা। ছেলেরা নবীপাক (সাঃ) এর চলার পথে আড়ালে প্রথম সালাম দেয়ার ল্েয দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু নবীপাক (সাঃ) এতো সর্তক ছিলেন যে, আড়ালে থেকেও সালাম প্রথম দিতে পারতো না কেউ। কারণ নবীপাক (সাঃ) বলেছিলেন, যে প্রথম সালাম দেবে সেই বড় এবং সালামের র্বক্বত লাভের কথাও বলেছিলেন। তাই সালাম দেয়াটা প্রতিযোগিতার মতো হয়ে ওঠে। নবীপাক (সাঃ) কখনও কারো সাথে মন্দ ব্যবহার করেননি। কোন এক সময় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোন এক লোক থেকে টাকা ধার নেয়া হয়েছিলো।ধার প্রদানকারী নির্দিষ্ট সময়ের আগের দিন এসে একটু রাগান্বিত ভাবে বললো আমি আমার টাকার জন্য এসেছি টাকা দিন। নবীপাক (সাঃ) বললেন টাকা দেয়ার তারিখতো আগামী দিন, আজ কেন এলে ? এখন যাও, আগামীদিন এসো। লোকটি চলে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হজরত ওমর ফারুক্ব (রাঃ) বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্, এ লোকটি বড় বে-আদব তাকে একটু শিা দিয়ে দেব কি? নবীপাক (সাঃ) বললেন না-না, সে পাবে বলেই এসেছে, পাবে বলেইতো বলেছে। শান্তভাবে বলুক আর অশান্ত ভাবে বলুক, বলার তার অধিকার আছে। নবীপাক (সাঃ) কখনও অন্যায় ভাবে কারো ওপর রাগ করেননি। সব সময় শান্ত মেজাজের ছিলেন। মক্কা বিজয় হলেও, মক্কাবাসির ওপর প্রতিশোধ নেননি যারা অত্যাচার করেছিলো নামাজ পড়াবস্থায় উটের পাকস্থলী গলে ঝুলিয়ে টেনে ছিল, বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছিলো। আবু ছুফিয়ানের বিবি,হানজালা, তখনও ইসলামে দীতি হননি। এমতাবস্থায়, নবীপাক (সাঃ) এর চাচা হামজা (রাঃ) এর, কলিজা চিবিয়ে খেয়েছিলো। যাদের অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়ে আল্লাহর হুকুমে মক্কা ত্যাগ বা হিজরত করতে হয়েছিলো। তারা সবই ভেবে ছিলো যে, আমাদের আর রে নেই। কিন্তু না, নবীপাক (সাঃ) তা করেননি। কারণ তিনিই পৃথিবীর, অর্থাৎ বিশ্ববাসির জন্য আল্লাহর রহমত, অর্থাৎ রাহ্ মাতুল্লিল আলামীন। তিনি প্রতিশোধ নিতে পারেন না। মক্কা বিজয়ের পর , নবীপাক (সাঃ) বললেন হে মক্কা বাসিগণ আপনারা মুক্ত; ভয়ের কোন কারণ নেই। নবী পাক (সাঃ) এর প থেকে ঘোষিত বাণীতে মক্কাবাসিগণ আনন্দে আত্মহারা। তখনই দলে-দলে এসে আনন্দে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো এবং অল্প সময়ের মধ্যে সারা আরব ভূমিতে ইসলাম ছড়িয়ে পড়লো। এটাই নবীপাক (সাঃ) এর আর্দশেরই ফল। তায়েফ বাসিদের বলা হয়েছিলো একক্ সৃষ্টি কর্তার অর্থাৎ আল্লাহর উপাসনা করতে কিন্তু তায়েফ বাসিরা তার বিনিময়ে নবীপাক (সাঃ) এর ওপর ইট-পাথর নিপে করে রক্তে শরীর ,জমিন লালে-লাল করে দিয়েছিলো। তখন আল্লাহর দূত জিব্রাইল (আঃ) এসে বললেন, আপনার আদেশক্রমে দু-দিকের পাহাড় এনে তায়েফ বাসিদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চাই। তখন নবীপাক (সাঃ) বললেন, না-না তা হয় না। তারা আমার সম্পর্কে বুঝতে পারেনি। তাদের মাটির সাথে লীন করে দিলে, আমি আমার দোস্তের দ্বীনের দাওয়াত কাকে দেবো ? আমি তাদেরকে মা করে দিলাম। এ বাণী বা উক্তি কার কাছ থেকে আশা করা যায় ? তাঁর নিকট থেকেই আশা করা যায়, যিনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের এবং আদর্শের অধিকারী। তাঁর জীবনে এমনই অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। সর্ব শ্রেষ্ঠ ধৈর্য্য - সহ্যের অধিকারী যিনি তিনিই নবীপাক (সাঃ)।তাঁর আদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছিলো সারা বিশ্ব এবং অতি অল্প সময়ে এক বিশাল আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র গঠনে সম হয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গি-সাথী অর্থাৎ সাহাবাগণও তাঁর আদর্শে আদর্শবান হয়ে ইসলামী বিশ্ব শাসন করে গিয়েছেন।আজ সেই নবীপাক (সাঃ) এর আদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তির অভাবই পরিলতি হচ্ছে। একে অন্যকে আনন্দ বা শান্তি দান করা, সালাম প্রদান করা ইবাদাত এবং সেবামূলক কর্ম ও বটে। নবীপাক (সাঃ) সর্ব প্রথম সালাম প্রদান করে এটাই বুঝিয়েছেন যে, তোমরা সর্ব প্রথম সালাম প্রদান করো। অর্থাৎ তার মঙ্গল কামনা করো। দেখবে অন্যরাও তোমার মঙ্গল কামনা এবং সম্মান প্রদর্শন করছে। এ সকল শিা থেকে আমরা বঞ্চিত কারণ আমাদের পরিচালকগণের মধ্যে এধরণের সুন্দর আদর্শগত ইবাদাত পরিলতি হচ্ছেনা। আমাদের সাধারণের মধ্যে যেমন পূর্ণ মাত্রায় রয়েছে লোভ-অহঙ্কার ,হিংসা -বিদ্বেষ -মোহ এবং কুপ্রবৃত্তি ইত্যাদি; তেমনি অর্থাৎ ইসলামের বাহক যাঁরা তাঁদের অধিকাংশের মধ্যেও তা বিরাজমান।

মুসলমান মন্দ কর্ম করতে পারে না কেন

কোন মুসলমান মন্দ কর্ম করতে পারেনা এ জন্যে যে, তারা দৈনিক পাঁচ বার ওজু করতঃ পবিত্রতা গ্রহণান্তে আল্লাহর সাাতে দাঁড়িয়ে যায় এবং নিয়মানুযায়ী রুকূ-সেজদায় তার প্রশংসা বর্ণনান্তে দু-হাত উত্তোলনের মাধ্যমে আবেদন করেন। আল্লাহ সে আবেদনানুযায়ী ফলাফলও প্রদান করে থাকেন।
বাণীগুলো হচ্ছে ঃ বিসমিল্লাহিল আলীইল আজীমি- ওয়াল্ হামদুলিল্লাহি আলা দ্বীনিল ইসলামি- আল ইসলামু হাক্কুনÑ ওয়াল কুফরু বাতিলুন, আল ইসলামু নূরুন, ওয়াল কুফরু জুলমাহ্।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শুরু এবং ইসলামের নীতি নিয়মানুযায়ী সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে। ইসলাম সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং পথভ্রষ্টদের পথ বাতিল। ইসলাম আলোকময়, ইসলাম একটি শান্তিময় আলোর নাম এবং ভ্রষ্টদের পথ অন্ধকারময়।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শুরু- এ বাক্যটি উচ্চারণের উদ্দেশ্য হলো আমার মালিক স্রষ্টা পরম পবিত্র। সুতরাং আমিও নির্ভুল পবিত্র হতে চাই। ইসলামের নীতি নিয়মানুযায়ী সকল প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য এবং আমি আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করবো। নীতি বহির্ভূত প্রশংসা আল্লাহ পছন্দ করেন না। বলা হয়েছে ঃ ফাওয়াই লুল্লিল মুসাল্লিন; অর্থাৎ সে সকল নামাজিদের দুর্ভোগ। অর্থাৎ নীতি বহির্ভুত নামাজ পড়লেও তাকে সাজা ভোগ করতে হবে আমি আলোকিত হবো এবং আলোতে মিশে যাবো। এবং কুফরুনÑ অন্ধকারাচ্ছন্ন ভ্রষ্টদের পথ সম্পূর্ণভাবে চিরতরে পরিহার করবো। মহান দরবারে হাজির হয়ে দৈনিক পাঁচ বার উক্ত বাণীগুলো উচ্চারণের মাধ্যমে পবিত্রতা গ্রহণ করা হয়। যে দৈনিক পাঁচবার মালিকের সামনে উক্ত বাক্যগুলো উচ্চারণ করবে, তার পে পাপ করা কি সম্ভব? হ্যাঁ ভুল হতে পারে, কারণ আজাজিল শয়তানতো ভুল করানোর জন্যেই  পেছনে লেগে আছে। তাই “আউজু বিল্লাহিমি নাশশাইতা নিররাযীম” উচ্চারণের মাধ্যমে শয়তান হতে মহান আল্লাহর আশ্রয় কামনা করতে হয়। করুণাময় আল্লাহ মাকারী এবং রাকারী। সুতরাং একজন মুসলমানের পাপ করার সুযোগ কম।
একজন মুসলমান যখন ক্বোরআন শরীফ পাঠ করতে বসে প্রথমে সে “আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতা নিররাযীম” পাঠ করে। উক্ত বাক্যটি পাঠ করার উদ্দেশ্য হলো শয়তানের শয়তানী কর্মকাণ্ড থেকে মহান আল্লাহর আশ্রয় কামনা করা। যেন সে শয়তানের প্রভাব মুক্ত থাকে, শয়তান কর্তৃক প্রভাবিত না হয়। উক্ত বাক্য, কায়মনো বাক্যে আবৃত্তির দ্বারা যদি একজন লোক শয়তানের অশুভ কর্মকাণ্ডের প্রভাবমুক্ত হয়, সে ব্যক্তিটি সমাজের মধ্যে একটা অলঙ্কার হয়ে উঠে। সে সমাজের মধ্যে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সুতরাং তার অনুকরণে গোটা সমাজই আলোকিত হতে পারে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের প্রভাবে সমাজকে প্রভাবিত করতে হলে সংগঠনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে হবে। এক একজন করে যদি সমাজে আলোকিত হয়ে ওঠে তবে গোটা সমাজই আলোকিত হয়ে যাবে। তখন মন্দ কাজ করার লোক আর থাকবে না। তখন সমাজটাই স্বর্গীয় সুখানুভব করবে। একটা মুমীন মুসলমান যেখানে থাকে সেখানে মন্দ থাকতে পারে না। সে তার সুন্দর ব্যবহার দিয়ে সমাজকে জয় করতে পারে। একজন মুসলমানের দেহ মন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত তাই তার দ্বারা মন্দ কর্ম হতে পারে না। নবীপাক (সাঃ) এর একটি ঘটনার কথা মনে পড়লো। একদা এক ব্যক্তি নবীপাক (সাঃ) এর নিকট এসে বললো “ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমি আমার চুরির অভ্যাস পরিহার করতে পারছি না। কি করলে তা পরিহার করা যাবে?” নবী পাক (সাঃ) বললেন, “তুমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে”। তখন লোকটি বললোÑ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ) আমি সব করতে পারবো কিন্তু চুরি বন্ধ করতে পারবো না। নবী পাক (সাঃ) বললেন, ঠিক আছে তুমি দৈনিক একবার আমার সাথে দেখা করবে এবং সত্য কথা বলবে। লোকটি সে দিন চলে গেলো কিন্তু সে নবী পাক (সাঃ) এর সাথে নিয়মিত এসে দেখা করে যেতো। একদা চুরির নেশা হলে লোকটি চুরি করতে যায়। তখন নবী পাক (সাঃ) এর কথা মনে পড়লে ভাবলো যে আগামী দিন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর নিকট যখন দেখা করতে যাবো তখন কিভাবে বলবো যে ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি চুরি করেছি। এমন সত্য কথা সে বলতে পারবে না। তখন তার  বিবেক বাধা দিলো। সে ভেবে চিন্তে স্থির করলো সে চুরি করেছে এ সত্য  কথা বলতে পারবে না। মিথ্যেও বলা সম্ভব হবে না। অবশেষে সে চুরি কর্ম ছেড়ে দিলো। মুমীন মুসলমানগণ মহান আল্লাহর দরবারে দৈনিক পাঁচবার প্রতিজ্ঞা করে সত্য রা করবে, মিথ্যে পরিহার করবে। সুতরাং তাদের দ্বারা মন্দ কর্ম করা মোটেই সম্ভব নয়। তারা ধর্মের উপদেশগুলোতে প্রভাবিত হয়ে পবিত্র হয়ে যায়। বর্তমানে প্রকৃত মুমীনগণ যেন ঘুমোচ্ছে। তাই ইসলামী তরীর, পাল- বৈঠা উল্টো বলে পরিলতি হচ্ছে।

শিশু নবীর সেবাকর্ম

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। কোন ব্যক্তির নামানুসারে এ ধর্মের নামকরণ করা হয়নি। যেমন ঈসা (আঃ) এর নামানুসারে ইসায়ী ধর্ম বলা হয় এবং বুদ্ধের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে বৌদ্ধের ধর্ম বা বৌদ্ধ ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নাম শান্তি, কর্মও শান্তির। এ ধর্মানুসারিগণ অন্যায়- অত্যাচার অনধিকার চর্চা কখনও পছন্দ করে না। এ ধর্মের মহাগ্রন্থের নাম হচ্ছে ‘আল কোরআন”। এ মহাগ্রন্থটি শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। স্রষ্টার সৃষ্টকূলের ল্েয এ গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে। সৃষ্টির সেবা হচ্ছে এ ধর্মের বিশেষ উপাসনা অর্থাৎ ইবাদাতগুলোর মধ্যে একটি। সৃষ্টির সেবাই এ ধর্মের মূল ল্য। বিশ্ব মানবকূল যখন মানবীয় দায়িত্ববোধ হারিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, তখনই গোম্রাহদেরকে আলোর পথ প্রদর্শনের জন্যেই মহামানবদের আগমন ঘটেছে এ বিশ্বে। তেমনি গভীর অন্ধকার যুগে, মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ আহমাদ (সাঃ) পৃথিবীতে আগমন করেন।
নবীপাক (সাঃ) এর প্রথম সেবা কর্ম প্রকাশ পায় যখন মাতা হালীমা (রাঃ)’র দুগ্ধ পানে রত হন।  মাতা হালীমা (রাঃ) কয়েক বার ল্য করেছেন যে, নবী পাক (সাঃ) বাম পার্শ্বের দুগ্ধ পান করেন না। মাতা হালীমা (রাঃ) একাধিকবার চেষ্টা করেও বিফল হলেন। যত দিন দুধ পান করানোর নিয়ম ছিলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটি বারের জন্যও  নবীপাক (সাঃ) বাম পার্শ্বের দুগ্ধ স্পর্শ করেননি। মা হালীমা (রাঃ) চিন্তার পর বুঝতে পারলেন, মুহাম্মদ (সাঃ) বাম পার্শ্বে দুগ্ধ কেন পান করেননি। মা হালীমা (রাঃ)’র স্বীয় গর্ভজাত একটি সন্তান ছিলো। শিশু নবীপাক (সাঃ) উক্ত দুধভাইটির জন্য বাম পার্শ্বের স্তনটি রেখে দিতেন। এটি মানব সেবার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। দুগ্ধপোষ্য শিশু নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মর্ত্যে পদার্পণ লগ্ন থেকেই মানব সেবার নজির স্থাপন করলেন। আমি খাবো- তুমি খাবে না, তা হবে না- তা হবে না। আমরা কি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করি? তাঁর পদাঙ্ক থেকে অনেক দূর, দূর থেকে দূরান্তরে, রেখেছি নিজেকে সরিয়ে। পথহারা, মোরা পথিক বর। হয়ে দিশেহারা, চলছি মরুর চর।